মেক্সিকোর টেলিকম জায়ান্ট কার্লোস স্লিম হেলু এ মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধনী। তার সম্পদের পরিমাণ ৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। শুধু এবছরেই নয়, কার্লোস গত চার বছর ধরে এ জায়গাটি দখল করে রেখেছেন। প্রতি বছরই বাড়ছে তার সম্পদের পরিমাণ। গত বছর কার্লোসের সম্পদের পরিমাণ ছিলো ৬৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বের ধনীদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন মাইক্রোসফটের কর্ণধার বিল গেটস (যুক্তরাষ্ট্র)। তার সম্পদের পরিমাণ ৬৭ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস কিছুদিন আগে বিশ্বের সেরা ধনীদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, প্রতি বছরই বিশ্বে বিলিওনিয়ার-এর সংখ্যা বাড়ছে।
চেইন শপ জারার মালিক আমানসিও ওর্তেগা (স্পেন) ৫৭ বিলিয়ন ডলারের মালিক হয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে আছেন। তালিকায় এর পরের চারজনই যুক্তরাষ্ট্রের। তারা হলেন ওয়ারেন বাফেট (সাড়ে ৫৩ বিলিয়ন ডলার), ল্যারি ইলিসন (৪৩ বিলিয়ন ডলার), চার্লস কোচ (৩৪ বিলিয়ন ডলার), ডিভিড কোচ (৩৪ বিলিয়ন ডলার)। এর পর আছেন হংকংয়ের লি কা-শিং (৩১ বিলিয়ন ডলার), ফ্রান্সের লিলিয়ানে বেটেনেকোর্ট (৩০ বিলিয়ন ডলার), বারনার্ড আরনল্ড (২৯ বিলিয়ন ডলার)। মজার ব্যাপার হচ্ছে ওয়ারেন বাফেট ২০০০ সাল থেকে সেরা ধনীদের তালিকায় তৃতীয় স্থান দখল করে রেখেছেন।
ফোর্বস জরিপের যে ফল প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায় যে, এ বছর বিলিওনিয়ারের তালিকায় অনেক নাম যুক্ত হয়েছে। এদের সংখ্যা ২২০ জন। আবার গত বছরের বিলিওনিয়ারের তালিকা থেকে ৬০ জনের নাম ঝরে গেছে। এর কারণ হিসেবে ফোর্বস বলেছে, এদের অনেকে মারা গেছেন, আবার অনেকে পরিবারের সাথে তাদের ব্যবসা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। এছাড়া গত বছর বিলিওনিয়ারদের মোট সম্পত্তির পরিমাণ চার দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল। এবছর তা বেড়ে ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিলিওনিয়ারদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি স্থান পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা। এদের সংখ্যা ৪৪২ জন। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বিলিওনিয়ারের সংখ্যা ৩৮৬ জন, ইউরোপের ৩৬৬ জন, আমেরিকা অঞ্চলের ১২৯ জন, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা অঞ্চলের ১০৩ জন। বিলিওনিয়ারের তালিকায় নারীরাও পিছিয়ে নেই। চলতি বছরের তালিকায় নারী বিলিওনিয়ারের সংখ্যা ১৩৮ জন। গত বারের চেয়ে ৩৪ জন বেশি। লিলিয়েন বেটেনকোর্ট বিশ্বের এক নম্বর ধনী নারী। সার্বিক তালিকায় তার নাম নয় নম্বরে। এছাড়া ইতালির মিউসিয়া প্রাডা সাড়ে ১২ বিলিয়ন ডলার নিয়ে নারী তালিকায় দ্বিতীয়, এ্যানি কক্স চেম্বার ১২ বিলিয়ন ডলার নিয়ে তৃতীয় এবং মার্গারিটা লুইস ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে আছেন। এবছর বিলিওনিয়ারের তালিকায় যেসব নতুন মুখ এসেছে তাদের সম্পদের পরিমাণ দেখে অনেকে আশ্চর্য হয়েছেন। তাদের অনেকই প্রথমবারের মতো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন সিঙ্গাপুরের রিয়েল এস্টেট জায়ান্ট রবার্ট এন্ড ফিলিপ। তার সম্পদের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। ডিজেল জিন্স-এর কর্ণধার মোগুল রেনজো রোসো ৩ বিলিয়ন ডলারের মালিক হয়ে তৃতীয় অবস্থানে এসেছেন। এ বছর আমানসিও ওর্তেগা উল্লেখযোগ্য হারে তার সম্পদের পরিমাণ বাড়িয়েছেন। এক বছরে তার বাড়তি সম্পদের পরিমাণ সাড়ে ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
