পরমাণু পরীক্ষার জের ধরে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার উপর চলমান নিষেধাজ্ঞা আরো বিস্তৃত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার বৈদেশিক বাণিজ্য বিনিময়ের প্রধান প্রতিষ্ঠান ‘নর্থ কোরিয়া ফরেন ট্রেড ব্যাংক’ এবং চার ব্যক্তির উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর ফলে পরমাণু বিতর্ক নিয়ে উত্তেজনার মাত্রা বেড়ে গেল। সোমবার নিউইয়র্কের এশিয়া সোসাইটিতে দেয়া এক ভাষণে এসব নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা টম ডনিলন। তিনি বলেন, পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে উত্তর কোরিয়া। এই ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রও হতে পারে। কিন্তু একটি পরমাণু অস্ত্রধর রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না। তিনি আরো বলেন, ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ইচ্ছুক ছিল কিন্তু এর আগে অবশ্যই পিয়ংইয়ংকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনে চলতে ‘অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ’ গ্রহণ করতে হবে। প্রতিবেশীদের হুমকি দেয়ায় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ‘স্বাভাবিক বাণিজ্য সম্পর্ক’ চালিয়ে যাওয়া চীনের উচিত নয় বলেও মন্তব্য
করেন ডনিলন। এছাড়া, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূিচর সঙ্গে জড়িত চারজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদের মধ্যে তিনজন হলেন উত্তর কোরিয়ার সমরাস্ত্র উত্পাদন ও রপ্তানি প্রধান পাক তু চুন, সমরাস্ত্র সংরক্ষণ ও সরবরাহ সংস্থার পরিচালক চু কাইয়ু চ্যাঙ এবং উত্তর কোরিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান কুক রাইওল। আলাদাভাবে উত্তর কোরিয়ার ব্যালেস্টিক মিসাইল উত্পাদন তদারকি সংস্থা ‘দ্বিতীয় অর্থনৈতিক কমিটি’র চেয়ারম্যান পায়েক সি বঙের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। এর আগে সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম রেডক্রসের হটলাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় পিয়ংইয়ং। যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া নিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে সৃষ্ট চরম উত্তেজনার মধ্যে উত্তর কোরিয়া এ পদক্ষেপ নেয়। উত্তর কোরিয়ার সামপ্রতিক পরমাণু বোমা পরীক্ষার পর দেশটির বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতা বর্ধিত করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জাতিসংঘ। নতুন এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে উত্তর কোরিয়া।
