মু খো মু খি

আমরা চলচ্চিত্রের লোক প্রয়োজনে রাস্তায় নামব

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৩, ২০:৫০
এ দেশের অন্যতম গুণী পরিচালক। দীর্ঘদিন ধরেই চলচ্চিত্র পরিচালনায় যুক্ত তিনি। নবনির্বাচিত পরিচালক সমিতির মহাসচিব তিনি। নতুন পদ পাওয়ার পর এর দায়িত্বপালনসহ চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। পরিচালক সমিতির নবনির্বাচিত কমিটি হিসেবে আপনাদের উদ্যোগগুলো কী কী? আমরা তো নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নিলাম মাত্র দু’মাস হলো। এই ক’দিনের মধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি ছবির কাজ শুরু হয়ে গেছে। গত বছর পুরোটাতেই এতগুলো ছবি মুক্তি পায়নি। আর এর অধিকাংশই হচ্ছে ডিজিটাল ফর্মেটের ছবি। তবে এর মধ্যে ৭টা বা ১০টা ছবি হচ্ছে গতানুগতিক ধারার। এই কয়েকটা ছবি ডিজিটালের বাইরে কেন? ডিজিটালে কাজটা করলে একটু কম খরচেই কমপ্লিট করা যায়, কিন্তু এই বিষয়ে এখনও সবাই দক্ষ না। আরেকটা বিষয় হচ্ছে সবাই চায় ভালো কাজ করতে। কার্ডের কাজের চেয়ে নেগেটিভের কাজের মান ভালো। থার্টি ফাইভের মতো ক্যামেরা দিয়ে কাজ করার ইচ্ছা সবার আছে, কিন্তু দায়বদ্ধতার কারণে পারে না। নেগেটিভের দাম এত বেশি হয়ে গেছে যে, ক্যামেরার সাথে সম্পৃক্ত র ম্যাটেরিয়ালের পেছনেই দেখা যায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে যায়। পাশাপাশি আরেকটা বড় প্রবলেম, বাংলাদেশের যে ল্যাবে কাজটা হয় এর অবস্থা অত্যন্ত বাজে। যে কারণে নেগেটিভ থেকে ভালো আউটপুট পেতে হলে ভারতে যেতে হয়, এখানে আরও বেশি খরচ বেড়ে যায়। এই ল্যাবের উন্নতি কেন হচ্ছে না, বা আপনারা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন কি? এটা আসলে পুরোটা আমাদের কাজের মধ্যেও পড়ে না, আর এখন তো এর উন্নতি আরও হবে না। সবাই ডিজিটালে মুভ করছে তো, এটা বোধহয় উঠেই যাবে। এই সতর্ক থাকার দায়িত্বটি কাদের পালন করা উচিত? আসলে এটাতো আমরা পালন করতে পারি না, মন্ত্রণালয়কে বলেছি যে, টুকে রেজ্যুলেশন হয় এ ধরনের ছবি মুক্তি দেন। আবার দেখা যায় থার্টিফাইভেই বানায় কিন্তু এগুলো দেখার মতো হয় না। গল্প আলাদা বিষয়। নিম্ন মানের ছবি বানাবেই, এটা ঠেকানো যাবে না। এ জন্য আমরা মন্ত্রণায়কে বলেছি যে, এটা কোন ক্যামেরা দিয়ে বানালো, কোন হাউজ থেকে বানালো ইত্যাদি বিষয়গুলোর বিবরণ নিয়ে তারপর মুক্তি দিতে। টুকে রেজ্যুলেশনের নিচে হলে পর্দায় গেলে কিন্তু ছবি ফেটে যায়। বাবুল রেজা নামের একজন কিছুদিন আগে এধরনের বাজে অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিয়েছে। আর কী কী বিষয় নিয়ে আপনারা এগোচ্ছেন? যেমন গত বছর ছবি নির্মাণের সংখ্যা একেবারেই কম। ২০১১-১২ তে আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে কমসংখ্যক ছবি মুক্তি পেয়েছে। আমরা এটা নিয়েই কাজ করছি। কারণ হিসেবে দেখলাম যে, শিল্পী সংকট আছে, দুয়েকজন শিল্পীর উপর নির্ভরশীল হয়ে কাজ করা হচ্ছে। কস্টিং বেড়ে যাওয়া, সেই অনুপাতে সিনেমাহল থেকে টাকা না আসা, ভিডিও পাইরেসি তো আছেই। সেন্সর বোর্ডের সংস্কার দরকার, সিনেমা হলের দরকার। আমরা এরইমধ্যে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এসেছি, আমাদের এফডিসিকে ডিজিটালাইজ করার ব্যাপারে বলে এসেছি। টেন্ডারও কমপ্লিট হয়ে গেছে, এখন সামনে হয়তো তিন মাসের মধ্যে