নাব্যতা সংকটে শ্রীপুরের তিন নদ-নদী

কেউ শোনে না নদীর কান্না

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৩, ২১:৫৭
নাব্যতা সংকটে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে শ্রীপুরের এক সময়ের খরস্রোতা নদী গড়াই ও হানু নদী এবং কুমার নদ। নদীগুলো সংস্কারের অভাবে তলদেশে ও দুই পাড়ে বালুযুক্ত পলি জমে পরিণত হয়েছে মরা খালে । নদীর বুকজুড়ে আবাদ করা হচ্ছে ধান, গম, পিঁয়াজ, রসুন ও পাটসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল। রবি ফসলের সেচ সুবিধার জন্য নদীর দুই কূলে স্থাপন করা হয়েছে বেশ কিছু মোটর পাম্প। প্রতিদিন নদী থেকে ব্যাপকহারে পানি উত্তোলনের ফলে নদীগুলো আরও শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে বিলুপ্ত হচ্ছে নানা প্রজাতির মাছ । অন্যদিকে কুমার ও গড়াই-এর কূল ঘেঁষে বসানো হয়েছে বেশকিছু ড্রেজার মেশিন। ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে প্রতিদিন নদ-নদী থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে হাজার হাজার ঘনফুট বালু। এলাকার অসাধু প্রভাবশালীরা এসব বালু খোলা বাজারে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এসব শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলনের ফলে বিলীন হচ্ছে শত শত একর আবাদিল জমি। অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে পড়েছে বেড়িবাঁধ। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে সবচেয়ে বেশি ভাঙ্গনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কামারখালী গড়াই সেতু, গোয়ালদাহ বালু মহালের আশপাশের গ্রাম ও প্রসিদ্ধ লাঙ্গলবাধ বাজার । নদীগুলো বাঁচিয়ে রাখতে মাগুরার উজানে শত কোটি টাকা ব্যয়ে স্লুইচ গেট নির্মাণ করা হলেও সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে সেটি যথাযথভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে জনস্বার্থে কোন কাজেই লাগছে না সেটি। নদীর তলদেশ বালুতে পরিপূর্ণ হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে নদীগুলো পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখতে পারে না । যে কারণে নদীর আশপাশের প্রণালীগুলো বন্যার পানিতে ভরে গিয়ে ক্ষেত-খামার তলিয়ে যায়। আবার চৈত্র-বৈশাখ মাসে নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় নদীর বুকে জেগে ওঠে বিশাল বিশাল চর। তখন নদীতে পানি না থাকায় সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় এলাকার কৃষকরা। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় নদীগুলো সংস্কারের ব্যবস্থা করলে এলাকার বাসিন্দারা যথেষ্ট উপকৃত হতো বলে অভিজ্ঞমহলের ধারণা।