অরাজক অবস্থার দায় সরকারের, দ্রুত সমাধান করুন

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৩, ২২:৫০
দেশে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা, মানুষ হত্যা এবং সহিংসতায় ভীতির মধ্যে দিন পার করছে সাধারণ জনগণ। আলোচনার মাধ্যমে এ সকল সমস্যা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সমাধান করতে হবে। নইলে দেশ দ্রুতই এক অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে। সরকারকে সামনে এগিয়ে আলোচনার পথ তৈরি করতে হবে। কেননা দেশে চলমান অরাজক অবস্থার দায় সরকারের। গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে এক মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এ কথা বলেন। ‘জনবিক্ষোভ দমনের নামে নির্বিচারে মানুষ হত্যা, ইসলাম ধর্মের অবমাননা ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার’ প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত শিক্ষকদের প্লাটফর্ম সাদা দল। শিক্ষকদের এ মানববন্ধনটি অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু সেখানে আগে থেকেই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ করার দাবিতে’ অবস্থান করায় ভিসির বাসভবনের সামনে মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে সাদা দলের আহ্বায়ক ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সদরুল আমিন বলেন, যারা ইসলাম ধর্মের অবমাননা করছেন, তাদেরকে কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। দেশে এ ধরনের অবমাননা সহ্য করা যায় না। তিনি বলেন, সরকার গণবিক্ষোভ দমনের নামে নির্বিচারে মানুষ খুন করছে। পুলিশ বাহিনী কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বিরোধী দলকে পাখির মতো গুলি করে মারছে। সভ্য কোনো সমাজে এ ধরনের গণহত্যা চলতে পারে না। দেশে চলমান অরাজক অবস্থার দায় সরকারের। সারা দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকে একটি গোষ্ঠীর সাজানো নাটক বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রামুতে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় একটি দলকে দোষারোপ করা হলেও পরবর্তীতে প্রমাণ হয়েছে তা ছিল ষড়যন্ত্রের নীল নকশা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বলেন, বর্তমানে দেশে চলমান সহিংসতার দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি পরীক্ষিত সুব্যবস্থা। তাই তত্ত্বাবধায়কের অধীনেই নির্বাচন দিতে হবে। শাহবাগ মোড়ে গণজাগরণের নামে নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম। তিনি অবিলম্বে এই নাটক বন্ধ করে ইসলাম ও মহানবী (স.)-এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানান। শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক আকতার হোসেন খানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক আবুল হাসনাত, অধ্যাপক লায়লা নূর, অধ্যাপক আকা ফিরোজ আহমদ, অধ্যাপক আবদুর রশিদ, লোক প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক আতাউর রহমান বিশ্বাস, মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, ড. লুত্ফর রহমান ও ড. মঈনুল ইসলাম।