দুনিয়ার আর সব মানুষ যেখানে দিব্যি খেয়েদেয়ে মোটা হচ্ছেন সেখানে পুলিশরা মোটা হলেই কী দোষ! তাছাড়া উচ্চতায় একটু খাটো হওয়া, মেজাজ হারিয়ে বাজে ব্যবহার করা কিংবা দূর্নীতির মতো বিষয়েও তো আর পুলিশ একা দায়ী নয়। বরং এমনতর গড়ন কিংবা স্বভাবের লোক কমবেশি অনেক পেশাতেই দেখা যায়। কিন্তু বিশ্বের অন্য অনেক দেশের মতো ভিয়েতনামেও এ ধরনের গড়ন আর স্বভাব নিয়ে সবচেয়ে বেশি কটাক্ষ শুনতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে ভিয়েতনামের বহু মানুষের মধ্যেই এই ধারণা বদ্ধমূল হয়ে আছে যে এখানে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাফিক পুলিশ মানেই খাটো আর ভুড়িওয়ালা একটা লোক যে কিনা চালকদের সাথে বাজে ব্যবহার করা আর কারণে অকারণে ঘুষ আদায়েই সিদ্ধহস্ত। আর মানুষের এই বিশ্বাসকে পাল্টে দিতেই এবার অভিনব এক উদ্যোগ নিয়ে মাঠে নেমেছে ভিয়েতনামের সড়ক প্রশাসন। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে দেশটির রাজধানী হ্যানয় থেকে তুলে নেওয়া হবে সকল খাটো আর মোটা ট্রাফিক সার্জনদের। প্রাথমিক অবস্থায় এরা যুক্ত থাকবেন দাপ্তরিক নানা কাজে। এ ছাড়া একই সময়ে সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে থাকা এই কর্মকর্তাদেরকে নিতে হবে শরীরচর্চার ট্রেনিংও। এভাবে শারীরিক ফিটনেসের পাশাপাশি উদ্যোগ রয়েছে মানসিক উত্কর্ষ সাধনেরও যেখানে ট্রাফিক বিভাগের সকলকেই দেওয়া হবে দায়িত্ব পালনকালে সঠিক ব্যবহারের ট্রেনিং। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, যে দূর্নীতির অভিযোগে ট্রাফিক বিভাগকে নিয়ে মানুষের এতো নেতিবাচক ধারণা সেই দূর্নীতি প্রতিরোধে ট্রাফিকদের কার্যক্রমের উপর নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে ভিয়েতনামের সড়ক প্রশাসন বিভাগ।
