দিল্লি ধর্ষণ :প্রধান আসামির কারাগারে আত্মহত্যা

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৩, ২০:১১
দিল্লি¬র বাসে প্যারামেডিক্যাল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার সেই আলোচিত মামলার প্রধান আসামি বাসচালক রাম সিং তিহার জেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিহার জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার ভোর ৫টার দিকে নিজের পোশাক গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন রাম সিং। তার লাশ দিল্লি¬র দিন দয়াল উপাধ্যায় হাসপাতালে রাখা হয়েছে। পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, সোমবার ভোরে কারাগারে নিজের কক্ষে আত্মহত্যা করেন রাম সিং। “এটা সত্য যে, সে মারা গেছে।” গত ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বন্ধুর সঙ্গে সিনেমা দেখে ফেরার সময় একটি বাসে গণধর্ষণের শিকার হন ২৩ বছর বয়সী ওই ছাত্রী। ধর্ষণের পর সেই তরুণী ও তার বন্ধুকে ব্যাপক মারধর করা হয়। পরে চলন্ত বাস থেকে তাদের দুজনকে ছুঁড়ে ফেলে বাসের চাকায় পিষ্ট করে মারার চেষ্টা হয় তাদের। সেই ঘটনার দুই সপ্তাহ পর ২৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের এক হাসপাতালে মারা যায় ধর্ষিতা ওই ছাত্রী । এ ঘটনা নাড়িয়ে দেয় পুরো ভারতকে। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতায় এবং ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে ভারতজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। টানা বিক্ষোভের মধ্যে বাসচালক রাম সিংসহ ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। গত মাসে দ্রুত বিচার আদালতে তাদের পাঁচজনের বিচার শুরু হয়। অন্যজন প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় কিশোর অপরাধ আদালতে তার বিচার চলছে। এ মামলার প্রধান আসামির মৃত্যুতে নিহত তরুণীর ভাই সাংবাদিকদের বলেন, “তার বিরুদ্ধে যে মামলা তাতে তার ফাঁসি হবে-এ কথা তিনি জানতেন। “তবে তার মৃত্যুর খবরে আমি খুশি হইনি। কারণ আমি চেয়েছিলাম তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারা হোক। তার এভাবে মৃত্যুতে বিচার পাওয়া হলো না। বাকিদের মৃত্যুদণ্ড হবে বলে আশা করি।” দক্ষিণ দিল্লি¬র একটি বস্তিতে থাকতেন রাম সিং। প্রতিবেশীদের বর্ণনায়, রাম সিং ছিলেন বদমেজাজী ও মদ্যপ। এক তরুণী জানান, প্রায়ই মারামারিতে জড়িয়ে পড়তেন তিনি। তার এক আত্মীয়ও তার স্বামীর সঙ্গে রাম সিংয়ের মারামারির বর্ণনা দেন। ২০০৯ সালে এক দুর্ঘটনায় ডান হাত ভেঙে যায় রাম সিংয়ের। তখন তার হাতে রড ঢুকিয়ে দেন চিকিত্সকরা। তারপরেও বাস চালাতেন রাম। এক সময় তাকে টেলিভিশনের এক রিয়েলিটি শোতেও দেখা যায়। ক্ষতিপূরণ নিয়ে বাস মালিকের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে সে সময় টেলিভিশনের আলোচনাতেও এসেছিলেন এই চালক। অন্যদিকে বাসমালিক তার বিরুদ্ধে মাতলামি, দায়িত্বে অবহেলা ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগ করেন। সেই তরুণীকে সম্মান জানালো যুক্তরাষ্ট্র:শুক্রবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে তাকে ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। বিশ্বব্যাপী নারী অধিকার রক্ষায় নেতৃত্বদানকারী আরো আট নারীকেও এ পুরস্কার দেয়া হয়। শনিবার এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহণের জন্য ওই তরুণীর পরিবারের কেউ উপস্থিত না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত নিরুপমা রাওয়ের হাতে তা তুলে দেয়া হয়। ওই তরুণীকে ‘সাহসী ও নির্ভয়া’ আখ্যায়িত করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এসময় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ওই তরুণীকে সম্মান জানিয়ে জন কেরি বলেন, “তার লড়াই তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত অপরাধীদের বিচার দাবি করে ভারতসহ সারাবিশ্বে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে নারী-পুরুষের একসঙ্গে কাজ করার যে অনুপ্রেরণা তিনি দিয়ে গেছেন তার জন্য আমরা তাকে অসামান্য সাহসী নারী হিসেবে সম্মান জানাচ্ছি।”