বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, প্রেসিডিয়াম ও উপদেষ্টামণ্ডলীর যৌথ সভায় বলা হয়েছে, যুদ্ধাপরাধী ইসলাম বিকৃতকারী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতা-বিরোধী অপরাধের কারণে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ দেশের জনগণের প্রাণের দাবি। সভায় চট্টগ্রামে বিশিষ্ট ১০ জন আলেমকে হত্যার পরিকল্পনার সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে আগামী ১৬ মার্চ চট্টগ্রাম ও ২৩ মার্চ রাজধানীতে মহাসমাবেশ করারও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ইসলাম বিকৃতকারী জামায়াত এদেশের সহজ সরল মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মুক্তিকামী মানুষ হত্যা নারী ধর্ষণ, গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ এমন কোন অপকর্ম নেই যা তারা করেনি। বর্তমানে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে। অপরদিকে তারা একাত্তরের ন্যায় হত্যা, গুপ্তহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশ হত্যার মাধ্যমে দেশে একটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। জামায়াতের ঘৃণ্য অপকর্মের বিরুদ্ধে দেশের সচেতন জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। তাছাড়া অপকর্মের অর্থের যোগানদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারেও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ, সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের নির্বিচারে মানুষ হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারি উদ্যোগে এলাকা ভিত্তিক মামলা দায়েরের আহ্বান এবং বিশিষ্ট ১০ জন আলেম হত্যার পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লায়ন এম এ আউয়াল, সৈয়দ হাবিবুল বশর আল হাছানী, সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, আল্লামা সৈয়দ আবু রাজ্জাক হায়দারী, প্রফেসর মোহাম্মদ পেয়ারা শাহ মিরান আল কাদেরী, আলহাজ্ব সদরুল আমিন রিজভী, আল্লামা কাজী আবুল বয়ান হাসেমী, ওমরগুল নেওয়াজ হাসিম, আল্লামা সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী, ডা. সৈয়দ আবু দাউদ মসনবী হায়দার প্রমুখ।
