শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় কর্মী ও প্রকৌশলী সানিউর রহমান ওরফে সানির ওপর হামলাকারীদের গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে পল্লবী থানার পূরবী সিনেমা হল সংলগ্ন গলিতে দুই দুষ্কৃতকারী তাকে কুপিয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় সানিকে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে তিনি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে যান। সানির ওপর হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত ও হামলার কারণ উদঘাটনের জন্য থানা পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম অনুসন্ধান শুরু করেছেন। র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে- এটি কোন মৌলবাদী বা জঙ্গি গোষ্ঠীর অপতত্পরতার অংশ।
সানি বলেন, আগে থেকেই তাকে অনুসরণ করছিল দুই যুবক। ফার্মগেইট থেকে বাসে ওঠার পর পাঞ্জাবী পরা ওই দুই যুবককে সন্দেহজনক মনে হয়েছিল তার। পূরবী সিনেমা হলের সামনে বাস থেকে নামার পর ওই যুবকরাও নেমে পড়ে। গলিতে ঢোকার পরপরই পেছন দিক থেকে একজন বলে ওঠে, ‘এখনই মার’? এরপরই একজন মাথায় কোপ মারে। দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে দু’পায়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। দ্রুত লোকজন চলে আসায় হামলাকারীরা অন্ধকারে মিলিয়ে যায়।
সানি বলেন, তিনি শাহবাগের জাগরণমঞ্চে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। পাশাপাশি তাদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘রাজাকারদের কীর্তিকথা’ নামে একটি বই শাহবাগে বিক্রি করতেন। এছাড়া ফেসবুকে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওয়াজ বিভিন্ন বক্তব্যের বিরুদ্ধে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। তার ধারণা- ওইসব কারণেই জামায়াত-শিবির হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে তিনি কখনই ব্লগে লেখালেখি করতেন না। তাদের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানার ব্যাশদি গ্রামে।
