মশার সীমাহীন যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে পড়েছে খুলনা মহানগরীর প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। দিন ও রাতে মশার দংশনে নগরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়লেও ব্যয় কমানোর কথা বলে ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। দীর্ঘদিন ফগার মেশিন বন্ধ থাকায় নগরীতে মশার উত্পাত সীমাহীন বৃদ্ধি পেয়েছে। নগরবাসীর ভোগান্তির শেষ নেই।
সন্ধ্যা হলেই নালা-নর্দমা ও ড্রেনের আবর্জনার স্তূপ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে আসে মশা। দিনেও মশার অত্যাচার কম নয়। মশার কামড় থেকে বাঁচতে দিনের বেলায়ও অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মশা মারার সেপ্র ও কয়েল জ্বালিয়ে কাজ করতে হয়। মশার অত্যাচারে সাধারণ মানুষ, হাসপাতাল ও ক্লিনিকের রোগীরাও অতিষ্ঠ। ভাসমান মানুষদের অবস্থা তো বলারই অপেক্ষা রাখে না।
হাসপাতাল ও ক্লিনিক সূত্র জানায়, মশার দংশনে চুলকানি, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়াসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু মানুষের দেহে ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত রোগীদের অধিকাংশই হচ্ছে ভাসমান ও শ্রমজীবী মানুষ। এদিকে প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হচ্ছে। শিশুদের সংখ্যাই বেশি।
নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে একটি করে ফগার মেশিন ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না করার কারণে তার অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। গত এক বছর ধরে এর জন্য ব্যবহূত তেলও কেনা হচ্ছে না। ফগার মেশিন ব্যবহারও হচ্ছে না।
একজন কর্মকর্তা জানান, ফগার মেশিনের তেলের দাম বর্তমানে প্রতি লিটার ৪শ’ টাকারও বেশি। একটি মেশিনের জন্য ৫ লিটার তেল ও এক লিটার পেট্রোলের প্রয়োজন হয়। এতে খরচ হয় দুই হাজার থেকে ২১শ’ টাকা। এই টাকা দিয়ে একটি ফগার মেশিন চালানো যায় মাত্র ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা। এর ফলে কেসিসির ব্যয়ও বেড়ে যায় অনেক। অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে কর্তৃপক্ষ তেল কেনা বর্তমানে বন্ধ রেখেছে। তবে লার্ভিসাইড ছিটানোর কাজ নিয়মিত চলছে। এছাড়া ড্রেনের পানি সচল রাখার জন্য জমা মাটি তোলা হচ্ছে।
মশার উত্পাত বৃদ্ধির সত্যতা স্বীকার করে কেসিসির কনজারভেন্সি বিভাগের সূত্র জানায়, সিটি কর্পোরেশন বসে নেই। নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন ২০ লিটার করে লাইট ডিজেল স্প্রে করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে হুইল মাউন্টেড মেশিন দিয়ে একদিনে ২টি করে ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড ছিটানোর কাজ চলছে। কয়েকদিন আগে নগরীর অধিকাংশ ড্রেনের কাদা পরিষ্কার করা হয়েছে। বাকীগুলো পরিষ্কারের কাজ চলছে। নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশা মুক্ত রাখতে গেলে কেবল কেসিসির একার পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে সূত্রটি সবার সহযোগিতা কামনা করেন। অনেক এলাকা আছে যেখানে ড্রেনে আবর্জনা ফেলে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে মশা বাড়ছে। মশা কমানোর জন্য নিজের বাড়ির আঙিনা, ড্রেন, সেপটিক ট্যাঙ্কের আউট লাইন পরিষ্কার রাখার বিষয়টিও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
