সৈয়দপুরের পাপোষ যাচ্ছে জার্মানিতে

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৩, ২১:১৮
নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নে নারীদের তৈরি পাপোষ রফতানি হচ্ছে জার্মানিতে। সেখানে দিন দিন এ পাপোষের চাহিদাও বাড়ছে। আর পাপোষ কারখানায় কাজ করে হতদরিদ্র পরিবারের নারীরা হচ্ছেন স্বাবলম্বী। তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোটানো ছিল কষ্টসাধ্য ব্যাপার। আগে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে ছিল একমাত্র খড়ের ঘর। স্বামীর রোজগারই ছিল সংসার পরিচালনার একমাত্র ভরসা। সংসারে অভাব-অনটন সব সময় লেগেই থাকতো। কিন্তু গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে ওই পরিবারগুলো আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। আর তা সম্ভব হয়েছে একটি এনজিও পরিচালিত পাপোষ কারখানার বদৌলতে। সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নে পাপোষ কারখানাটি গড়ে তুলেছে রামনাথপুর বহুমুখী নবায়ন সংঘ (আরবিএনএস) নামে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সেখানে এলাকার হতদরিদ্র ২৫ জন নারীকে প্রথমে তিন মাসের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় পাপোষ তৈরি বিষয়ে। এরপর ওই পাপোষ কারখানায় নারীরা কাজ করছেন। সেখানে কাজ করে এখন তারা স্বাবলম্বী। এখন তাদের সংসারজীবনে স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে। তাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে লেখাপড়া করছে। ঘরে টিন ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র উঠেছে। এদের একজন লক্ষ্মীরানী (২৬)। বাড়ি বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী গ্রামে। স্বামী পরীক্ষিত দাস পেশায় জেলে। বিয়ের পর স্বামীর সামান্য রোজগারে সংসার চলতো না হতদরিদ্র পরিবারটির। এ অবস্থায় এনজিও আরবিএনএস’র মাধ্যমে ওই পাপোষ কারখানায় কাজের সুযোগ হয় তার। লক্ষ্মীরানী জানান, প্রতিদিন তারা একেকজন ১৫ থেকে ১৮টি পর্যন্ত পাপোষ তৈরি করতে পারেন এই কারখানায়। প্রতিটি পাপোষ তৈরিতে মজুরি পান ১৪ টাকা। সেই হিসেবে এখন তারা প্রত্যেক দিনে ২শ’ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত রোজগার করছেন। এখন স্বামী ও তার প্রতিদিনের রোজগারে সংসারের দৈনন্দিন চাহিদা মিটিয়ে প্রতিমাসে বেশকিছু টাকা সঞ্চয় হচ্ছে। এভাবে গত সাড়ে তিন বছরে তিনি ঘরেও খড়ের বদলে টিনের চাল তুলেছেন। জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করছেন। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। এখন আর তাদের সংসারে আগের মতো অভাব নেই। লক্ষ্মীরানীর মতো পাপোষ কারখানায় কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন সুমিত্রা দাস (২৬), আমিনা বেগম (৩৫), নূরনাহার (৩০), মজিদা খাতুন (২৮)। সকলেই হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য। সংস্থার অফিসার নিতাই রায় জানান, সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নটি ছিল অবহেলিত একটি জনপদ। আশ্বিন-কার্তিক মাসে এ অঞ্চলের মানুষের হাতে তেমন কোন কাজ থাকে না। হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যদের উপোষ করতে হতো। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটির পক্ষ থেকে ওই ইউনিয়নের হতদরিদ্র পরিবার-গুলোকে চিহ্নিত করা হয়। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা কেয়ার, বাংলাদেশের অর্থানুকূল্যে বোতলাগাড়ীতে কর্ম-সংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণ করে। চিহ্নিত হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যদের আয়বর্ধক কাজের জন্য অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। এসব কর্মমুখী প্রতিষ্ঠান বিপুলসংখ্যক হতদরিদ্র মানুষের কাজের সংস্থান হয়। তিনি জানান, পাপোষ কারখানাটিও এ ধরনের একটি উদ্যোগ। এতে ২৫ জন অভাবী নারী কাজ করছেন।