আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গঠিত শান্তি কমিটির আদলে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য বিএনপি সেফটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে নব্য রাজাকার হিসেবে বিএনপির মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচিত হলো। নতুন প্রজন্মের কাছেও বিএনপি স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত হলো। একাত্তরের ঘাতকদের রক্ষার জন্য যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল সোমবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাথে সহযোগী সংগঠনসমূহের এক যৌথ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। গত বৃহস্পতিবার বিএনপি ‘কমিটি ফর পাবলিক সেফটি’ নামে কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, একাত্তরের শান্তি কমিটির আদলে এ ধরনের কমিটি দেশের মানুষকে আবারও দেখতে হবে এটা জাতির জন্য সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। খালেদা জিয়া দেশের প্রধান বিরোধী দলের নেত্রী হয়েও যেভাবে যুদ্ধাপরাধীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তা জাতির জন্য লজ্জাজনক। যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নেয়ায় খালেদা জিয়া ইতিমধ্যে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে হানিফ বলেন, জামায়াত একটি সন্ত্রাসী দল। জামায়াত শিবিরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে নিয়ে পুলিশ বাহিনী বা আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কোনো পুলিশ সদস্যই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এর আগেও অনেক পুলিশ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। আগেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে, এবারও আনবে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী প্রতিরোধ কমিটি গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশের উপর নির্ভরতা কমে গেছে এ ধারণা সত্য নয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্যই সরকার এ কমিটি গঠন করছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেখানেই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালানো হবে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল এমপি, তাঁতি লীগের যুগ্ম আহবায়ক সাধনা দাস প্রমুখ।
