দেশের দক্ষিণাঞ্চলে উচ্চ শিক্ষা বিকাশে স্থানীয় সম্পদ আহরণ, সংরক্ষণ এবং সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, যুগের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনসম্পদ তৈরি, আধুনিক কৃষি ও প্রযুক্তি শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশকে কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়া এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা সম্পূর্ণ সেল ফোনের মাধ্যমে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং মেশিনের সাহায্যে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ঐ একই দিনে ৪ ঘন্টার মধ্যে প্রকাশ করায় পরীক্ষার্থীরা অত্যন্ত সাবলিল ও নির্ঝঞ্ঝাটভাবে পরীক্ষা দিতে পেরে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছে এবং সম্পূর্ণ ভর্তি প্রক্রিয়াটি পরীক্ষার্থী-অভিভাবকসহ সকল মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সমুদয় তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কম্পিউটার ডাটা বেইজ তৈরি করা হয়েছে। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যে কোন প্রয়োজনে যে কোন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-কর্মকর্তার সকল তথ্য জানার পথ উন্মুক্ত হয়েছে এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ, ছাত্র শৃংখলা-নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং ছাত্রদের সকল কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে মনিটর করার পথ সামগ্রিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে। সকল ছাত্র-ছাত্রীকে ডাটা বেইজের আওতায় আনার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে এক নবদিগন্তের সূচনা হয়েছে। প্রতি ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীদের ২৫ জন করে গ্রুপে বিভক্ত করে সকল বিষয়ে কাউন্সিলিং করার জন্য দুইজন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিকে আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামে যুক্ত করে ৪১টি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা থেকে লাইব্রেরিতে প্রায় ৪ হাজার জার্নাল-বই রয়েছে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রয়োজন মত শিক্ষণীয় বহিঃবিশ্বের সকল তথ্য অতিদ্রুত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রিন্ট করতে পারছে। কম্পিউটারাইজড করার প্রথম ধাপ হিসেবে দ্রুতগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগসহ সাইবার সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের আধুনিক প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধশালী করতে বাংলাদেশের সর্বাধুনিক ওয়াইফাই প্রযুক্তি (তার বিহীন ইন্টারনেট) লাইব্রেরি, একাডেমিক ভবনসহ সকল ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসে সংযোগ দেয়া হয়েছে। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উত্সাহ পরিলক্ষিত হয়েছে যা মানসম্মত উচ্চ শিক্ষার দ্বার প্রশস্ত করেছে।
