সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রদানে চরমভাবে ব্যর্থ সরকার :এরশাদ

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৩, ২২:২৬
হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলাকারীরা ইসলাম এবং দেশের শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (এ) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তিনি এদের কঠোর হাতে দমন করে ইতিমধ্যে দুর্বৃত্তদের হামলায় যেসব উপাসনালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা অনতিবিলম্বে পুনঃনির্মাণ এবং যেসব সংখ্যালঘু নাগরিকের বাড়িঘর, সম্পত্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে, তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সংখ্যালঘু সমপ্রদায়কে নিরাপত্তা দিতে এবং তাদের মন্দির, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং সংখ্যালঘুদের উপযুক্ত নিরাপত্তা বিধানের দাবি জানিয়েছেন এরশাদ। গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে এরশাদ বলেন, দেশে অব্যাহতভাবে হিন্দু সমপ্রদায়ের মন্দির, বাড়িঘর, সম্পত্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো নারকীয় ঘটনা ঘটেই চলছে। ফলে হিন্দু সমপ্রদায়সহ সকল সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে বাংলাদেশের সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির গায়ে কলঙ্ক লেপন করা হচ্ছে। যারা এই ঘটনা ঘটাচ্ছে—তারা ইসলামের শত্রু এবং দেশের শত্রু । এই শত্রুদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে। জাপা চেয়ারম্যান বলেন, এদেশে যেসব সংখ্যালঘু সমপ্রদায় আছে, তারা আমাদের আমানত। তাদের জান-মাল-ইজ্জত-সম্মান-সম্পত্তি-উপাসনালয় রক্ষা করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। ধর্মপ্রাণ সকল মুসলমানের প্রতি এই দায়িত্ব পালনের জন্য আমি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, দেশে কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হলেই কিংবা কখনো কখনো সামান্য কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি সুযোগ সন্ধানী এবং কুচক্রিমহল সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের উপাসনালয় এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ কিংবা লুটপাটের ঘটনা ঘটাচ্ছে, তাদের মারধর করছে। এর আগে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট এবং রামুতেও এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সেসব ঘটনারও উপযুক্ত বিচার হয়নি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন সংখ্যালঘু সমপ্রদায়কে নিরাপত্তা দিতে পারছে না -তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে এরশাদ বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।