পেশাদার ফুটবল লিগের ক্লাবগুলোর খেলোয়াড় গড়ে তোলার জন্য প্রথমবারের মতো আয়োজিত অনূর্ধ্ব-১৬ যুব ফুটবল লিগটি দৃশ্যত সফলই হয়েছে। কেননা প্রারম্ভিক আসরের সীমাবদ্ধতাগুলো বাদ দিলে এই প্রতিযোগিতার সুবাদে সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর কোচরা ভবিষ্যতের জন্য তরুণ মেধার সন্ধান পেয়েছেন। এখন এসব ক্লাব খুঁজে পাওয়া ভালো ফুটবলারদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মোহামেডান ক্লাব গত শুক্রবার অনূর্ধ্ব ১৬- বয়সসীমার এই টুর্নামেন্টে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দলটিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। বিকেএসপির খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া ফেনীর সকার ক্লাব পেয়েছে ফেয়ার প্লে ট্রফি। চ্যাম্পিয়ন মোহামেডানের রাজিব ফাইনালের সেরা এবং আতিকুজ্জামান টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। সদ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়া মোহামেডান ক্লাব বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ঘোষণার আগেই জুনিয়র ক্যাম্প শুরু করেছিল। তারা নিজেদের তাগিদেই খেলোয়াড় বাছাই করে সেরে রেখেছিল প্রশিক্ষণের কাজটি। বাফুফে টুর্নামেন্টের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে প্রস্তুতি শুরু করায় সঙ্গত কারণেই মোহামেডানের লাভটা বেশি হয়েছে। তাদের দল আগেই তৈরি ছিল। জাতীয় দলের সাবেক উইংগার জসিম উদ্দিন জোসি এবং ডিফেন্ডার আবু ফয়সাল দলটাকে তৈরি করে রাখায় সুফল মেলে চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের মধ্য দিয়ে।
বাফুফের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জোসি। তিনি মনে করেন, এ ধরনের খেলা হলে নতুন ফুটবলার পাওয়া যাবে। জোসি জানালেন, তার দলে এমন পাঁচ-ছয়জন ফুটবলার আছেন যারা প্রশিক্ষণ পেলে জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে পারেন। তিনি অবশ্য কারো নাম উল্লেখ করেননি। অন্য দলগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলেও কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। জোসি বলেন, ‘আমি আমার দল সম্পর্কে ভালো জানি। শুনেছি ক্লাব কর্তৃপক্ষ বর্তমান দলটাকে নিয়ে কাজ করতে চায়।’
রানার্সআপ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রের কোচ আব্দুল কাইউম সেন্টু চাইছেন পেশাদার লিগ শেষে ক্যাম্প ফাঁকা হলে যুব দলটাকে সেখানে রেখে প্রশিক্ষণ দেবেন। সেভাবে আলোচনা চলছে ক্লাবে। সেন্টুর মতে, যুব ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন একটি ভালো উদ্যোগ। প্রথমবার বলে খেলোয়াড়দের বয়স নিয়ে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। তারপরও এর সুফল পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের স্ট্রাইকার ইব্রাহিম সেরা গোলদাতা (চারটি) হয়েছেন। তার পায়ের কাজ দারুণ, শারীরিক উচ্চতাও ভালো। ইব্রাহিমের মতো আরো ভালো ফুটবলার এবার খেলেছেন। দৃষ্টি কেড়েছেন।’ সাবেক ফুটবলার সেন্টু মনে করেন, উঠতি বয়সে তরুণ খেলোয়াড়রা মোহামেডান, আবাহনী, মুক্তিযোদ্ধার মতো দলের জার্সি গায়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলেছেন। এটা তাদের কাছে স্বপ্নের মতো। তার আরো মত, এ উদ্যোগ শুধু অনূর্ধ্ব-১৬ টুর্নামেন্টেই নয়, এটা শুরু হওয়া উচিত অনূর্ধ্ব-১৪ বছর বয়সীদের দিয়ে।’
অনূর্ধ্ব-১৬ টুর্নামেন্টে মোহামেডান ও আবাহনীর খেলায় গণ্ডগোল হয়েছিল। গোল বাতিলের দাবিতে আবাহনীর ফুটবলাররা প্রতিবাদ জানিয়ে মাঠে অবস্থান করলেও খেলায় ফিরেননি। দুই ম্যাচ হেরে গ্রুপ থেকে বিদায় নেয় আবাহনী। অথচ তুলনায় সেরা দলই গড়েছিল দেশের অন্যতম সেরা এই ক্লাবটি। বিভিন্ন বয়সসীমার জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি একটি কর্মসূচির অধীনে ম্যাঞ্চেস্টার ঘুরে আসা কয়েকজনকে নিয়ে ভালো দল গড়ার পরও মুক্তিযোদ্ধা ও মোহামেডানের কাছে হেরে বিদায় নেয় আবাহনী। এ ব্যাপারে আবাহনীর ফুটবল ম্যানেজার সত্যজিত দাস রুপু জানিয়েছেন, তাদের যুব দল থেকে আটজনকে সিনিয়রদের সাথে অনুশীলনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তারা উন্নতি করতে পারলে মূল দলেও জায়গা হতে পারে।
যুব ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার আগে ক্লাবগুলোর ডাকা ট্রায়ালে ব্যাপক সাড়া পড়েছিল। শত শত ফুটবলার লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় এসেছিলেন অফিস দল বিজেএমসির ট্রায়ালে। কমলাপুরস্থ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে কয়েকশ ফুটবলার থেকে দল বাছতে হয়েছিল তাদের। প্রতিযোগিতার একমাত্র নেতিবাচক দিক ছিল পেশাদার লিগের নয় দলের মধ্যে কেবল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের অংশ না নেয়া।
