মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখছেন রুনি

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৩, ২০:০২
এমন একটা সময় ছিল যখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং লিওনেল মেসির সমতুল্যই ভাবা হতো তাকে। ইংলিশ ফুটবলের ভবিষ্যত্ বলেও তাকে মেনে নিয়েছিলেন প্রায় সবাই। নিজের ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেও ছিলেন ‘অটোমেটিক চয়েস’। মাত্র বছর তিনেকের ব্যবধানে সেই ওয়েইন রুনিকেই সতীর্থদের খেলা দেখতে হচ্ছে সাইড বেঞ্চে বসে! মুদ্রার উল্টো পিঠ হয়তো একেই বলে। রুনির আলোক ছটায় ইউনাইটেডে ম্লান হয়ে যেতে হয়েছিল রোনালদোকেও। সমর্থকদের উচ্ছ্বাস আর মিডিয়ার হৈচৈ, সব কিছু মিলিয়ে নিজেকে হয়তো একটু বেশিই ‘দামি’ ভাবতে শুরু করেছিলেন ওয়েইন রুনি। আকারে ইঙ্গিতে বেশ কয়েকবারই বলার চেষ্টা করেন তার আকাঙ্ক্ষার সাথে ম্যান ইউর পরিকল্পনা মিলছে না। নিজেকে আরো বড় কোন ক্লাবে দেখতে চান তিনি। তাই পিছপা হননি চুক্তি নিয়ে কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসনের সঙ্গে তর্ক যুদ্ধে জড়াতেও। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ২০১০ সালে ম্যান ইউর সঙ্গে আকর্ষণীয় এক চুক্তিই করেন তিনি। তিন বছর পরে তার কথার উল্টোটাই এখন সত্য বলে মনে হচ্ছে! সমালোচকরা বলতে বাধ্য হচ্ছেন, রুনিই আর তাল মেলাতে পারছেন না ইউনাইটেডের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে। রুনিকে টপকে এ মৌসুমের শুরু থেকেই ক্লাবের এক নাম্বার স্ট্রাইকারের আসনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন রবিন ফন পার্সি। উঠে আসছেন কাগাওয়া, ড্যানি ওয়েলব্যাকরাও। এরই ধারাবাহিকতায় রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে রেড ডেভিলদের সর্বশেষ ম্যাচে মূল একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত নেন ফার্গি। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য মাঠে নামেন রুনি। তবে দলের ভাগ্য পরিবর্তনে কোন ভূমিকা রাখতে পারেননি। ম্যাচে ২-১ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় নিয়েছে ম্যান ইউ। এ অবস্থায় ম্যান ইউতে রুনির ক্যারিয়ারের শেষ দেখছেন অনেকেই। অন্তত ক্লাবের অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে এই ধারণার সপক্ষে যুক্তিও পাওয়া যাবে প্রচুর। দশ বছর আগে রিয়ালের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগেরই এক বড় ম্যাচে স্যার অ্যালেক্স বসিয়ে রেখেছিলেন ডেভিড বেকহ্যামকে। ঐ মৌসুম শেষেই রিয়ালের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয় তাকে। একই কথা প্রযোজ্য রুদ ফন নিস্টলরয়ের ব্যাপারেও। লিগ কাপের ফাইনালে তাকে দর্শক বানিয়ে রাখা হয়। এরপরে মৌসুম শেষেই এই ডাচ স্ট্রাইকারকে বিদায় জানান ফার্গি। ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড হেরে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত রুনির ব্যাপারটা নিয়ে হয়তো ততটা আলোচনা হয়নি। তবে রুনির মূল একাদশে না থাকার ব্যাপারে পরে ঠিকই কথা বলতে হয়েছে ফার্গুসনকে। যদিও ফার্গি বলেছেন ইনজুরির কারণেই মূল একাদশে রাখা হয়নি তাকে। তিনি বলেন, ‘ওয়েইন রুনির পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার জন্য আরও দুই একটি ম্যাচ দরকার।’ ফার্গুসন আরো বলেন, ঐ ম্যাচে ড্যানি ওয়েলব্যাককে খেলানো হয়েছিল টেকনিক্যাল কারণেই। আক্রমণভাগে ভূমিকা পালনের পাশাপাশি তার অন্যতম কাজ ছিল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড পজিশনে জাভি আলোনসোর আক্রমণ রচনায় বাধা দেয়া। ফার্গির দাবি সে ভূমিকা ঠিক ভাবেই পালন করেছেন ওয়েলব্যাক। তবে রুনিকে আগামী মৌসুমে বিক্রি করে দেয়ার গুজব উড়িয়ে দিয়েছেন ফার্গি। তিনি জোড় দিয়েই বলেন, রুনি দল ছাড়ছেন না। তিনি বলেন, ‘আগামী মৌসুমে সে এখানেই থাকছে। আপনারা (সাংবাদিক) আমার কথা লিখে রাখতে পারেন। সে যব বিষয়ে লিখে আপনারা কাগজ ভরাচ্ছেন, সেগুলো একেবারেই ভিত্তিহীন। সে (রুনি) নিজেও জানে ঐ ম্যাচে সে কেন খেলেনি এবং এই ব্যাপারটা ছিল একেবারেই টেকনিক্যাল একটা কারণ। আমি মনে করি আমি ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি। আমরা সবসময় সঠিক কাজটা করতে পারি না তবে আমার মনে হয় ঐ ম্যাচে আমি সঠিক কাজটাই করেছি।’ তবে চেলসির বিপক্ষে আগামী রবিবার এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে রুনি শুরু থেকেই মাঠে থাকছেন কিনা সে বিষয়ে পরিষ্কার করে মুখ খোলেননি ফার্গি। এ ব্যাপারটা যেন ইচ্ছে করেই কিছুটা রহস্যাবৃত করে রাখতে চাইলেন তিনি। স্যার অ্যালেক্স বলেন, ‘ম্যাচের আগেই স্কোয়াড সম্পর্কে জানিয়ে আমি কেন তাদের (চেলসি) সুবিধা করে দিতে যাব। আমি এমনটা কখনোই করি না। তবে ওয়েইনকে (রুনি) আরও ম্যাচ খেলতে হবে পুরোপুরি প্রস্তুত হবার জন্য। তার ধরনটাই আসলে এমন। এটাই আসলে মূল কারণ।’ তবে ফার্গি যাই বলেন না কেন, তার কথায় হয়তো আশ্বস্ত হবেন না সমালোচকরা। বোঝাই যাচ্ছে এ মৌসুমের বাকি সময়টা জুড়ে রুনির পিছনেই নিবদ্ধ থাকবে দৃষ্টি।