নারী নিজেই রচনা করবে তার পথরেখা

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৩, ১৯:৪৮
বর্তমান যুগ প্রতিযোগিতার যুগ। প্রতিযোগিতার এই যুগে টিকে থাকতে হলে শুধু পুথিগত জ্ঞানই যথেষ্ট নয়। জীবনে চলার পথে প্রতিমুহূর্তে আমাদের বাধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ভালো স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে চাকরি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বহু পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। চাকরি পাওয়ার পরীক্ষায় লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর মধ্যে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের মধ্যে দিয়ে প্রথম শতজনের মধ্যে স্থান করে নিতে পারলে তবেই একটা চাকরি পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেও অনেকে বেকার ঘরে বসে রয়েছে, তাদের চাকরি নেই। দিন দিন এই প্রতিযোগিতা আরও বাড়ছে। বর্তমান যুগের নারীদের তাই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তার প্রসু্ততি শুরু করতে হবে ছোটবেলা থেকেই। আমরা এসএসসি, এইচএসসিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ শিক্ষাজীবনে বহু সময় কাটাই বসে থেকে। সেশন জটের কারণে অনেক মাস পার করতে হয় কিছু না করেই। অনার্সের এক বর্ষের পর আরেক বর্ষের ক্লাস শুরু হতে বেশ দেরি হয়। সে সময় নষ্ট না করে নানা ধরনের কোর্স আমরা করতে পারি। মাধ্যমিক পর্যায়ের পর থেকেই হতে পারে সে চর্চার শুরু। ব্রিটিশ কাউন্সিলে, আন্তর্জাতিক ভাষা ইন্সটিটিউটে ইংরেজি, জার্মান, জাপানিসহ নানা ভাষার ওপর কোর্স করা যেতে পারে। কৈশোরবেলার সেই সময় নতুন ভাষা শিক্ষার জন্য আদর্শ। যে জ্ঞান ভবিষ্যতে নানা দেশে উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। শুধুমাত্র জাপানি ভাষা জানা না থাকায় হয়ত সেখানে আর মাস্টার্স করতে যাওয়া হবে না! জীবনের সেই সুযোগ যেন না হারায় সে কথা চিন্তা করে নারীদের স্কুল-কলেজে অধ্যয়নের সময় থেকেই নিজের পথে এগিয়ে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে কোন বাধাই উচ্চতর শিক্ষার পথকে রুদ্ধ করতে পারবে না। এছাড়াও ছোটবেলা থেকেই পত্রিকা পড়ার অভ্যাসটি নিজের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে। পত্রিকা পড়ার কোন বিকল্প নেই। নিজের জগেক ছোট্ট ঘরের বাবা, মা, ভাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে না রেখে ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রতিটি নারীর জানতে হবে সারা দেশে কি হচ্ছে, সারা বিশ্বে কি হচ্ছে। সেই যুগে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে তার কি করতে হবে। তবেই তাকে কেউ আর গৃহের মধ্যে আটকে রাখতে পারবে না। নানা পত্রিকায় একই ঘটনা নানাভাবে লেখা হয়, তা বিচার বিশ্লেষণ করে সারমর্ম ভাবার চেষ্টা করতে হবে। নিজের এই জ্ঞানগুলোই কাজে লাগবে চাকরি জীবনে। চাকরিতে গিয়ে নানা মানুষের নানা ধরনের ব্যাখ্যা থেকে খুঁজে বের করতে হবে সঠিক সমস্যাটি ও তার সমাধান। অনেক সময় শুধুমাত্র তথ্যের অভাবে নারীরা অনেক কোর্সে অংশ নিতে পারে না । পুরুষরা তাদের বড় ভাইয়ের দেখানো পথানুযায়ী এগিয়ে যেতে পারে। কিন্তু নারীদের জন্য সে সুযোগও কম। সেই তথ্য যোগাড় করার জন্যও তাদের নির্ভর করতে হয় পুরুষদের উপর। নিজের উপর আত্মবিশ্বাসের অভাবে নানা ধরনের ভাষা, গবেষণাধর্মী, পরিসংখ্যানগত কোর্সে অংশ নেয়া থেকে নারীরা নিজেদের বাঁচিয়েই চলে। তা কখনই উচিত নয়। এখন ইন্টারনেটের যুগ। একটু ঘাটলেই তারা তাদের প্রয়োজনীয় সব তথ্যই খুঁজে পেতে পারে নেটে। যা থেকে আগ্রহ অনুযায়ী বেছে নিতে পারে নিজের জন্য প্রযোজ্য কোর্স। এসব কোর্সের মাধ্যমে মেয়েদের নেটওয়ার্ক বড় করার উপায় তৈরি হয়। পরিচয় হয় নানা পেশার নানা ধরনের লোকের সাথে। যারা তাদের আরও নানা ধরনের তথ্য জানাতেও সাহায্য করবে। নারীদের নিজ নেটওয়ার্ক যত বড় হবে তা তাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিতে বেশি সাহায্য করবে। শুধুমাত্র সঠিক সময়ে জানতে না পারার কারণে যোগ্যতা বেশি থাকা সত্ত্বেও একজন নারী পিছিয়ে পড়বে না। এখন ফ্রি-ল্যান্সার হিসেবে বিভিন্ন কাজের মধ্যে দিয়ে ঘরে বসে অনেক ডলার আয় করা সম্ভব। ওডেস্ক, ফ্রি-ল্যান্সার ডট কম এসব আউটসোর্সিং ওয়েবসাইটের মেম্বার হলে তারা দেখতে পাবে ঘরে বসে কি ধরনের কাজ তারা করতে পারে। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকলে ওয়েব পেইজে নানা বিষয়ে লেখা প্রস্তুত করার মধ্য দিয়ে তারা আয় করতে পারে। ফটোশপ, এক্সেল জানা থাকলে সে সম্পর্কিত নানা কাজও রয়েছে সেখানে। তাই কম্পিউটারের বিষয়ে আগ্রহ থাকলে ওয়েবসাইট তৈরির লক্ষ্যে জাভা, পিএইচপি, এইচটিএমএলসহ নানা ভাষা শিখলে সেসব জ্ঞান তার জীবনে এগিয়ে যাবার পথকে করে তুলবে মসৃণ। বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন, ছয় মাস থেকে শুরু করে বছর দুয়েকের ডিপ্লোমা কোর্সের ব্যবস্থাও রয়েছে। নিজ কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে, সারা বিশ্বের নানা সংস্থার ওয়েব সাইট তৈরির সুযোগ যেন হেলায় না হারায়, তা দেখার দায়িত্ব প্রতিটি নারীর। তাই এসব নানা কোর্সই নারীদের জীবনে সব বাধাকে জয় করে সামনের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করবে। ছবি:দীপঙ্কর দীপু