‘বাবা এলাকায় নাকি পুলিশ-বিজিবি আইছে, আমি দেখতে গেলাম।’ একথা বলে দৌড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে য়ায় রুবেল। এর কিছুক্ষণ পরেই তার লাশ বাড়িতে পৌঁছে দেয় এলাকাবাসী। কান্না জড়িত কণ্ঠে এসব কথা বললেন ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘর্ষে নিহত রুবেলের বাবা রুহুল আমিন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়ায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ৫ গ্রামবাসী নিহত হন। নিহতরা হলেন- স্কুল ছাত্র রুবেল (১৫), ব্যবসায়ী ফিরোজ (২৫), ড্রাইভার মনির উদ্দিন(২৬), মেকার নিরঞ্জন মিঠুন (২৮) ও দুলাল (১৬)। নিহতদের বাড়িতে এখনও চলছে শোকের মাতম। অনাকাঙ্খিত এসব মৃত্যুর কোনো সান্ত্বনা নেই পরিবারগুলোর কাছে।
রুবেলের বাবা রুহুল আমিন বলেন, ‘আমার ছেলে স্কুলে পড়ে। পুলিশ ও বিজিবি দেখতে গিয়ে ওদের গুলিতে সে মারা যায়। আমার ছেলেকে পুলিশ বিজিবি শেষ করল। আমরা বিচার চাই।
নিহত ফিরোজ ক্ষেতে সেচ দিতে গিয়েছিল। বাড়ি ফেরার পথে দেখে সাইদীর মুক্তির দাবিতে রাস্তায় বিক্ষোভকারী ও পুলিশের সংঘর্ষ চলছে। এক পর্যায়ে বিজিবির গুলিতে সে মারা যায়। নিহত ফিরোজের বাবা রবিউল ইসলাম বলেন, আমাদের ৫ জনের সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল সে। এখন সংসার কিভাবে চলবে জানি না। তার মা-বাবা,ভাই ও স্বজনদের কাঁদতে কাঁদতে বার বার মূর্ছা যেতে দেখা যায়।
নিরঞ্জন মিঠুন জানত না কিসের জন্য মানুষ রাস্তায় বিক্ষোভ করছে। বিক্ষোভ দেখতে এসে সে পুলিশের গুলিতে মারা যায়। নিহত মিঠুনের মা শ্রীমতি বলেন, আমার ছেলে কোন রাজনীতি করতো না। অথচ অকালে তাকে প্রাণ দিতে হলো। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।
মনির উদ্দিন বাড়ির পাশ থেকে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া দেখছিল। বিক্ষোভকারীরা এমন সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়লে বিজিবির গুলিতে মনির উদ্দিন নিহত হয়। নিহত মনির উদ্দিন পেশায় ড্রাইভার ছিল। তার আয়ের উপর নির্ভরশীল ছিলো পরিবার।
অন্যদিকে, ‘ইসলাম রক্ষা’র কথা বলে অন্যরা প্ররোচনা দিয়ে দুলালকে মিছিলে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে অকালে প্রাণ হারায় দুলাল (১৬)। দুলালের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, দুলালকে বাধা দিয়েছিলাম মিছিলে যেতে। কথা না মানায় তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে। লস্করা মহল্লার আমেনা খাতুন বলেন, পুলিশ নিজেই গুলি করে হত্যা করল আবার তারাই মামলা করেছে। মামলার ভয়ে বাড়িতে পুরুষ লোক থাকতে ভয় পাচ্ছে।
