ইতিবাচক ধারায় রফতানি বাণিজ্য

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৩, ১৯:৫৪
রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার পথে। গত বছরের তুলনায় আয়ও বাড়ছে। চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম আট মাসের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রফতানি আয়ের তথ্য বিশ্লেষণে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ফেব্রুয়ারি মাসের রফতানি তথ্য গতকাল প্রকাশ করেছে। তথ্যে দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথম আট মাসে এক হাজার ৭৪০ কোটি পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার পরিমাণের পণ্য রফতানি হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় নয় দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির নেয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মাত্র এক দশমিক ৮৬ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরের যেকোন সময়ের চেয়ে গত মাসে ভাল অবস্থানে ছিল রফতানি বাণিজ্য। এদিকে একক মাস হিসেবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। তবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক দশমিক ৩৫ শতাংশ কম রফতানি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ২২৮ কোটি ২০ লাখ ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রফতানি হয়েছে ২২৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের পণ্য। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ১৯৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পণ্য। রফতানির ইতিবাচক ধারার বিষয়ে রফতানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দা ও দেশের রাজনৈতিক খারাপ অবস্থার মধ্যেও রফতানি বাড়ছে এটা খুবই ভাল লক্ষণ। তবে গ্যাস-বিদ্যুত্ সংকট, উচ্চ সুদ হার, অবকাঠামোসহ নানামুখী সমস্যা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রফতানিকারকরা সঙ্কিত। এজন্য সামনের দিনগুলোতে আরো বেশি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে বলে তিনি মনে করেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আয়ের প্রধান নিয়ামক তৈরি পোশাক রফতানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া ও প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়ায় পুরো রফতানি খাত ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। আলোচ্য সময়ে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ওভেন পোশাক খাতে ১৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। এসময়ে ৬২৬ কোটি ১০ লাখ ডলারের রফতানি হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি। আর নিটওয়্যার খাতে রফতানি হয়েছে ৬২৯ কোটি ৭১ লাখ ডলারের। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে হোম টেক্সটাইল ও স্পেশালাইজড টেক্সটাইল লক্ষ্যমাত্রা ও প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়নি। আলোচ্য সময়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ ও প্রবৃদ্ধি হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে চা, সবজি, ফলমূল, মসলা, ফার্মাসিটিকালস, চামড়াজাত পণ্য, কসমেটিক্স, হ্যান্ডি ক্রাফট্স, সিল্ক, চট ও চটের ব্যাগ, কার্পেট, ফুটওয়্যার প্রভৃতি।