বৃষ্টির উত্পাত গল টেস্টের দ্বিতীয় দিনে গতকাল শনিবার শ্রীলংকার ব্যাটসম্যানরা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে তুলে নিয়েছেন দুটি সেঞ্চুরি। তাতে বাংলাদেশের উপর ৫৭০ রানের পাষাণভার চাপলেও দিনের শেষ সেশনে মোহাম্মদ আশরাফুল ও মমিনুল হকের ব্যাটিং কিছুটা হলেও স্বস্তির পরশ বয়ে আনে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে।
দিনের শেষ সেশনটা বাদ দিলে কালও অধিকাংশ সময় ছিল স্বাগতিকদের আধিপত্য। প্রথম ইনিংসে চার উইকেটে ৫৭০ রান তোলার পর সফরকারীরা নিজেদের প্রথম পালায় ৬৫ রানে দুই উইকেট হারায়। সঙ্গত কারণেই উদ্বোধনী দিন থেকে চাপে থাকা টেস্টটিতে বাংলাদেশকে আশা দেখাচ্ছে দুই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান আশরাফুল ও মোমিনুল হকের ব্যাটিং। আশরাফুল সাতটি চারের মারে ৬৫ রানে অপরাজিত থেকে আজ তৃতীয় দিনের শুরুতে ক্রীজে আসবেন। সেসময় তার সঙ্গে থাকবেন ৩৫ রানে অপরাজিত থাকা মমিনুলও। দু’জনের প্রয়াসে দ্বিতীয় দিনশেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩৫/২। প্রথম ইনিংসে এখনো ৪৩৫ রানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।
শাহরিয়ার নাফীসের ইনজুরির কারণে প্রায় দেড় বছর পর টেস্ট দলে ঢোকার সুযোগ পান আশরাফুল। সর্বশেষ ২০১১ সালের ডিসেম্বরে দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ টেস্টের পর অফ-ফর্মের কারণে দল থেকে বাদ পড়েন তিনি। এমনকি শ্রীলংকাগামী দল বাছতে যে ২৩জনকে ডাকা হয় তাদের মধ্যেও ছিলেন না তিনি। নির্বাচকরা তাকে পরিস্থিতির বাধ্যবাধকতায় দলে নিলে আশরাফুল অনুশীলনেও তার প্রতিদান দেন। এখন দেখার পালা বাংলাদেশের এক সময়ের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানটি ২০০৮ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকানোর পর আবার তিন অংকের ঘরে পৌঁছাতে পারেন কিনা। টেস্ট দলগুলোর বিপক্ষে নিজের সর্বশেষ সেঞ্চুরিটির পর গত ১৮টি ইনিংসে তার ব্যাটিং গড় মাত্র ১৩। অবশেষে ফর্মের দেখা পেয়ে কাল মোমিনুলকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৭০ রানের পার্টনারশীপ গড়েন তিনি।
শ্রীলংকার বিপক্ষে আশরাফুলের রেকর্ড সবসময় ভালো। ৫৮টি টেস্টের মধ্যে তিনি যে পাঁচটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন এর মধ্যে চারটি শ্রীলংকার বিপক্ষে। শ্রীলংকাতেই রয়েছে দুটি শতক। কাল শেষ সেশনে কুলাসেকারা, ম্যাথিউস, মেন্ডিসকে যেভাবে খেলেছেন, তা অব্যাহত রাখতে পারলে আজ তাকে সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি গলের উইকেটও বেশ সহায়ক হয়ে উঠেছে। বৃষ্টি না থাকায় কাল সারাদিন উইকেট কথা বলেছে ব্যাটসম্যানদের পক্ষে।
জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) আশরাফুল রান খরায় ছিলেন। তবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) সে দুর্দশা কাটিয়ে ওঠেন কিছুটা। টুর্নামেন্ট দুটিতে পেয়েছেন একটি করে সেঞ্চুরি। তবুও নির্বাচকদের মন গলেনি। তবে যেভাবেই হোক পাওয়া সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চান তিনি। তাই এদিন দুই ওপেনার জহুরুল ইসলাম ও এনামুল হক বিজয়ের ফিরে যাওয়ার পর বিপদ ভারী হওয়ার মুখেই মমিনুলকে নিয়ে হাল ধরেন আশরাফুল।
কাল অবশ্য দুই সেশনে শ্রীলংকানদের দাপটে পথ হারিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশের বোলাররা। অভিজ্ঞ শাহাদাত হোসেন ২১ ওভার বল করে গড়ে সাড়ে চারের উপরে রান দিয়েছেন। আরেক পেসার আবুল হোসেন ২৭ ওভার বল করে রান দিয়েছেন গড়ে সোয়া চার করে। তবুও এক উইকেট নিতে পেরেছেন এই পেসার। শ্রীলংকানদের বাকি তিন উইকেট যিনি নিয়েছেন, সেই সোহাগ গাজী ৫০ ওভার বল করে সোয়া তিনের উপরে রান দিয়ে রানের চাকা কিছুটা থামিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু দিনেশ চান্দিমাল ও লাহিরু থিরিমান্নের কাছে হার মানতে হয়েছে তাদের সবাইকেই।
থিরিমান্নে (৯১) এ বছরের জানুয়ারিতে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অল্পের জন্য প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পাননি। কাল বাংলাদেশের বিপক্ষে অপরাজিত ১৫৫ রান করে বহুল প্রত্যাশিত সেই সেঞ্চুরিটির দেখা পান তিনি। কাকতালীয়ভাবে থিরিমান্নের পর ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পান চান্দিমালও। তিনি অপরাজিত ছিলেন ১১৬ রানে।
স্কোরকার্ড
শ্রীলংকা প্রথম ইনিংস
করুনারাত্নে এলবিডব্লিউ ব গাজী ৪১
দিলশান ক মোমিনুল ব গাজী ৫৪
সাঙ্গাকারা ক জহুরুল ব গাজী ১৪২
থিরিমান্নে অপরাজিত ১৫৫
ম্যাথুয়েস ক এন্ড ব আবুল ২৭
চন্দিমল অপরাজিত ১১৬
অতি: ৩৫
মোট: ৪ উইকেটে (১৩৫ ওভার, ডিক্লে:) ৫৭০
উইকেট পতন: ১/১১৪ (২২.৬, দিলশান), ২/১৮১ (৩৬.৬, করুনারত্নে), ৩/৩০৫ (৭২.৬, সাঙ্গাকারা), ৪/৩৬৭ (৮৯.৪, ম্যাথিউস)।
বোলিং বিশ্লেষণ: শাহাদাত ২১-২-৯৫-০, আবুল ২৭-৪-১১২-১, গাজী ৫০-৬-১৬৪-৩, সানি ২০-০-৮৯-০, আশরাফুল ৪-০-২৩-০, মাহমুদুল্লাহ ১১-১-৪৫-০, মোমিনুল ২-০-১৭-০।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস
জহুরুল ক চন্দিমল ব এরাঙ্গা ২০
এনামুল ব মেন্ডিস ১৩
আশরাফুল অপরাজিত ৬৫
মমিনুল অপরাজিত ৩৫
অতি: ২
মোট: ২ উইকেটে (৪৩ ওভার) ১৩৫
উইকেট পতন: ১/২৩ (৭.৫, জহুরুল), ২/৬৫ (২৩.৬, এনামুল)।
বোলিং বিশ্লেষণ: কুলাসেকারা ৮-০-২৮-০, এরাঙ্গা ৯-৩-২৫-১, হেরাথ ১২-২-৩৩-০, মেন্ডিস ৫-০-২৮-১, ম্যাথিউস ৩-০-৫-০, দিলশান ৬-২-১৫-০।
