তৃপ্ত ও কৃতজ্ঞ আশরাফুল

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৩, ২১:৩৭
এটাকে চাইলে নিয়তির খেলা হিসেবেও দেখতে পারেন। শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশ রওনা হওয়ার দু’দিন আগেও তিনি জানতেন—টেস্ট স্কোয়াডে তার জায়গা হয়নি। শেষ পর্যন্ত শাহরিয়ার নাফীসের ইনজুরিতে প্রাথমিক দলের বাইরে থেকে ডেকে দলে আনা হল তাকে; তাও একাদশ নিশ্চিত নয়! সফরে গিয়ে ‘প্রিয় প্রতিপক্ষ’ শ্রীলঙ্কার একটি উদীয়মান দলের বিপক্ষে অনুশীলন ম্যাচে সেঞ্চুরি করলেন। তাও একাদশে জায়গা নাকি নিশ্চিত ছিল না! এই অনিশ্চয়তায় ভুগতে থাকা, সারাজীবন অধারাবাহিকতার জন্য সমালোচিত হওয়া মোহাম্মদ আশরাফুলই কাল খেলে ফেললেন দেশের সেরা টেস্ট ইনিংসটি। এখন দেশের ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১১ রান দূরে দাঁড়িয়ে। যে আশরাফুল ছিলেন অনিশ্চিত; তিনিই বাংলাদেশকে এখন টেনে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন অন্য এক উচ্চতায়! এটাকে নিয়তির খেলা বলবেন, নাকি আশরাফুলের জেদ বলবেন? আশরাফুল নিজে অবশ্য এটাকে ‘জেদ’ বা ‘দেখিয়ে দেয়া’ বলে মানতে রাজী নন। তিনি বরং এতোকিছুর পরও এই সুযোগটা পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন নির্বাচকদের প্রতি! দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে বলছেন, সুযোগটা পেয়েই ঠিক করেছিলেন এটা কাজে লাগাতে হবে, ‘আমাকে দলে না নেয়ায় আমি কাউকে দোষ দিতে পারি না। আমিই তো ধারাবাহিক হতে পারিনি কখনো। বরং নির্বাচকরা যে আমাকে দলে এনেছেন; এ জন্য তাদের ধন্যবাদ। আমি দেখিয়ে দেব, এমন একবারও ভাবিনি। আমি ভেবেছি, সুযোগটা কাজে লাগাতে হবে।’ সুযোগ অন্তত এক ইনিংসে এর চেয়ে ভালোভাবে তো কাজে লাগানো সম্ভব নয়! যা সম্ভব ছিল; গতকাল পর্যন্ত তা করেছেন। এখন আজকের জন্য আরেকটু স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছেন। সারাদেশের যা স্বপ্ন—সেই ১১ রান। নিজেই বলছেন, ‘ডাবল সেঞ্চুরিই প্রধাণ লক্ষ্য না। আসল লক্ষ্য দলের ইনিংসটা যতো বড় করা যায়। তবে টেস্ট ক্রিকেট শুরু করার পর থেকে ডাবল সেঞ্চুরির একটা স্বপ্ন ছিল। এখন সেটার খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। কাল চাইব যেন সেটা করে ফেলতে পারি।’ তা যদি নাও পারেন, অনেক কিছু এরই মধ্যে করে ফেলেছেন আশরাফুল। এরই মধ্যে নিজের রেকর্ড, দেশসেরা ইনিংসটা আরো লম্বা করেছেন। সেই ২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১৫৮ রানের অপরাজিত ইনিংস। আবার তিনিই সেই ইনিংস পার হবেন। এই প্রায় নয় বছর সেই রেকর্ডটা টিকে ছিল। আশরাফুল নিজেও ভাবতে পারেননি তার ১৫৮ রানের ইনিংসটা এতো লম্বা আয়ু পাবে, ‘আমি নিশ্চিত ছিলাম, সাকিব বা তামিম এটা ভেঙে ফেলবে। ওরা কাছে গিয়েও পারেনি। তবে ওরা এটা ডিজার্ভ করে। আশা করি, এরপর আর আমার ইনিংসের এতোদিন টিকে থাকতে হবে না!’ সেটা না থাকলে দেশেরই ভালো। আশরাফুলের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড একদিন অন্য কেউ হয়তো ভেঙে ফেলবে। সব রেকর্ডই ভেঙে যাবে। কিন্তু ২০০১ সালে যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করেছিলেন; সেই দলের বিপক্ষে যে দাপট দেখালেন ক্যারিয়ার জুড়ে; তার কী তুলনা হবে?