সা ক্ষা ত্ কা র

পড়াতে হলে নিজেকে পড়তে হবে

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৩, ১৭:৪৬
প্রফেসর খান হাবিবুর রহমান। একজন সফল মানুষ। যার হাত ধরে পূর্ণতা পেয়েছে অনেক স্বপ্ন। অনেকের এগিয়ে যাওয়া সহজতর হয়েছে। এই মানুষটি জন্মেছেন ঝালকাঠিতে। বিভিন্ন সময় তিনি একাধিক কলেজের উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষা ক্যাডারের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তিত্ব তিনি। ১৯৭৯ সালে প্রভাষক হিসাবে কাজ শুরু করেন নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজে। এর পর একের একে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেছেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনে তিনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক ও মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি এ পদে দায়িত্ব নেন। এর আগে চার বছর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন তিনি। ইত্তেফাকের সাথে আলাপচারিতার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো। যারা শিক্ষক হবেন: যারা শিক্ষক হবেন তাদের বেশি করে পড়াশোনা করতে হবে। আন্তরিক হতে হবে পাঠদানের প্রতি। নিতে হবে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ। ক্লাসে কিভাবে পড়াতে হবে, শিক্ষার্থীদের প্রতি কেমন ব্যবহার করতে হবে। তিনি বলেন, শ্রেণীকক্ষে নিজেকে ভালোভাবে উপস্থাপন করতে হবে। পড়াতে হলে নিজেকে পড়তে হবে। নবীন শিক্ষকদের ভাষার আঞ্চলিকতা দূর করতে হবে। কথা বলতে হবে বইয়ের ভাষায়। বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভালো মানের বইপুস্তক পাঠ করতে হবে। নিতে হবে প্রশিক্ষণ: দেশে শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। অথচ শিক্ষকদের শ্রেণীকক্ষে প্রবেশের পূর্বেই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। একজন শিক্ষার্থী প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণের পর নিয়োগ দেয়া হয়। তাকে কোন প্রশিক্ষণ না দিয়েই শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য শ্রেণীকক্ষে পাঠানো হয় । এ অবস্থার পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। শ্রেণীকক্ষে পাঠানোর পূর্বে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। যারা প্রতিষ্ঠান প্রধান হবেন: যারা প্রতিষ্ঠান প্রধান বা অধ্যক্ষ হবেন তাদের অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। সার্ভিস রুল ও আর্থিক বিধিবিধান ভালো করে জানতে হবে। নেতৃত্বের গুণ থাকতে হবে। সব শিক্ষকের প্রতি সমান ব্যবহার করতে হবে। অধ্যক্ষকে হতে হবে সত্। নইলে চাকরি জীবন শেষে পেনশনকালীন অনেক ভোগান্তি পোহাতে হবে তাকে। অনেক অধ্যক্ষ ভালোভাবে আর্থিক বিধিবিধান না জেনে অর্থ ব্যয় করেছেন। পরবর্তীতে ওই সব শিক্ষককে বহু ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এমন অনেক প্রমাণ রয়েছে। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদেরও হতে হবে সত্: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এই প্রতিষ্ঠানটি না থাকলে শিক্ষা ব্যবস্থায় আরো বেশি অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম হতো। একটি প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কাজ কীভাবে চলবে, অর্থ কিভাবে ব্যয় করবে, কিভাবে পাঠদান করতে হবে-এমন বিষয় ছাড়াও ২০- এর অধিক বিষয়ে কাজ করে থাকে এ প্রতিষ্ঠানটি। কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন অনিয়ম থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারই শুধু সুপারিশ করে না, প্রতিষ্ঠান প্রধানকে কীভাবে স্কুলের দৈনন্দিন কাজগুলো করতে হবে সে বিষয়েও পরামর্শ দিয়ে থাকে এ্ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। আমি মনে করি, এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অনেক বেশি দায়িত্বশীল। এখানকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কিছু অনিয়মের কথা শোনা যায়। কর্মকর্তাদের মনে রাখতে হবে, শিক্ষার মান উন্নয়নেই আমাদের কাজ করা উচিত। সততার মধ্যে থেকেই কাজ করতে হবে।