বিয়ে এবং প্রধানমন্ত্রিত্ব কোনোটিতেই আগ্রহ
নেই রাহুলের!
ভারতে যোগ্যতম বিবাহিত পুরুষদের তালিকা করলে তাতে প্রথম স্থানেই নাম আসবে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দৌহিত্র রাহুল গান্ধীর। কিন্তু সেই যোগ্যতম ব্যক্তিটিই জানিয়েছেন, খুব শিগগির বিবাহে তার আগ্রহ নেই। যদিও ২০০৪ সালে কলোম্বীয় বংশোদ্ভূত স্পেনের এক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি ফাঁস হয়। সেই সম্পর্কে বাদ সেধেছিলেন তার মা সোনিয়া গান্ধী। সোনিয়া গান্ধী চাননি রাহুল গান্ধী কোনো বিদেশিনীকে বিয়ে করুক। কারণ সোনিয়া বিদেশি হওয়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদে যেতে পারেননি।
কেবল বিয়ে নয়, প্রধানমন্ত্রী পদ গ্রহণেও তিনি তার অনিচ্ছার কথা জানিয়েছেন। অথচ কংগ্রেস দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীই চান, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস পদে রাহুলই প্রধানমন্ত্রী পদে লড়াই করুক। রাহুলের বিষয়ে কংগ্রেস দলের মুখপাত্র রশিদ আলভী জানিয়েছেন, এটা সম্পূর্ণই তার ব্যক্তিগত মন্তব্য। দলের কোনো ভূমিকা নেই। আমরা আশা করি, রাহুল গান্ধীই একদিন কংগ্রেস দলের হাল ধরবেন। রাহুল গান্ধী বিয়ে না করার বিষয়ে বলেছেন, বিয়ে করার পর তিনি সামাজিক মর্যাদা রক্ষার কাজে জড়িয়ে পড়তে পারেন। তিনি পরিবারতন্ত্রকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তার ছেলে-মেয়ে হলে তারাও রাজনীতিতে তার উত্তরসূরি হওয়ার চেষ্টা করবেন। এক্ষেত্রে পরিবারতন্ত্র একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে যেটি তিনি চান না। এছাড়া তিনি বিয়ে করলে দলের সাংগঠনিক কাজে বাধার সৃষ্টি হবে।
নির্বাচনে নাশিদের
অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয়
মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ কি আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন? নাশিদের ভক্ত এবং সমর্থকদের মধ্যে এ প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। একদিন জেল খেটে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। তবে তার নির্বাচনে অংশ নেয়া বা না নেয়া যে খুব সহজ হবে না সেটি এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ তার বিষয়ে চীন এবং ভারত জড়িত থাকার বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও দুটি দেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হচ্ছে না। নাশিদের অভিযোগ, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্যই তাকে হয়রানি করা হচ্ছে এবং গত মঙ্গলবার যে মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নাশিদের আইনজীবী এই মামলা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতের আবেদন জানান। কিন্তু আদালত ৪ সপ্তাহের জন্য মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। সরকার তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করলেও আন্তর্জাতিক চাপে সেটি পারবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়। নাশিদ তার দেশের ব্যাপারে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, চীনের সঙ্গে কোনো সামরিক চুক্তি নেই। কিন্তু মোহাম্মদ ওয়াহিদের সরকার সেই চুক্তি করছেন। তিনি চীনকে সঙ্গে নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে খেলছেন। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের বিদ্রোহের কারণে পদত্যাগে বাধ্য হন নাশিদ। এক্ষেত্রে সেনাবাহিনীসহ বিরোধীদের যোগসাজস ছিল বলে অভিযোগ নাশিদের। তবে গত আগস্টে ন্যাশনাল কমিশন বলেছে, নাশিদের সরকার পতন কোনো অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হয়নি।
কেট মিডলটনের ঘরে
মেয়ে আসছে?
