রুয়েটে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সাত শিক্ষকের পদত্যাগ

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৩, ২২:২৮
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) প্রো-ভিসি ড. মর্ত্তুজা আলীকে ভারপ্রাপ্ত ভিসির দায়িত্ব প্রদানের একদিন পরই গত বৃহস্পতিবার প্রশাসনের আট পদে অতিরিক্ত দায়িত্বরত সাতজন শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন। এ ঘটনায় রুয়েট প্রশাসনে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। গত বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে রুয়েট ভিসি ড. সিরাজুল করিম চৌধুরীকে অব্যাহতি দিয়ে প্রো-ভিসিকে ভারপ্রাপ্ত ভিসির দায়িত্ব দেয়া হয়। ওই দিনই ভারপ্রাপ্ত ভিসি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার ওই সাত শিক্ষক নিজেদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে ভারপ্রাপ্ত ভিসি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরা হলেন: ছাত্র কল্যাণ পরিচালক মাজেদুর রহমান, সহকারী ছাত্র কল্যাণ পরিচালক ও শেখ হাসিনা হলের প্রাধ্যক্ষ ড. এমএম আব্দুর রাজ্জাক, সেলিম হলের প্রাধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক, শহীদুল ইসলাম হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, হামিদ হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. আখতার হোসেন, সহকারী প্রাধ্যক্ষ এইচএম রাসেল ও জিয়া হলের সহকারী প্রাধ্যক্ষ ড. নিয়ামুল বারী। রুয়েট রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আবুল বাসার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পদত্যাগী শিক্ষকরা তাদের পদত্যাগপত্রে নতুন ভারপ্রাপ্ত ভিসির সঙ্গে কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। পদত্যাগের কারণ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা হলের প্রাধ্যক্ষ ড. আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভিসি বিরোধী আন্দোলন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় আমরা নতুন ভারপ্রাপ্ত ভিসির সঙ্গে কাজ করতে বিব্রত বোধ করছি। এ কারণে সবাই সিদ্ধান্ত নিয়ে পদত্যাগ করেছি।’ ভারপ্রাপ্ত ভিসি ড. মর্ত্তুজা আলী বলেন, ‘এই প্রশাসনিক শূন্যতা রুয়েটের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করবে।’ তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, খুব শিগগিরই প্রশাসনিক পদগুলোর শূন্যতা পূরণ করা হবে। প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৫ নভেম্বর ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগে প্রগতিশীল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে রুয়েট ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। রুয়েটের অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘ভিসির পদ দখলের জন্য প্রো-ভিসি নেপথ্যে থেকে ভিসি বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বে দেন।’ তবে প্রো-ভিসি এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।