চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের আফজলনগর সিকদারপাড়া, আজিমপুর মৌলভীপাড়া, ছোট ডেমশা মাঝিরপাড়ায় এখন চলছে শোকের মাতম। নিহতদের আত্মার শান্তির জন্য বাড়িতে বাড়িতে চলছে দোয়া মাহফিল। গত ২ মার্চ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হাসমত আলী সিকদারের দোকানের সামনে র্যাব-পুলিশের গুলিতে নিহত হন উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ছোট ডেমশা মাঝিরপাড়ার মৃত আবদুর রশিদের পুত্র আবু তাহের (৩০), আজিমপুর গ্রামের মৌলভীপাড়ার আবু তাহেরের পুত্র মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম (১৪) এবং আফজলনগর সিকদারপাড়ার আবু ছৈয়দের পুত্র মোহাম্মদ ওছমান (২৮)। সরেজমিনে নিহতদের বাড়িতে গেলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে স্বজনরা। প্রথমে কথা হয় নিহত আবু তাহেরের পরিবারের লোকজনের সংগে। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। পেশায় ছিলেন ডেকোরশন শ্রমিক। কাজ করে বাড়িতে যাওয়ার পথে গুলিতে নিহত হন তিনি। তার ২ বছরের মাছুম শিশু জানে না তার পিতার মৃত্যুর খবর। তার স্ত্রী রোকেয়া আক্তার মুন্নি চোখের জল ফেলে বলেন, ডেকোরশনের কাজ করে দিনে যা রোজগার হতো তা দিয়ে তার কোন প্রকার সংসার চলত। সামনের দিনগুলো কিভাবে চলবে তা এখনো তিনি বুঝতে পারছেন না।
এরপর মৌলভীপাড়ার রাস্তার পাশে পুত্র শোকে প্রলাপ করতে দেখা গেছে নিহত মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের পিতা আবু তাহেরকে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দিনের আলো শেষ হয়ে যায়, রাত আসে। তারপরও আমার ছেলে আসে না। আমার ছেলে চায়ের দোকানে চাকরি করে সংসারের খরচ যোগাতো। ৪ ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল বড়। তার মা সামশুননাহার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, নাড়িছেঁড়া ধন শহীদ হয়েছে।
এরপর কথা হয় নিহত মোহাম্মদ ওছমানের পিতা আবু ছৈয়দের সাথে। তিনি জানান, ৪ ভাই ৩ বোনের মধ্যে ওছমান ছিল সবার বড়। তার ছোট ভাই আবুল কালাম বর্তমানে বড় ভাইয়ের শোকে পাগলের মতো দিনযাপন করছে। ১৩ জনের পরিবারের কর্তা ছিলেন নিহত ্ওছমান। পেশায় ছিলেন ড্রাইভার। ৫ বছরের বিবাহিত জীবনে কোন ছেলে-মেয়ে নেই। তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম অশ্রুসজল ছোখে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলেন। কোন কথা বলতে পারছেন না।
