বাঘাইহাট বাজারে আজও আসে না পাহাড়িরা, চলে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৩, ২১:৪১
২০১০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পাহাড়ি ও বাঙালিদের মাঝে এক ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটে বাঘাইহাটে। এতে নয়টি গ্রামের ৪১৮টি পাহাড়ি ও ৫৭টি বাঙালি পরিবারের বাড়িঘর পুড়ে যায়, নিহত হন গুচ্ছগ্রামের বুদ্ধপুদি চাকমা (৩৫) ও তিন দোজরী গ্রামের লক্ষ্মী বিজয় চাকমা (৩৮)। আহত হন কমপক্ষে অর্ধশতাধিক পাহাড়ি ও বাঙালি। আশ্রয়হীন হয় দেড় হাজার পাহাড়ি-বাঙালি পরিবার। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্থানীয় পাহাড়িরা কয়েকটি দাবিতে বাঘাইছড়ি উপজেলার বৃহত্তম বাঘাইহাট বাজার বর্জনের ডাক দেয়। সেই ঘটনার পর পেরিয়ে গেছে তিন তিনটি বছর। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। পাহাড়ি ও বাঙালিরা শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করছে। কিন্তু আজও বাঘাইহাট বাজার বর্জন অব্যাহত রেখেছে পাহাড়িরা। সাপ্তাহিক হাটও বসে না। ইতিমধ্যেই অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী বাঘাইহাট বাজার থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন । বাজারটি বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন । পাহাড়িদের অভিযোগ, তারা যে দাবি করেছিল প্রশাসন সেগুলো পূরণ করেনি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাঘাইহাট বাজার বর্জন চলবে। অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, পাহাড়িদের অযৌক্তিক দাবি প্রশাসনের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাঘাইহাট বাজার চালু করার জন্য প্রশাসন পাহাড়ি ও বাঙালিদের নিয়ে ১৫ থেকে ২০ বার বৈঠক করে। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি তারা। অন্যদিকে ঐ সহিংস ঘটনার পর পাহাড়ি ও বাঙালিদের পক্ষ থেকে একে অপরকে দোষারোপ করে পাল্টাপাল্টি মামলা করা হয়। পাহাড়িদের পক্ষে হত্যা মামলা করেন সহিংসতায় নিহত বুদ্ধপুদি চাকমার স্বামী উত্তম কুমার চাকমা। এ মামলায় ২৫ জনকে আসামি করা হয়। আর বাঙালিদের পক্ষে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ শতাধিক পাহাড়িকে আসামি করে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ এনে পাল্টা মামলা করেন মোঃ দেলোয়ার হোসেন। গত তিন বছরে এই দুই মামলার একজন আসামিকেও ধরা হয়নি। বাঘাইহাট বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ নাজিম উদ্দিন বলেন, পাহাড়ি অধ্যুষিত এলাকায় অবস্থিত বাজারটি বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। ইতিমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা গুটিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা বলেন, বাজার চালু করার জন্য আমরা আবার প্রশাসনের সঙ্গে পাহাড়ি-বাঙালিদের বৈঠকের আহ্বান জানাব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, বাঘাইহাট বাজার চালুর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি আবার উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।