রাজশাহীতে পুলিশকে লক্ষ্য করে হাতবোমা ছুঁড়েছে জামায়াত

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৩, ২২:৫৩
রাজশাহীতে জামায়াতের মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে পর পর তিনটি হাতবোমা নিক্ষেপ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বিকট শব্দে এগুলো বিস্ফোরিত হলেও কেউ হতাহত হয়নি। গতকাল সোমবার সকালে রাজারহাতা-হেতেমখাঁ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের সংর্ঘষে অন্তত ১০ জন আহত হন। এদিকে সহিংস ঘটনায় জড়িত অভিযোগে গত ২৪ ঘন্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া কয়েক হাজার নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে আমাদের রাজশাহী অফিস জানায়, গতকাল সকাল ১০টার দিকে নগরীর মণিচত্বর এলাকা থেকে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। রাজাহাতা হয়ে হেতেমখাঁর দিকে যাওয়ার সময় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। জবাবে মিছিলকারীদের ধাওয়া করে পুলিশ। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশকে লক্ষ্য করে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ব্যাপক ইটপাটকেল ও ককটেল বিস্ফোরণের জবাবে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল, রাবার বুলেট ও গ্যাস বোমা ছুঁড়ে। ফলে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ ঘটনায় আহত ১০ জনকে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পেছন থেকে পুলিশ বিনা উস্কানিতে গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ইমাজ উদ্দিন মন্ডল। বোয়ালিয়া থানার ওসি জিয়াউর রহমান বলেন, নাশকতার আশঙ্কায় পুলিশ মিছিলের পিছু নেয়। কিন্তু মিছিল থেকে জামায়াত-শিবির পুলিশকে লক্ষ্য করে তিনটি হাতবোমা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ বাধ্য হয়ে এ্যাকশনে যায়। এসময় লাঠিচার্জ ছাড়াও ২০/২২ রাউন্ড রাবার বুলেট, টিয়ারসেল ও গ্যাসবোমা ছোঁড়া হয় বলে তিনি স্বীকার করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রবিবার গভীর রাতে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ২ জন, শিবগঞ্জে ৪, গোমস্তাপুরে ২, নাচোলে ১ এবং ভোলাহাটে ৭ জনকে আটক করা হয়। জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় বিভিন্ন গ্রাম থেকে জামায়াত-শিবিরের ৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে উপজেলার ধান্যখোলা গ্রামের নূর মোহাম্মদ, বেণিপুর গ্রামের মমিনউদ্দীন ও উথলী গ্রামের স্বপন। গ্রেফতারকৃতদের সোমবার বিকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। টেকনাফ সংবাদদাতা জানান, সোমবার ভোরে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী জুম্মাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিবির নেতা শফিকুল ইসলাম ও তার পিতা আজিজুল রহমানকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে সড়ক অবরোধ, ভাংচুরসহ জনমনে আতংক ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সোমবার ভোরে অভিযান চালিয়ে আরো ১৪ জামায়াত-শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা পুলিশ হত্যা, অস্ত্র ছিনতাই ও সহিংসতা মামলার আসামি বলে হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন জানিয়েছেন। গত ৩ মার্চ হরতালে উপজেলা পরিষদে ডিউটিরত পুলিশের উপর জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালায় এবং পুলিশ কনস্টেবল গাজী ওমর ফারুককে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এর আগে এ মামলায় পুলিশ ৩৭ জামায়াত-শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে ১৩ জনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, জামায়াতের ডাকা হরতালে গাছ কেটে রাস্তা অবরোধ ও হরতালে নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে গতকাল সোমবার স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ সচিবসহ ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সদর থানা থেকে ৭ জন, কলারোয়া থানা থেকে ১ জন, দেবহাটা থানা থেকে ১ জন ও কালিগঞ্জ থানা থেকে ২ জনকে আটক করা হয়। আটক আ. হামিদ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব। সে উপজেলার আখড়াখোলা গ্রামের মৃত জামালউদ্দীন সরদারের ছেলে। বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ও ১৮ দলীয় জোটের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াদুদকে (৪৮) রবিবার গভীর রাতে বাগেরহাট সদর উপজেলার মেগনিতলা খানকাশরীফ এলাকার বাড়ি থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বিভিন্ন সড়কে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব, গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের উপর হামলা, হতাহতের ঘটনা, হিন্দু-বৌদ্ধ মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, গাছ কাটা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় পৃথক ৯টি মামলা হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত এসব মামলায় ৩০ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৯ মামলায় মোট আসামি আট হাজার। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। জলঢাকা (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, হরতালে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের দায়ে গতকাল সোমবার গোলাম মোস্তফা নামের এক জামায়াত কর্মীকে গ্রেফতার করেছে জলঢাকা থানা পুলিশ। সে পৌর শহরের বায়তুন নুর জামে মসজিদের খতিব। নন্দীগ্রাম (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার নন্দীগ্রামে থানা, ইউএনও অফিসসহ ১৫টি সরকারি অফিস ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএন’র গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া এবং উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ’র বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরো ৫ জন গ্রেফতার হয়েছে। গত ৯ মার্চ রাতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। করিমগঞ্জ (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, রবিবার রাতে করিমগঞ্জ থানা পুলিশ নিকলি উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আব্দুল কাইয়ুম খেলন এবং করিমগঞ্জ পৌর যুব দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাসেদ আল রাজীবকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল কিশোরগঞ্জ জেলা আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, সুন্দরগঞ্জে গতকাল আজাদুল ইসলাম (২৫) নামে এক শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ প্রামাণিকের ছেলে। সম্প্রতি বামনডাঙ্গা ফাঁড়ির ৪ পুলিশ সদস্য হত্যা, থানা ভাঙচুর, মন্দির ও বাসা বাড়িতে হামলা, লুটপাট অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমীরুল ইসলাম আলীম এবং উপজেলা চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ আলী আলমসহ ৩১২ জন বিএনপি ও জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে এ মামলায় এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। আমীরুল ইসলাম খান আলীম দাবি করেছেন, ঘটনার সাথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কেউ জড়িত ছিল না। বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করতেই এ মামলা করা হয়েছে।