দেশে দুই কোটি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৩, ২১:৩৮
বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটিরও অধিক লোক কোন না কোন কিডনি রোগে আক্রান্ত। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি ঘণ্টায় পাঁচজন লোক অকালে মৃত্যুবরণ করছে। অথচ কিডনি রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় রোগের কারণ ও রোগ শনাক্ত করে এই ভয়াবহ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশ্ব কিডনি দিবস-২০১৩ উপলক্ষে গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আকস্মিক কিডনি বিকল ও খাদ্যে ভেজাল ঃ প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ কথা বলেন। কিডনি এওয়ারনেস্ মনিটরিং এন্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস) বৈঠকের আয়োজন করে। ক্যাম্পস সভাপতি অধ্যাপক ডা. এমএ সামাদের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিষ্ট এবিএম মূসা, পূবালী ব্যাংক চেয়ারম্যান হাফিজ আহমেদ মজুমদার, কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ রেনাল এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম প্রমুখ। ব্যারিস্টার রফিক উল হক বলেন, দেশে ভেজাল রোধে কঠোর আইন রয়েছে, কিন্তু আইনের কোন প্রয়োগ নেই। সাধারণ ভোক্তাদের এ ব্যাপারে প্রতিবাদী ও সচেতন হতে হবে এবং সরকারকে আইন প্রয়োগের জন্য কঠিন ভূমিকা নিতে হবে। অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ বলেন, দেশের ৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে কিডনি স্ক্রিনিং-এর ব্যবস্থা সংযুক্ত করলে বিপুল সংখ্যক লোকের প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগ শনাক্তকরণ সম্ভব হবে। যা আকস্মিক কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সাহায্য করবে। সভায় মূল নিবন্ধে অধ্যাপক ডা. এমএ সামাদ বলেন, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের প্রধান কারণ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, গ্লুমারেলো নেফ্রাইটিস, প্রস্রাব প্রবাহে বাধাজনিত রোগ, বয়স্ক পুরুষদের প্রষ্টেট বড় হয়ে যাওয়া, প্রস্রাবের নালী সরু হয়ে যাওয়া, বিভিন্ন ধরনের যথেচ্ছ ওষুধ ব্যবহার, যাদের ওজন বেশি, যারা ধূমপান করেন, যারা কম কায়িক পরিশ্রম করেন তাদের মাঝেও দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের প্রবণতা বেশি। তিনি বলেন, শতকরা ১৬-১৮ ভাগ মানুষের মাঝে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ সুপ্ত অবস্থায় বিদ্যমান, যার শেষ পরিণতি কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যু। ক্যাম্পস সভাপতি খাদ্য ও পানীয়তে বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহারকে জাতীয় সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করে বলেন, এ সমস্যা সমাধান কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। কারণ বিশ্বের অনেক দেশেই খাদ্যদ্রব্যে ভেজালকে কঠোর হাতে দমন করা সম্ভব হয়েছে। তবে সরকারকে এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।