চন্ডীগড়। ভারতের একটি সমৃদ্ধ, সংস্কৃতিমনস্ক অনবদ্য শহর। ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে বিগত দশ বছর যাবত্ নারী শিল্পীদের শিল্পচর্চা বিকাশে কাজ করছে ‘উই’, অ্যা গ্রুপ অব্ ইন্ডিয়ান কনটেমপরারি উইমেন আর্টিষ্টস্। দেশ-বিদেশের ১৬ জন শিল্পীর যৌথ প্রদর্শনীর আয়োজন করে ‘উই’। প্রতিষ্ঠিত ও নবীন নারী শিল্পীদের শিল্পচর্চাকে অগ্রসর করতেই এই উদ্যোগ। গত ৩০.১.২০১৩ থেকে শুরু হয় এই প্রদর্শনীটি। পাঞ্জাব কলাভবন গ্যালারিতে প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করেন দিল্লীর স্বনামধন্য চিত্রকর ও শিল্প-সমালোচক প্রফেসর ড. প্রেম সিং ও বাংলাদেশের শিল্পী রাজেশ্বরী প্রিয়রঞ্জিনী। অকালপ্রয়াত ভারতের বরেণ্য শিল্পী অমৃতা শেরগিলের জন্মদিনে প্রদর্শনীটি উত্সর্গ করা হয় শিল্পী অমৃতা শেরগিলকে। অমৃতা শেরগিল প্রসঙ্গে প্রবন্ধ পাঠ করেন প্রফেসর ড. সরোজ চামান ও প্রফেসর প্রেম সিং। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ‘উই’ গ্রুপের সভাপতি সাধনা সাংগার। ১৬ জন নারী শিল্পীর এক যৌথ ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিল্পবোদ্ধা, সমালোচক ও শিল্পানুরাগীরা। নারী শিল্পীদের কাজের পৃষ্ঠপোষকতা, প্রকাশ ও বিকাশে ‘উই’ কাজ করছে নিরন্তর। ২০১৩ সালের প্রদর্শনীতে অংশ নেন শিল্পী সাধনা সাংগার, রাজেশ্বরী প্রিয়রঞ্জিনী, সাবিহা খান, অঞ্জলী আগারওয়াল, নিকু গুলেরিয়া, কুমাদি প্রজাপতি, সন্দীপ ওয়ালিয়া, ডালজিত্ কাউর, শ্বেতা ভার্মা, অমিতা, হারসিমরান কাউর, তারানজিত্ কাউর, শিবানী সিংলা, অশ্বিনী ভোলে, আশু ভার্মা। প্রতিটি শিল্পীর কাজে ছিল নিজস্ব প্রকাশ ও ভঙ্গীমার দৃঢ়তা। দেশ-কাল ভেদে নারী মনের জাগরণের ভাষায় খুঁজে পাওয়া যায় এক অদ্ভুত ঐক্য, মুক্তির অন্বেষণ, আত্মপ্রকাশের স্বাধীন ভঙ্গিমা। অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বলিষ্ঠ ছিল নারী শিল্পীদের কাজ, আত্মপ্রকাশের নিজস্ব ধারা। ওয়ার্কশপেও শিল্পীরা কাজ ও ভাব বিনিময় করেন। শিল্পী সাধনা সাংগার কাজ করেছেন নারী ও প্রকৃতি নিয়ে। শিল্পী নিকু গুলেরিয়া কাজ করেছেন মানব জীবনের সঙ্গে যন্ত্রের সমন্বয়ে এক জীবন কথা, যেখানে প্রকাশ পেয়েছে যান্ত্রিকতাময় জীবন কথা।
দিল্লী থেকে আগত শিল্পী সাবিহা খানের ছবি ছিল শুধুই টিয়া ও নারীর কথকতা। আবার কানাডা প্রবাসী শিল্পী ডালজিত্ করের কাজে ছিল পাঞ্জাবের ফোক মোটিফের ইতিকথা। এভাবেই শিল্পীরা তাদের কাজে প্রকাশ করেছেন নিজস্ব ধারা ও ভাষা। মূলত নারী জীবনের জয়গান! অকাল প্রয়াত শিল্পী অমৃতা শেরগিলের জীবন ও দর্শনের কথা তুলে ধরেন ড. সরোজ চামান। ২৯ বছর বয়সী শিল্পীর অসামান্য কীর্তিময় জীবনের সরলতা ও প্রাজ্ঞময়তার কথা তুলে ধরেন বিশিষ্ট শিল্পী ও সমালোচক প্রফেসর প্রেম সিং। প্রেম সিং বলেন, ইউরোপীয় ধারায় অনবদ্য কাজ করার সাফল্যের পরও শেরগিল তাঁর স্বদেশপ্রেমে ছিলেন দৃঢ় মনোবলসম্পন্ন। পরবর্তী সময়ে তাঁর কাজে ভারতীয় চিত্র-রীতি ও সরলতার এক অদ্ভুত সমন্বয় দেখা যায় যা একজন শিল্পীর পক্ষে মোটেই সহজসাধ্য নয়। এছাড়াও তিনি বলেন- ‘শেরগিলের কাজে সাদা রঙের ব্যবহার এক অপরূপ দ্যোতনা সৃষ্টি করে..., শেরগিল তাঁর কাজের মাঝেই চিরদিন বেঁচে থাকবেন।’
‘উই’ গ্রুপের সভাপতি শিল্পী সাধ্না সাংগার বলেন, ‘উই’ নারী শিল্পীদের জাগরণে কাজ করে যাবে, নারী শিল্পীদের জন্য প্রতিবছরই চন্ডীগড়ে ‘উই’ বিশ্ব নারী দিবসে তাদের উদ্যোগ অব্যাহত রাখছে এবং নারী শিল্পীদের শিল্প প্রকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখছে ‘উই’!
