বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিএনপি অনেক আগে থেকেই আলোচনার কথা বলছে। বিএনপি কখনোই আলোচনার বিপক্ষে নয়। তবে সেই আলোচনার অবশ্যই সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা থাকতে হবে। আর তা হতে হবে শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ইস্যুতে। অন্যথায় কথায় কথায় আলোচনার কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকও বলেছেন, যে প্রান্তে, যে কোনো সময়, যে কোনো পরিস্থিতিতে সংকট নিরসনে আলোচনায় রাজি বিএনপি। তবে আলোচনা হতে হবে একটাই, তা হল-তত্ত্বাবধায়ক। গতকাল শুক্রবার ঢাকায় পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে তারা দলের এই অবস্থানের কথা জানান।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, আমরা রাজনৈতিক দল। তাই যে কোনো বিষয়ে যে কোনো স্থানে বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। তার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই গতকাল কথা বলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও জয়নুল আবদিন ফারুক।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে গতকাল সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত শোভাযাত্রায় ড. মোশাররফ বলেন, আমরা সরকারকে স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, সংকট নিরসন করতে হলে প্রধানমন্ত্রীকে নির্দলীয় সরকারের সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা দিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিতে হবে। তাহলে বিরোধী দল সেই প্রস্তাব বিবেচনা করবে। সংলাপ চাইলে সরকারকেই এর উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এজন্য আগে পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, অবিলম্বে গণহত্যা বন্ধ করুন। আলোচনার পরিবেশ তৈরি করুন, তাহলে বিরোধীদল আপনাদের সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ উদ্বেগ, উত্কণ্ঠার মধ্যে আছে। সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশে সংঘাত ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। গত কয়েকদিন ধরে পুলিশ বাহিনী নির্বিচারে গুলি করে শতাধিক সাধারণ মানুষ ও মুসল্লিকে হত্যা করেছে। এরকম অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে সরকার দেশে জরুরি অবস্থা জারির পাঁয়তারা করছে।
ড. মোশাররফ বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এভাবে জরুরি অবস্থা জারি করা হলে দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না। সরকার পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালাচ্ছে, উল্টো দোষ চাপাচ্ছে বিরোধী দলের ওপর। সরকার যখন নিজেদের ব্যর্থতা-দুর্নীতিতে চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছে, তখন তারাই নানা নাটক সৃষ্টি করছে। এসব ষড়যন্ত্র জনগণের কাছে আজ পরিষ্কার। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার পরিবর্তনের চলমান আন্দোলনে নারী সমাজকেও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান তিনি।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের এই শোভাযাত্রা নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয় থেকে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মহানগর মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা এতে অংশ নেন। অন্যদের মধ্যে বিএনপির সহ-সভাপতি সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সভানেত্রী নূরী আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মহানগর সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক তাহমিনা শাহিন এতে বক্তব্য দেন।
এদিকে, গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘তারেক রহমানের ৬ষ্ঠ কারাবন্দি দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ফেডারেশন আয়োজিত ‘আর কত নির্যাতন সইবে জিয়া পরিবার’- শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া অন্য কোনো আলোচনায় আমরা রাজি নই। খালেদা জিয়া সংবিধান সংশোধন, বিডিআর বিদ্রোহ, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিসহ সব বিষয় নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। আর আওয়ামী লীগ অনেক পরে বলছে সংলাপের কথা। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে পাল্টা প্রশ্ন করে তিনি বলেন, আপনি বড় দলের বড় সম্পাদক। আপনি যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা কি আপনার প্রস্তাব নাকি সরকারের?
তিনি আরো বলেন, বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রাম দেখে সরকার বুঝতে পেরেছে, সরকার পতনের আন্দোলন চলছে। চলমান সংকটের সব দায়-দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে। এখনও সময় আছে, সংসদে তত্ত্বাবধায়ক বিল আনুন। তা না হলে এরশাদের চেয়েও আপনার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
বৃহস্পতিবার হরতাল চলাকালে নারী এমপিদের ওপর হামলার বিষয়ে ফারুক বলেন, ক্ষমতায় থাকলে পুলিশকে ইচ্ছামত ব্যবহার করা যায়। পুলিশের আচরণ দেখে মনে হয়েছে, সাদা পোশাকে তারা ‘পুলিশ লীগ’ কিংবা ‘যুবলীগ-ছাত্র-পুলিশ লীগ’। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের উদ্দেশে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, সাহারা খাতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময়ও বলেছেন- ‘আমার পুলিশ’। সারাদেশে নির্বিচারে নিরীহ মানুষ হত্যার পরও আপনি বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা আপনার নিয়ন্ত্রণে। তাহলে আপনি বিজিবি নামালেন কেন?
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির ব্যাপারীর সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ইসলামী ঐক্যজোটের লন্ডন সভাপতি মাওলানা শোয়েব আহম্মেদ প্রমুখ।
