দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি ও সুন্দরবন রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্-বন্দররক্ষা জাতীয় কমিটি। শনিবার পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনে রামপাল ও ফুলবাড়ী পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্ল¬াহ, সৈয়দ আবুল মকসুদ, প্রকৌশলী বিডি রহমতউল্ল¬াহ, রুহিন হোসেন প্রিন্স, জোনায়েদ সাকী। সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, গতকাল ৯ মার্চ রামপালের উদ্দেশ্যে লংমার্চ করার কথা থাকলেও দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে এই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। তবে এই দাবিতে গতকাল খুলনা ও বাগেরহাটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি নেয়া হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশ সফরে ঢাকায় দেয়া বক্তব্যে সুন্দরবন রক্ষায় দুইদেশের যৌথ ভূমিকার আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু দুইদেশের সরকার যৌথভাবে ভারতীয় একটি কোম্পানির মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা নিশ্চিত করতে ও দেশি কিছু সুবিধাভোগীর স্বার্থে রামপাল বিদ্যুত্ কেন্দ্রের মাধ্যমে সুন্দরবন ধ্বংসের আয়োজন করছেন। রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র থেকে ভারতীয় কোম্পানি এনটিসিকে তাদের প্রাপ্ত লভাংশের ক্ষেত্রে ১০ বছরের জন্য যে কর অবকাশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা দেশ বিরোধী।
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, সুন্দরবনকে ধ্বংস করে, সম্পূর্ণ বেআইনি, অস্বচ্ছ ও জবরদস্তিমূলক প্রক্রিয়ায় দেশের স্বার্থবিরোধী এই প্রকল্প দেশবাসী মেনে নেবে না। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভারতীয় কোম্পানির লাভ হবে, কিন্তু সুন্দরবন ধ্বংস হবে, অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ বিপর্যস্ত হবে, বিদ্যুত্ সমস্যারও কোনো টেকসই সমাধান হবে না।
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, ফুলবাড়ীসহ ছয় থানার জনগণ ২০০৬ সাল থেকে প্রতিরোধের প্রাচীর গড়েছেন। তাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আগামী ২৯ মার্চের মধ্যে এশিয়া এনার্জির সবধরণের কার্যক্রম বন্ধ ও ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
