আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশ নিহতের ঘটনায় কয়রা উপজেলার গোলখালি গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়েছে। ঘটনার পর থেকে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি’র যৌথ অভিযানে গ্রামের নারী-পুরুষ গ্রেফতার আতংকে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে। জনশূন্য এ গ্রামে এখন সুনশান নীরবতা বিরাজ করছে। পুলিশ নিহতের ঘটনায় আংটিহারা ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই মমিনুর রহমান বাদি হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে গত রবিবার সন্ধ্যায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ পর্যন্ত পুলিশ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—গোলখালি গ্রামের মজিদ গাজী, হাকিম গাজী, হাকিম মোড়ল ও তার ছেলে মহিউদ্দীন।
সরেজমিনে গতকাল সোমবার গোলখালি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের অধিকাংশ বাড়ি-ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। কদবানু বিবি (৭৫) নামে একজন বৃদ্ধা বলেন, রাত্তিরে খালি বাহিনীর লোকজন আইসে কয়, বাড়ির লোকজন কই গেছে?। আমার এই এত্ত বছর বয়েস হয়েছে বাবা এমন অবস্থা জীবনে দেখিনি। দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, গোলখালি গ্রামে ১৮০টি পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে বর্তমানে কমপক্ষে ১৫০ পরিবারের সদস্যরা মামলার ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। দলাদলির কারণে ও কোন্দলে জড়িয়ে এবং পুলিশের সাথে অনাকাঙ্খিত একটি ঘটনার পর থেকে গ্রামের সরদার ও গাজী বাড়ির প্রায় সকল পরিবারের সদস্যরা এখন পলাতক রয়েছে।
ঘটনাস্থলে অবস্থানরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস.এম শফি উল্লাহ বলেন, পলাতক আসামিদের ধরতে আশপাশের আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলায় অভিযান চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, আসামিরা ঘটনার পর সুন্দরবনে আশ্রয় নিয়েছেন। মূলত ঘটনায় জড়িতদের ধরার জন্য অভিযান চলছে বলে তিনি জানান। গভীর রাতে কয়রা উপজেলার গোলখালি গ্রামে আসামি ধরতে গিয়ে গত শনিবার আংটিহারা পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল মফিজুর রহমান জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের গুলিতে নিহত হন।