পৃথিবী নামের এই উপগ্রহে সবচেয়ে পরিচিত বা খ্যাত দম্পতি মনে করা হয় ব্রিটেনের প্রিন্স উইলিয়াম এবং তার স্ত্রী ডাচেস অব কেমব্রিজ কেট মিডলটলকে। তাই তাদের কোনো বিষয়ে গণমাধ্যম কিংবা মানুষের আগ্রহ একটু বেশি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সেটা যদি রাজ সিংহাসনের উত্তরাধিকারের বিষয়ে কিছু হয় সেটা আরো বেশি মনোযোগ কেড়ে নেয়।
কোনো কিছু ভুল হলে ইংরেজিতে বলা হয়, ‘স্লিপ অব টাঙ’। অর্থাত্ ইচ্ছাকৃত নয়, মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে এমন বক্তব্য। আর সেটাই হলো পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ডাচেস অব কেমব্রিজের। জন্মের আগ পর্যন্ত অনাগত সন্তানের লিঙ্গ সম্পর্কে না জানানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতকর্তা অবলম্বন করার পরও ভুল করে এটি জানালেন রাজপুত্রবধূ। তবে এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি উইলিয়ামের কার্যালয়ের মুখপাত্র। আগামী জুলাই মাসে ব্রিটিশ রাজপরিবারে নতুন অতিথি আসতে যাচ্ছে।
গত মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় গিমসবাই বন্দরে যান কেট উইলিয়াম। এ সময় একজন অতিথি এগিয়ে গিয়ে তাকে একটি খেলনা ভল্লুক উপহার দেন। শুভার্থীকে ধন্যবাদ জানিয়ে কেট বলেন, আই উইল টেক দ্যাট ফর মাই ড’...। এটা বলে থেমে যান। কিন্তু ‘ডি’ এর মানে যে ডটার, সেটাই হয়তো ক্ষণিকের জন্য ভুলে গিয়েছিলেন এই রাজপুত্রবধূ। পরে সামলে নিয়ে তিনি বলেন, আমার সন্তানের জন্য। পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন সান্ড্রা কুক। তিনি এগিয়ে গিয়ে বললেন, আপনি নিশ্চয় বলতে চেয়েছেন আপনার মেয়ের জন্য আপনি এটা রেখে দেবেন। তখন মিডলটন বলেন, আমি জানি না আমার অনাগত সন্তান কী হবে? আর তাদের দুজনের এই আলাপ-আলোচনা ব্রিটেনের সংবাদ মাধ্যম গত মঙ্গলবার গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে। ডেইলি মিরর জোরের সঙ্গে বলেছে, তাদের অনাগত সন্তান মেয়ে হবে। তবে উইলিয়ামের অফিস থেকে এক মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
সাহসিকতার পুরস্কার পেল
দিল্লির সেই ছাত্রী
বাঁচার জন্য অনেক আকুতি ছিল তার। পরিবারের সদস্যদের বলেছিল আমি বাঁচতে চাই। কিন্তু কয়েকজন নরপশুর আঘাত তাকে বাঁচতে দেয়নি। তবে তার এই বাঁচার সাহসই তাকে চিরদিনের জন্য বাঁচিয়ে রাখবে। তার সাহসিকতা সারাবিশ্বে নারী-পুরুষ সবার মধ্যে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে জেগে উঠতে সাহায্য করেছে। আর এজন্য দিল্লির সেই মেডিক্যাল ছাত্রী নির্ভয়াকে (ছদ্মনাম) ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ অ্যাওয়ার্ডস-২০১৩-এ (মরণোত্তর) ভূষিত করলো মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরো ৮ জন নারীর সঙ্গে তাকে এই পুরস্কারে ভূষিত করেছে। গত ৮ মার্চ শুক্রবার বিশ্ব নারী দিবসে ওই ছাত্রীকে (মরণোত্তর) এই পুরস্কার দেয়া হয়। ছাত্রীর পরিবারের কেউ উপস্থিত না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নিরূপমা রাওয়ের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।
গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ওই মেডিক্যাল ছাত্রী চলন্ত বাসে কতিপয় দুর্বৃত্তের হামলা ও গণধর্ষণের শিকার হন। এ সময় সঙ্গে থাকা বন্ধুকে প্রচণ্ড মারধর করে দুইজনকে বাস থেকে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। টানা ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে ২৩ বছর বয়সী ওই ছাত্রী মারা যান। এ ঘটনায় তখন ভারতে নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় ওঠে। দেশটিতে নারীদের নিরাপত্তা পর্যাপ্ত আছে কিনা তা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, ওই ছাত্রী ভারতে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধে গড়ে ওঠা জনপ্রিয় আন্দোলনের ভিত হয়ে উঠেছেন। পৈশাচিকতার শিকার হয়েও বাঁচার জন্য লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ‘নির্ভয়া’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ওই তরুণী লাখো ভারতীয় নারীকে সংগ্রামী হতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
— শিফারুল শেখ
নোবেল পুরস্কারের তালিকায়
মালালা ইউসুফজাই
পাকিস্তানের সাহসী কন্যা মালালা ইউসুফজাই। ১৮ কোটি মানুষের দেশ পাকিস্তানকে বেনজির ভুট্টোর পর মালালাই নতুন করে বিশ্বে তুলে ধরেছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা, তালেবানদের হামলা, দারিদ্র্য ও রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থা যখন দেশটির সব সম্ভাবনাকে ম্লান করে দিচ্ছে তখন পাকিস্তানকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছেন ১৫ বছরের কিশোরী মেয়েটি। এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়নের তালিকায় রয়েছে তার নাম। ২৫৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০৯ জন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান ৫০টি এই পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছে। আগামী অক্টোবরে চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।
২০০৭ সালে পাকিস্তানের খাইবার-পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকা দখলে নেয়ার পর মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তালেবান জঙ্গিরা। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সোয়াতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন অভিযান শুরু করে, তখন বিবিসি উর্দু বিভাগের ওয়েবসাইটে ছদ্মনামে একটা ডায়েরি লিখছিল মালালা। তালেবানদের বিরুদ্ধে শিক্ষাযুদ্ধের ঘোষণা দেয়ায় তাকে পড়তে হয় রোষানলে।
গত ৯ অক্টোবর সোয়াত উপত্যকায় তালেবান সদস্যদের গুলিতে আহত হয় মালালা। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে খুব কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ মালালাকে ১৫ অক্টোবর উন্নত চিকিত্সার জন্য লন্ডনের বার্মিংহামে এলিজাবেথ হাসপাতালে নেয়া হয় আন্তর্জাতিক চাপের মুখে। এখন সে পুরোপুরি সেরে ওঠার পথে। গত বছর পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে জাতীয় শান্তি পুরস্কার পায় মালালা। একই বছর শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করে কিডস রাইটস ফাউন্ডেশনের ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেনস পিস প্রাইজ-এর জন্য মনোনীত হয় সে। গত ১০ নভেম্বর জাতিসংঘের আহ্বানে সারা বিশ্ব মালালা দিবস পালন করেছে।
