অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পথে অগ্রসর হতে হবে :মজীনা

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৩, ২২:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্টদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা অব্যাহত রাজনৈতিক সংঘাত পরিহার করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়ার উপর জোর তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সহিংসতা কোন সমাধান হতে পারে না। সংঘাত, সহিংসতা আর অস্থিতিশীলতা পরিহার করা জরুরি। রাষ্ট্রদূত মজীনা গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর আমেরিকান সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তিন সপ্তাহ সফর শেষে শনিবার ঢাকায় ফিরে আসেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে পররাষ্ট্র দপ্তর, হোয়াইট হাউজ, হাওয়াই, ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বাংলাদেশ ইস্যুতে আলোচনা করেন। ঢাকা-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে তিন সপ্তাহ কর্মব্যস্ত সময় কাটান তিনি। শাহবাগের আন্দোলন, সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনা, আসন্ন নির্বাচন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যু রাষ্ট্রদূতের বিভিন্ন আলোচনায় প্রাধান্য পায় বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক সহিংসতায় ৮০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। যে কোন ইস্যুতে সংঘাত, সহিংসতা কাম্য নয়। এটি সমাধানের পথ নয়। বাংলাদেশের বেশির ভাগ জনগণ শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি চায়। সম্প্রতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আক্রান্ত হয়েছে। হিন্দুদের ঘরবাড়ি ও মন্দির ক্ষতি হয়েছে। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে আশা করি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছি। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ, নৃশংসতা ও গণহত্যার জন্য দায়ীদের বিচার সমর্থন করি। এ বিচার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে। বাংলাদেশ এ ধরনের অপরাধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও রীতিনীতি স্বাক্ষর করেছে। এগুলো মেনে চলা বাধ্যতামূলক। জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ ও তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে রাষ্টদূত মজীনা বলেন, বাংলাদেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। বিদেশি হিসাবে কোন মন্তব্য নেই। জামায়াত একটি রাজনৈতিক দল। জাতীয় সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব (দুই জন এমপি) আছে। শাহবাগে তরুণ প্রজন্মের গণজাগরণ মঞ্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শাহবাগে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি পেশ করছে। গণতান্ত্রিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ এটি। তিনি বলেন, উদ্বেগজনক পরিস্থিতি অবসান ঘটিয়ে আধুনিক, ধর্মনিরপেক্ষ, উদার গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে আরো বেশি পরিচিতি পাবে। বহির্বিশ্ব আগ্রহী হবে। নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিতে প্রস্তুত। পর্যবেক্ষণ, ভোটার তালিকা তৈরিসহ কারিগরি সহায়তা দেয়া হবে। গ্রামীণ ব্যাংক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসাবে অনন্য এই ব্যাংকটি চলুক সেটাই প্রত্যাশা। একজন গ্রহণযোগ্য ও দক্ষ এমডি নিয়োগ করতে হবে। ব্যাংকটির পরিচালনা কাঠামোও গ্রহণযোগ্য হওয়া দরকার। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক স্থানে গ্রামীণ ব্যাংকের শাখা আছে, সেগুলো চমত্কার চলছে। তিনি অকল্যান্ডে ব্যাংকটির একটি শাখা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা জানান। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ একটি মধ্য আয়ের দেশ ও সোনার বাংলাদেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন কেবল রূপকথা নয়। অনেক সাফল্য ও সম্ভাবনা আছে। এখন কানেক্টিভিটি প্রতিষ্ঠা দরকার। ভৌগলিকভাবে ভারতের পর পশ্চিম আর মিয়ানমারের পর পূর্বদিকের মধ্যখানে এই দেশ। পূর্ব ও পশ্চিমের সংযোগ স্থল বা করিডোর হতে পারে বাংলাদেশ। তৈরি পোশাক, চামড়া, ওষুধ, পাটসহ বিপুল রপ্তানি পণ্য উত্পাদন করছে বাংলাদেশ। রপ্তানি সুবিধার জন্য বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বিবেচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রক্রিয়া করছে। দ্বিপাক্ষিক ইস্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে আমাদের সম্পর্ক এখন সম্প্রসারিত গভীর ও শক্তিশালী। নতুন মাত্রায় নিতে কাজ করছি। অংশীদারিত্ব সংলাপ, সামরিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা সংলাপ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সমুদ্র সম্পদের নিরাপত্তা দিতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে সহায়তার বন্ধন সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২২ মে কোস্টগার্ডের জন্য ৩৭৮ ফুট দীর্ঘ জাহাজ হস্তান্তর করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বাংলাদেশে আসেন। পাশাপাশি হিলারি ক্লিনটনসহ নীতিনির্ধারকরাও সফর করেছেন। বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন এফ কেরিকে বাংলাদেশ সরকার সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঢাকায় এফবিআইএর অস্থায়ী কার্যক্রম চলছে। একটি স্থায়ী অফিস শীঘ্রই চালু হবে। মার্কিন পিস কোর এক সময়ে এদেশে তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম চালাতো। পিস কোর আবার প্রতিষ্ঠা করা হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে আমেরিকান সেন্টারের পরিচালক ভিরাজ লেবেলি এবং দূতাবাসের প্রেস ও ইনফরমেশন অফিসার কেলি ম্যাককার্থি উপস্থিত ছিলেন।