দায়িত্ব উপভোগ করছেন সোহাগ

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৩, ২১:২৭
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেছেন মাস চারেক হল। মাত্র ২ টেস্টের অভিজ্ঞতা ঝুলিতে। বয়সও এখনো ২২ স্পর্শ করেনি। এ রকম তরুণ একজন বোলারকে সাধারণত খুব একটা দায়িত্ব টেস্ট ক্রিকেটে অন্তত নিতে হয় না। কিন্তু সোহাগ গাজীর ভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্য—ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টেই এই অফস্পিনার হয়ে উঠেছেন দলের এক নম্বর বোলার। তাকেই সামলাতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলের পুরো চাপ। সে চাপ সামলে অন্তত নিজের জায়গায় মোটামুটি সফল সোহাগ। প্রথম দিনে শ্রীলঙ্কার যে তিনটি উইকেট পড়ল; সে তিনটিই তার একার শিকার। মাশরাফি বিন মুর্তজা না থাকায় বাংলাদেশে পেস বোলিং অনেক দিন ধরেই ‘স্ট্রাইক বোলার’ বলতে যা বোঝায়; তার কিছু নেই। শাহাদাত হোসেন, আবুল হোসেন বা অনুপস্থিত রুবেল হোসেন এই জায়গাটা একদমই নিতে পারেননি। কালও পারলেন না। ভরসা হয়ে ছিলেন সাকিব আল হাসান। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি দলের সেরা বোলারও তিনি। শুধু উইকেটই তুলে নেয়া নয়; রান চেপে ধরাতেও তিনি এক নম্বর। কিন্তু অনেকদিন পর সেই সাকিবকেও টেস্টে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। আবার ঘরোয়া ক্রিকেটের দারুণ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও দারুণ টেস্ট অভিষেক হওয়া ইলিয়াস সানিও কাল গল টেস্টে রইলেন নিষ্প্রভ। ফলে সোহাগ গাজীকেও এক ও অদ্বিতীয় হয়ে সারাদিন ৩১ ওভার বল করে যেতে হল। এই যে চাপ এটাকে একদিক থেকে ইতিবাচক একটা প্রাপ্তি হিসেবেই দেখছেন সোহাগ। কোনো সমর্থন পাচ্ছেন না, টানা বল করে যেতে হচ্ছে; এ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। বরং বলছেন, এটা তিনি উপভোগই করছেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে এ রকম টানা বল করে যাওয়ার অভ্যাস আমার আছে। অধিনায়ক চাইলে আরো বেশি বলও করতে পারি। এটাকে আমি চাপ হিসেবে দেখি না। কেউ যদি ভাবে যে, আমিই প্রধান বোলার হয়ে গেছি; তাতে তো আমার আরো ভালো লাগার কথা। আমার ওপর যে অধিনায়ক ভরসা করতে পারছেন, এটাই বড় পাওয়া।’ বয়স, অভিজ্ঞতার চেয়ে দেখা যাচ্ছে সোহাগের কথাবার্তা অনেক বেশি পরিণত। এই পরিণতি বোধের জায়গাটা আরো একটু পরিষ্কার করে দিলেন তিনি সংবাদ সম্মেলনে। বলছেন, ‘জাতীয় দলে খেলছি দেশের জন্য। দেশের জন্য যদি বেশি কষ্ট করতে হয়, বেশি বেশি বল করা লাগে; সেটা করতেই হবে। এটা বরং উপভোগ করতে হবে।’ এই পরিণত মস্তিষ্কের সোহাগ শুধু নিজের কাজটাকে এভাবে সরল করে ব্যাখ্যা করলেন তাই নয়; সতীর্থদেরও দারুণভাবে পার করে নিয়ে গেলেন। তিনি পারছেন, বাকি কোনো বোলার কেন পারছে না? এই প্রশ্ন উঠল বারবার। সোহাগ বরং উইকেটের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, সবাই চেষ্টা করেছে, ‘এই উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য অসাধারণ। এখানে উইকেট পাওয়া খুবই কঠিন আর ভাগ্যের ব্যাপার। বাকিরাও দারুণ বল করছে; চেষ্টা করছে।’ তবে চেষ্টা চরিত্র যাই করুন; ম্যাচ বেশ খানিকটা হাত থেকে ফসকে গেছে বলেই মনে হচ্ছে। অন্তত শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। কিন্তু সোহাগ আশাবাদী মানুষ, ‘আজ হয়তো আমরা খুব ভালো করতে পারিনি। কাল (আজ) নতুন দিন। আশাকরি আমরা নতুন করে শুরু করতে পারব।’