মেশিনাদী কেনা হবে। এর কারণ হচ্ছে যে, পোস্ট প্রোডাকশনের জন্য বাইরে যেতে না হয়। এফডিসির এই ডিজিটালাইজ আশাকরি আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুরোপুরি কমপ্লিট হয়ে যাবে। একটা কমপ্লিট ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি হবে। হল ডিজিটালাইজ করার জন্য সরকার ব্যাংক থেকে লোনও প্রদান করা হবে। নতুন শিল্পীও খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিচ্ছি আমরা। এর আগে তো সুপারহিরো-সুপারহিরোইন নামের একটি রিয়েলিটি শো হয়েছে, আদতে কী সেটি ফিল্মের কোনো উপকারে এসেছে? আপনাদের নতুন শিল্পীদের নেওয়ার ধরনটাও কি এরকম হতে যাচ্ছে? আসলে তারা ওই অর্থে কোনো সফলতা পায় নি। এক কথায় বলা যায় যে, সুপারহিরো-সুপার হিরোইনের কেউই ফিল্মে নেই। মূল কথা হলো যে, তারা তখনই সফল হবে যখন এফডিসি বা চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রেখে কাজটা করবে। তাদের এই শোয়ের সঙ্গে প্রযোজক সমিতি, পরিচালক সমিতি কেউই সংশ্লিষ্ট ছিল না। আমরা ঘোষণা দিয়ে পুরো দেশ থেকে ডাকব, একাধিকবার ইন্টারভিউ নিয়ে বাছাই করে সব ধরনের শিল্পীই বাছাই করব, শুধু যে নায়ক-নায়িকা তা কিন্তু নয়। এফডিসিতে কিছুদিন আগে দুই বাংলার ছবিসহ শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিয়ে একটি আলোচনা হয়। এ বিষয়ে বলুন। এতে গৌতম ঘোষ, প্রসেনজিত্সহ আরও অনেকে এসেছিল। আমিও ছিলাম, সেখানে বলা হয়েছিল ৫টা ছবি তাদের দেশে গেলে আমাদের এখানেও ৫টা আসবে, এতে সমস্যা নেই। সমস্যা হলো কলকাতার ছবি এখন যে টেকনিক্যাল, কস্টিউম, স্ট্যান্টার্ড মেইন্টেন করে হয়, তার কাছাকাছিও আমরা না। আমাদের ছবিতে বাজেটও কম। এই বিষয়ে চুক্তি করলে দেখা যাবে যে, তারা আমাদের ১০টা ছবি নিল, নিয়ে হলে না চালিয়ে রেখে দিল। আর আমরা এদিক দিয়ে আমাদের ছবিগুলো চালালাম, তখন কী হবে, তারা তো আমাদের ইন্ডাস্ট্রিটাও দখল করে নেবে। একুলও হারাব ও কুলও হারাব। এবং তারা এটা করবেই। আর এখন আমাদের ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়াতে শুরু করেছে, ভালো ফিল্ম নির্মাণ হচ্ছে, ভালো নির্মাতা আসছে। এই মুহূর্তে আবার ধ্বংসের মুখোমুখি হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তারপর শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিয়ে আলোচনার তো তারা কোনো অগ্রগতি দেখাচ্ছেন না। তার মাঝে হুট করে ঘোষণা দিয়ে ফেলেছেন যে আমাদের দেশে কলকাতার ছবি আসছে। কে ঘোষণা দিয়েছেন এটি? এটি ঘোষণা দিয়েছেন আমাদের তথ্যমন্ত্রী। আমরা একটা প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমরা চলচ্চিত্রের লোক প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে যাব। আমাদের প্রতিবাদের রেজাল্ট হিসেবে এখনও কোনো রিপ্লাই জানায়নি। আসলে একদল কুচক্রী মহলের জন্যই এ রকমটা ঘটছে। কারা এই কুচক্রী মহল? এটা হচ্ছে আবুল খায়ের লিটু ও তার দল। আবুল খায়ের লিটু হচ্ছে মূলত বাংলাদেশে যেকটা পে-চ্যানেল আছে, এগুলো সব হচ্ছে আবুল খায়ের লিটুর। ডিশ অপারেটরদের কাছে বিক্রি করে টাকা নেয়, সেই টাকাগুলো আবার ভারত পাঠায়, এটা কোনো বৈধ ব্যবসা নয়। সে ভারতের সঙ্গে কথা বলেছে, ভারতের তারাই এ দেশে খরচ করে হল ডিজিটাল করবে, তারা তাদের ছবি চালাবে। ব্যবসা করবে সে, আর ধ্বংস হবে ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রি।