বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চেক প্রজাতন্ত্র। এজন্য উভয় দেশের সরকার একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হচ্ছে। এটি হলে উভয় দেশের জনগণই উপকৃত হবে। গতকাল এক সেমিনারে চেক প্রজাতন্ত্রের উচ্চ পর্যায়ের একটি ব্যবসায়ীক দল এ আগ্রহের কথা জানিয়েছে।
রাজধানীর চেম্বার ভবনে ওই সেমিনারের আয়োজন করে মেট্রোপলিট্রন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজ (এমসিসিআই)। ‘এক্সপ্লোরিং অপরচুনিটিজ :চেক রিপাবলিক-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ শীর্ষক সেমিনারের পরিচালনা করেন এমসিসিআই প্রেসিডেন্ট রোকেয়া আফজাল। এতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন ব্যারিস্টার নিহাদ কবির। পরে চেক প্রজাতন্ত্রের অর্থনৈতিক অবস্থা, বিনিয়োগের পরিবেশ, রফতানির জন্য উপযুক্ততা প্রভৃতি বিষয় তুলে ধরেন সেদেশের ব্যবসায়ী নেতারা। সেমিনারে অন্যদের মধ্যে চেক প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত মিলোস্লাভ স্টাসেক, সেদেশের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী মার্টিন কুবা, যোগাযোগ উপমন্ত্রী জিরি জ্যাক, ইকোনমিক চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি পেট কুজেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে বাংলাদেশ ও চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়। এসময় বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে বাংলাদেশকে সহায়তার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চেক প্রজাতন্ত্র বিশেষভাবে আগ্রহী। বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র চিহ্নিত করতেই ব্যবসায়ীদের এ দল বাংলাদেশ সফরে এসেছে।
রোকেয়া আফজাল বলেন, প্রায় ১৬ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় স্থান। সরকারের সমন্বিত আর্থিক নীতির ফলে দেশের জনগণের ক্রয় ক্ষমতা ও গুণগতমানের পণ্যের চাহিদা ব্যাপকহারে বাড়ছে। বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক শিল্পের পাশাপাশি জাহাজ নির্মাণ, ওষুধ, চামড়া, আইসিটি, অবকাঠামো, জ্বালানি ও বিদ্যুত্খাতে যদি চেক প্রজাতন্ত্র বিনিয়োগ করে তাহলে উভয় দেশই লাভবান হবে। সেমিনারের পরে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, ২০১১-১২ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮১ দশমিক ৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ চেক প্রজাতন্ত্রে মূলত তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং বাই সাইকেল রফতানি করে থাকে। অপরদিকে সেদেশ থেকে কেমিক্যাল, আয়রন ও স্টীল, রেলওয়ে লুকোমোটিভ, মেশিনারী পণ্য প্রভৃতি আমদানি করা হয়।
