দলীয় নির্দেশ অমান্যের কারণে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) গতকাল সোমবার তাদের সহ-অধিনায়ক শেন ওয়াটসনসহ চার ক্রিকেটারকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে । অপর তিনজন হলেন মিচেল জনসন, উসমান খাজা এবং জেমস প্যাটিনসন। এ কারণে ভারতের বিরুদ্ধে আগামী বৃহস্পতিবার মোহালিতে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় টেস্টে খেলতে পারবেন না চারজনই। টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক ওয়াটসন এরই মধ্যে দেশে ফিরে গেছেন।
প্রথম দুই টেস্টে ভারতের কাছে হারের পর খেলোয়াড়দের কাছে ব্যক্তিগত ও দলীয় নৈপুণ্য কিভাবে বাড়ানো যায় সে ব্যাপারে সময় বেঁধে দিয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ইমেইল কিংবা ব্যক্তিগতভাবে উত্তর দিতে হবে। কিন্তু সোমবার সকাল পর্যন্ত এই তিনজন কিছু না জানিয়ে কোচ মিকি আর্থারের নির্দেশ অমান্য করেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে তৃতীয় টেস্টের জন্য বিবেচনা করতে কেবল ১৩ জন খেলোয়াড় আছে। এর মধ্যে আবার ইনজুরির কারণে ম্যাথু ওয়েডের খেলা নাও হতে পারে। ফলে ব্রাড হ্যাডিনের দলে যোগদানের পরও কেবল ১২ জন খেলোয়াড় থাকবে টিম ম্যানেজমেন্টের হাতে। তবে সিরিজের চতুর্থ ও শেষ টেস্টের জন্য শাস্তি পাওয়া চারজনকে বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আর্থার।
স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র সাড়ে তিনদিনে ইনিংস ব্যবধানে হারে অস্ট্রেলিয়া। ফলে এই চারজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক এবং ম্যানেজার গ্যাভিন ডোভিইকে নিয়ে আলোচনায় বসেন আর্থার। সেখানে এই চারজনকেই এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তাদের এই আচরণকে হতাশাজনক উল্লেখ করে আর্থার বলেন, ‘হায়াদ্রাবাদের (ম্যাচের) পরে আমরা সবাই ছিলাম দারুণ হতাশ। আমরা আলোচনা করছিলাম কিভাবে এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের অবস্থান কোথায় ছিল সে সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। (ম্যাচ শেষে) আমি খেলোয়াড়দের বললাম ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের একটা উপস্থাপনা আমার কাছে পৌঁছে দিতে। কৌশলগত, মানসিক এবং দলীয় দৃষ্টিকোন থেকে তিনটি পরামর্শ আমি তাদের কাছ থেকে আশা করেছিলাম। দুঃখজনকভাবে চারজন খেলোয়াড় কোন উত্তর পাঠায়নি।’
অস্ট্রেলিয়ার মতো পেশাদার একটি দলে এ ধরনের আচরণ কোন অবস্থাতেই মেনে নেয়ার সুযোগ নেই বলে মত দেন আর্থার। দক্ষিণ আফ্রিকান এই কোচ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘প্রতিটি সেরা দলেরই আচরণের একটা ভালো, কঠিন এবং অবশ্য পালনীয় কাঠামো থাকে। আমার মনে হয় এই চারজন খেলোয়াড় সেই কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে পারেনি। তাই তাদেরকে পরবর্তী ম্যাচের জন্য বিবেচনায় রাখা হয়নি।’
এই সিদ্ধান্তের পরেই অস্ট্রেলিয়াগামী বিমানে চড়েন ওয়াটসন। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণেই অজি সহ-অধিনায়ক সিরিজের মাঝপথে দল ছেড়েছেন এমন কথা উড়িয়ে দিয়েছে সিএ। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থাটি জানায়, সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে সময় দিতেই দেশে ফিরেছেন ওয়াটসন।
এদিকে আর্থারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনায় মুখর হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটাররা। সাবেক অধিনায়ক অ্যালান বর্ডার ফক্স স্পোর্টস নিউজকে বলেন, ‘আমি বিস্মিত। মনে হচ্ছে এটা স্কুল বালকদের সফর কিংবা এরকম কিছু। এই প্রতিক্রিয়া বাড়াবাড়ি রকমের।’ মার্ক ওয়া বলেন, ‘আমি আমার ক্যারিয়ারে এতটা বাজে সিদ্ধান্তের কথা কখনো শুনিনি। এটা তো অনূর্ধ্ব ছয়ের খেলা নয়, এটা টেস্ট ক্রিকেট।’
