চলতি বছর সারাদেশে ৭ লাখ ২৫ হাজার হেক্টরে (১৭ লাখ ৯০ হাজার ৭শ’ ৫০ একর) পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। পাটের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৭ লাখ ৫০ হাজার বেল।
কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের ঢাকা খামার বাড়ির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, মোট জমির মধ্যে ৬ লাখ ৬০ হাজার হেক্টরে (১৬ লাখ ৩০ হাজার ২শ’ একর) তোষা জাতের এবং ৬৫ হাজার হেক্টরে (এক লাখ ৬০ হাজার ৫শ’ ৫০ একর) দেশি জাতের পাট চাষ করা হবে। তোষা পাটের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১ লাখ ৯৪ হাজার বেল এবং দেশি জাতের পাটের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৫ লাখ ৫৬ হাজার বেল।
কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী গত অর্থ বছরে (২০১১-২০১২) দেশে ৬ লাখ ৬১ হাজার হেক্টরে তোষা এবং ৬২ হাজার হেক্টরে দেশি জাতের পাট চাষ হয়েছিল। তোষা জাতের পাটের উত্পাদন হয়েছিল ৭১ লাখ ৭২ হাজার বেল এবং দেশি জাতের পাটের উত্পাদন হয়েছিল ৫ লাখ ২৫ হাজার বেল। হেক্টর প্রতি তোষা পাটের গড় ফলন ছিল ১০ দশমিক ৮৫ বেল এবং দেশি পাটের হেক্টর প্রতি ফলন ছিল ৮ দশমিক ৪৭ বেল। পাট ছাড়াও পাট সদৃশ্য তন্তু মেস্তা-কেনাফের চাষ হয়ে থাকে। এবার মেস্তা-কেনাফের চাষ লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৩২ হাজার হেক্টরে এবং উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে দু’লাখ ৬৪ হাজার বেল। গত অর্থ বছরে মেস্তা-কেনাফ চাষ হয়েছিল ৩০ হাজার ৬শ’ হেক্টরে এবং উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার বেল।
২০১০-২০১১ অর্থ বছরে ৬ লাখ ৮০ হাজার হেক্টরে তোষা এবং ৮৯ হাজার হেক্টরে দেশি জাতের পাট চাষ হয়েছিল। তোষা পাটের উত্পাদন হয়েছিল ৭৪ লাখ ১৩ হাজার বেল এবং দেশি পাটের উত্পাদন হয়েছিল ৭ লাখ ৭৪ হাজার বেল। আর মেস্তা-কেনাফ উত্পাদন হয়েছিল ২ লাখ ৭৩ হাজার বেল।
গত কয়েক বছর ভাল দাম পাওয়াতে পাট চাষিরা খুশি ছিল। কিন্তু গত দু’বছর নতুন পাট বাজারে উঠার পর দর পতন শুরু হয়। বাজারে নতুন পাটের আমদানি বাড়ার সাথে সাথে দাম কমতে থাকে। গত বছর পাটের ভরা মৌসুমে প্রতি মণ (৪০ কেজি) পাটের দর কমে ৬শ’ টাকা থেকে এক হাজার/১১শ’ টাকাতে নেমে আসে। চাষির হাতের মজুত পাট শেষ হলে দর চড়তে থাকে। ৬শ’ টাকা মণের পাটের দাম বেড়ে হয় হাজার টাকা। আর ১১শ’ টাকা দামের পাটের দর বেড়ে ১৬শ’ টাকা থেকে ১৭শ’ টাকায় উঠে। ফড়িয়া আর মজুতদারদের বাম্পার লাভ হয়।
জানা যায়, দেশের বেসরকারি পর্যায়ে স্থাপিত ছোট ছোট জুট মিলগুলো পাটের এখন প্রধান ক্রেতা। এ সমস্ত মিলের উত্পাদিত পাটজাত পণ্যগুলোর পুরোটায় রফতানি হয়ে থাকে। শহরের পাট শিল্পর কেন্দ্রগুলো ছাড়াও গ্রামাঞ্চলে এসব জুট মিল গড়ে উঠেছে। তারা সুলভ দামে শ্রমিক পাচ্ছে। এতে উত্পাদন খরচ কম হচ্ছে তাদের। গ্রাম এলাকার পুরুষদের পাশাপাশি মহিলা শ্রমিকরাও এসব জুট মিলে কাজ করছে।
