বাংলা পল্লী গানের কিংবদন্তি আব্বাসউদ্দিনের যোগ্য উত্তরসূরি, প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ মোস্তফা জামান আব্বাসীর কন্যা সামিরা আব্বাসী স্রেফ গানের টানেই বিদেশ থেকে ছুটে আসেন প্রতিবছর। নিজের গানসহ একাধিক কাজে সম্পৃক্ত থাকেন সব সময়। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তিনি রয়েছেন বাংলাদেশে। আগামীকাল চ্যানেল আইতে ‘গানে গানে সকাল শুরু’ অনুষ্ঠানে গাইবেন তিনি। সাম্প্রতিক কাজ ও গান নিয়ে তার ভাবনা নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন অর্ক হাসান
কেমন আছেন। এবারে দেশে এসে কেমন ব্যস্ততায় কাটালেন?
খুবই ভালো আছি। বরাবরের মতো গান নিয়ে যাবতীয় ব্যস্ততা। তবে ভালো লাগছে যে, এবারের এত ব্যস্ততার মাঝেও আমার একটি গজলের অ্যালবাম তৈরি করেছি। অ্যালবামটি সংগীত পরিচালনা করেছেন সুজেয় শ্যাম। এ ছাড়া একটি মৌলিক গানেরও অ্যালবাম প্রকাশের পরিকল্পনা চলছে।
এ ছাড়া প্রবাস থেকে ফিরে, এ দেশের শোবিজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
মূল্যায়ন করতে গিয়ে আমি বলব, এ দেশের তরুণেরা আমাদের সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সাথে পরিচয় করাতে প্রস্তুত। আমি খুবই আশাবাদী মানুষ। হ্যাঁ, এটা ঠিক, অনেক চ্যানেল অনেক অসামঞ্জস্যতা দেখা দিচ্ছে কিন্তু এই অস্থিরতা সাময়িক। তরুণেরা অবশ্যই ভালো করবে। তারা সব সময়ই ভালো করবে।
এ ছাড়া আরও অনেক ব্যস্ততায় নিজেকে জড়িয়েছেন। আপনার সম্পাদনায় একটি ম্যাগাজিন বের হচ্ছে দেশের বাইরে। এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলুন।
‘পাকি’ নামের একটি লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন বের করছি। বাংলা সংস্কৃতিকে বিদেশের মাটিতে তুলে ধরতেই আমার এই প্রয়াস। এটিকে আমি বলব, লাইফস্টাইল নিয়ে বিদেশের মাটিতে প্রথম কোনো ম্যাগাজিন প্রকাশ হচ্ছে। এ ছাড়া এবারে দেশে এসে একটি চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনার কাজটিও করলাম। ‘গাড়িওয়ালা’ নামের একটি সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের কাজ করেছি।
আপনার দাদা আব্বাসউদ্দীন অসংখ্য কালজয়ী গানের সংরক্ষণ ও তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কি কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন?
হ্যাঁ, আমি শিকাগোতে প্রবাসী বাঙালিদের ভেতরে বাংলা সাংস্কৃতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য গড়েছি ‘আব্বাসউদ্দীন একাডেমী’। এ ছাড়া আমাদের সম্পূর্ণ লোক-সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরেই কাজ ও গবেষণা করছেন।
বিদেশের মাটিতে থেকে প্রবাসী বাঙালিদের ভেতরে কতটা বাঙালি চেতনা লক্ষ করেছেন? অনেক অভিযোগ পাওয়া যায়, নতুন জেনারেশনের প্রবাসীরা নাকি দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি উন্নাসিক হয়ে পড়ছে।
না এটা মোটেই ঠিক কথা নয়। আমি বলব নতুন প্রজন্ম বাংলা গান ও সংস্কৃতি নিয়ে এখন গর্ব করে। তা প্রচলনের জন্য চেষ্টা চালায়। অর্থাত্ বাংলাদেশ মানেই ‘বন্যায় থালা হাতে কোনো দরিদ্র মুখ’ এই ধারণা এখন পাল্টে গেছে। বাংলাদেশ সারাবিশ্বে একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদাহরণ। সেটিই প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছে তরুণ প্রজন্ম।
আজ ‘গানে গানে সকাল শুরু ’ অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন। কী ধরনের গান গাইবার পরিকল্পনা করেছেন?
আমি নিজে তো ক্লাসিক্যাল শিল্পী, এ ছাড়া নজরুল, কিছু পল্লী গান, রবীন্দ্রসংগীতও দুই একটা করার ইচ্ছে আছে।
