পাকিস্তানে খ্রিস্টান বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৩, ২০:১২
পাকিস্তানের লাহোরে এক খ্রিস্টান কলোনিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দেশটির শত শত খ্রিস্টান নিরাপত্তার দাবিতে রবিবার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয় বলে জানা গেছে। দেশটির বিতর্কিত ধর্মাবমাননারোধী আইনের (ব্লাসফেমি ল) সঙ্গে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। লাহোর ও করাচিতে পুলিশ শূন্যে গুলি ছুঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গের চেষ্টা করে। এতে বিক্ষোভকারীদের ভেতরে আতঙ্কের সৃষ্টি হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অধিকারকর্মীরা বলছে, পাকিস্তানের ধর্মাবমাননারোধী আইন ব্যাপকভাবে দেশটির ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে খ্রিস্টান, আহমদিয়া এবং মুসলিম শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুক্তিহীন নানা অজুহাতে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। লাহোরে সেইন্ট জোসেফ কলোনির কাছাকাছি বিক্ষোভরত খ্রিস্টানরা বাসের জানালা ভেঙ্গে দেয় এবং পুলিশের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এই সেইন্ট জোসেফ কলোনিতেই অগ্নিসংযোগ করা হয়। একই কারণে পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিতেও খ্রিস্টানরা বিভিন্ন যানবাহনে হামলা চালিয়ে বিক্ষুব্ধ প্রতিবাদ জানায়। পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুঁড়ে বিভিন্ন দোকানের জানালার কাঁচ ভেঙ্গে ফেলে। লাহোরের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা রাই তাহির জানান, ‘আমরা তাদের শান্তিপূর্ণভাবে সামলানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা পুলিশের ওপর পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। এরফলে আমাদের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।’ এছাড়াও পাঞ্জাবে খ্রিস্টানরা ছোট পরিসরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছে। পাঞ্জাবের আইনমন্ত্রী খ্রিস্টানদের বিক্ষোভের সমালোচনা করে বলেন, “যারা অগ্নিসংযোগ করেছে তাদের আমরা ফাঁসিতে ঝুলাবো। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া খ্রিস্টানদের উচিত নয়।” রাই তাহির জানিয়েছেন, খ্রিস্টান কলোনির বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লাহোরে সন্দেহভাজন ১৫০ মুসলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে।