গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশের ফলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে গ্রামীণফোনের পক্ষে থ্রিজির নিলামে অংশ নেয়া অনিশ্চিত হয়েছে পড়েছে। সম্প্রতি বার্সেলোনায় ওয়ার্ল্ড মোবাইল কংগ্রেসে অংশ নেয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে গত রবিবার রাতে স্থানীয় একটি হোটেলে মতবিনিময়ে গ্রামীণফোনের চেয়ারম্যান সিগভে ব্রেক্কে এ কথা বলেন। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে টেলিনর এশিয়া অঞ্চলের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা গ্লেন ম্যানডেলিন, গ্রামীণফোনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ তাহমিদ আজীজুল হক এবং উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হাসান উপস্থিত ছিলেন।
গ্রামীণফোনের চেয়ারম্যান বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের প্রাথমিক রিপোর্টটি তারা খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছেন। এ নিয়ে তারা সরকারের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। সেখানে তারা যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন, গ্রামীণফোন গঠনের সময় টেলিনর এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব ছিল গ্রামীণ টেলিকমের। এর সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের কোন সম্পর্ক ছিল না। ফলে প্রাথমিক রিপোর্টে গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে গ্রামীণফোনের সম্পর্ক উল্লেখ করে লাইসেন্স বাতিলের যে সুপারিশ করা হয়েছে তা যুক্তিহীন।
সিগভে ব্রেক্কে বলেন, এটা প্রমাণিত যে গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে গ্রামীণফোনের কোন সম্পর্ক কখনও ছিল না, এখনও নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, থ্রিজি নেটওয়ার্ক চালু করা এখন খুবই জরুরি। কারণ এই মুহূর্তে গ্রাহক সেবায় মোবাইল ভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম (এনএফসি), মোবাইল ব্যাংকিং, মেশিন টু মেশিন ইন্টারনেট সার্ভিস চালুর জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রয়োজন। বিনিয়োগের নিশ্চয়তা না পেলে এত বড় বিনিয়োগের ঝুঁকি নেয়া যায় না। তবে তিনি বলেন, গ্রামীণফোন গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে সব সময়ই সচেষ্ট।
গ্রামীণফোনের লাইসেন্স বাতিল হচ্ছে না- অর্থমন্ত্রী
সরকার গ্রামীণফোনের লাইসেন্স বাতিল করবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, গ্রামীণফোনের লাইসেন্স বাতিলের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। তবে গ্রামীণফোনকে নিয়ে যে সংকট, তার সমাধানে বিকল্প বের করা হচ্ছে। সংকট উত্তরণে এখানে সরকারের সঙ্গে নরওয়ের সরকার, প্রয়োজনে একসঙ্গে কাজ করবে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নিজ দপ্তরে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণফোনের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সিগভে ব্রেক্কে আমার সঙ্গে দেখা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি- আমরা গ্রামীণফোনের লাইসেন্স বাতিল করবো না। কারণ, আমরা বিদেশি বিনিয়োগ চাই। তিনি বলেন, গ্রামীণফোন আমাদের দেশে বিনিয়োগ করেছে। তাছাড়া কিছু দিন আগে ১৫ বছরের জন্য তাদের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত গত রবিবার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন গ্রামীণ ফোনের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সিগভে ব্রেক্কে।
