তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, জামায়াত-শিবির দেশের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডবের মধ্য দিয়ে ‘সন্ত্রাসবাদী ও জঙ্গিবাদী’ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সরকার সন্ত্রাস দমন আইনে দলটিকে নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করছে। সরকার ইসলাম বিরোধী কোন ভূমিকা রাখেনি। গতকাল রবিবার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, যেসব স্থানে হামলা ও পুলিশের গুলির ঘটনা ঘটেছে সেসব স্থানে নির্বাহী তদন্ত হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে এসব বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা নেবে। দেশের কয়েকটি স্থানে চোরাগুপ্তা হামলা হয়েছে। এসব স্থানে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতা ছিল কি-না তাও দেখা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। কি কি কাজ করলে একটি দলকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করা যায়, আইনে সেগুলোর উল্লেখ রয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সবকিছু খতিয়ে দেখছি। ধীরে সুস্থে করছি, যেন প্রশ্ন না ওঠে। কেউ যেন আহত না হয়। পেনাল কোডের ‘রাইট টু ডিফেন্স’ অনুযায়ী নিজেদের রক্ষা করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে পারবে।
মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধের মামলার রায়ে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে হামলা-ভাংচুর- অগ্নিসংযোগ করে দলটির কর্মীরা। এসব ঘটনায় সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন। জামায়াত শিবির কর্মীরা রেল লাইন উপড়ে ফেলেছে, বিদ্যুত্ কেন্দ পুড়িয়ে দিয়েছে, চলন্ত বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, সরকারি স্থাপনায় হামলা করে দলিল-দস্তাবেজ ও মূল্যবান সামগ্রী ধ্বংস করেছে, পুলিশ স্টেশনে হামলা করে পুলিশ সদস্যদের হত্যা করেছে, রাস্তা কেটে ফেলেছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মানুষের বাড়িঘরে হামলা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। এসবই সন্ত্রাসী-অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড। জামায়াত শিবিরের কর্মকাণ্ড দেখে এটা ফুটে উঠছে যে, তারা সন্ত্রাসবাদী, জঙ্গি দলে রূপান্তরিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমার দেশ পত্রিকা মিথ্যাচার করছে। তারপরেও আমরা ধৈর্য সহকারে গণমাধ্যমের মূল্য দিচ্ছি। আমরা এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চাই না যাতে প্রশ্ন উঠতে পারে বা আপনারা (সাংবাদিক) আহত হন।
