মস্তিষ্কের খাবার!

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৩, ২১:১৩
সুস্থ স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে হলে আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজন হয় সুষম খাদ্যের। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানি শরীরের কোষ সজীব থাকে। ফলে কর্মক্ষম থাকে মন ও শরীর। আশ্চার্যজনক হলো শরীরের হার্ট, ফুসফুস, কিডনি, লিভার এসব ভাইটাল অরগানের জন্য কোন স্পেশাল খাবার বা পুষ্টির প্রয়োজন হয় না। কিন্তু শরীরের অন্যতম অপরিহার্য ভাইটাল অরগান ব্রেইন-এর জন্য অন্যান্য অরগানের চেয়ে দ্বিগুণ খাদ্য শক্তির প্রয়োজন হয়। তা না হলে ব্রেইন সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। মস্তিষ্ক সতেজ ও সচল রাখতে তাই প্রয়োজন হয় কিছু বিশেষ ধরনের খাবার। আমরা সাধারণত: সকালের নাস্তার পর অনেক ক্ষেত্রে কফি, চা পান করতে অভ্যস্ত। কফির মধ্যে থাকে ক্যাফেইন। এই ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে সাময়িকভাবে সতেজ রাখতে পারে। কফি ও চায়ের অবিচ্ছেদ্য উপাদান চিনি বা গ্লুকোজ মস্তিষ্ক সতেজ ও উজ্জীবিত রাখতে পারে সাময়িকভাবে। তাই কফি, চা পানের পর কাজের খানিকটা গতি আসলেও তা থাকে না দীর্ঘক্ষণ। তাই অনেকে কিছুক্ষণ পর পর চা কফি পান করেন। কিন্তু আপনি যদি সকালের নাস্তার পর এক গ্লাস ফ্রেশ ফলের রস বা জুস পান করেন তাহলে সারাদিন থাকতে পারেন সজীব। ব্রেইনও থাকে অ্যাকটিভ। ফলের রসের সুগার মলিকিউলস ধীর গতিতে ক্ষয় হয়। ফলে মস্তিষ্কের জ্বালানি সুগার নির্গত হতে থাকে দীর্ঘক্ষণ। দেহমন সতেজ থাকে সারাদিন। পাশাপাশি আপনি যদি মাছ, মাংস, ডিম আহার করেন তাহলেও শরীরে শক্তি যোগায় সাময়িক। দুপুরের খাবারেও রাখুন কিছু ব্রেইন ফ্রেন্ডলি খাবার। ডিম, চিকেন, ফিস, সবজি, সালাদ, তাজা ফল রাখা ভালো। ডিমের সাদা অংশের মধ্যে রয়েছে অধিক পরিমাণ কলিন নামক উপাদান, যা ব্রেইনের শক্তি যোগাতে পারে অনেক বেশি। রাতে অধিক খাবার আহার না করে দুপুরের খাবার খানিকটা বাড়িয়ে নিতে পারেন। মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড মস্তিষ্কের গঠনে সহায়ক। এধরনের ফ্যাট আমাদের আবেগ অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ভালো চিন্তায় উদ্বুদ্ধ রাখে। প্রতিদিন অন্তত: ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান স্ট্রেস হরমোন হ্রাসে সহায়ক। ফলে হতাশা কমে। ক্যাফেইনযুক্ত টি-এর পরিবর্তে গ্রীন টি খেতে পারেন। এটা মস্তিষ্ক হালকা করে, মন থাকে প্রফুল্ল। সফট ড্রিংস, মডারেট অ্যালকোহলও মস্তিষ্ককে সাময়িকভাবে সতেজ করলেও এর কোন দীর্ঘ মেয়াদি প্রভাব নেই। এসব পরিহার করা ভালো। তাই মস্তিষ্ক সতেজ রাখতে দৈনিক প্রয়োজন প্রচুর পানি পান, তাজা ফলের রস, শাক সবজি, গ্রীন টি এবং মাছ ইত্যাদি খাবার।