প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পড়ালেখা শেষ করে একজন শিক্ষার্থী তুমুল ভর্তিযুদ্ধের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পায়। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ সীমিত। আসন সংখ্যার অপ্রতুলতা আর অর্থের অভাবে গরিব ঘরের সন্তানদের বেশিরভাগই উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এদিকে বর্তমানে দেশের উচ্চশিক্ষার মান নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যেন টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট দেয়ার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আর উচ্চশিক্ষার নামে দেশের সরকারি বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে এক ধরনের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস। নেই পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দলীয় লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি, টেন্ডারবাজি, নিয়োগবাণিজ্য, চাঁদাবাজি, হল দখল, দলীয় অন্তর্কোন্দল, বিরোধী ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সংঘর্ষ প্রভৃতি সমস্যায় দেশের উচ্চশিক্ষায়তনগুলো আজ জর্জরিত। আবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া এবং অনির্বাচিত দলীয় উপাচার্য থাকায় বিভিন্ন সমস্যা প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের বেপরোয়া সন্ত্রাস, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিজেদের মধ্যে কিংবা বিরোধী সংগঠনের সঙ্গে প্রায়ই সংঘর্ষ লাগতে দেখা যায়। যার ফলে অনেক নিরীহ মানুষ নিহত হচ্ছে আর ভুক্তভোগী হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজকাল শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া নিয়ে ক্যাম্পাসগুলোতে কোনো আন্দোলনও দেখা যায় না।
সংঘর্ষ আর সন্ত্রাসের কারণে বর্তমানে দেশের অনেক উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ যেন দায় থেকে মুক্তি পান। এর ফলে শিক্ষার্থীরা যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সেশনজটের কবলে পড়ে—তার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিংবা সরকারের নজর থাকে না। প্রত্যেক বাবা-মাই অনেক স্বপ্ন নিয়ে তাদের সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করতে পাঠান। কিন্তু ওইসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় আঙিনায় পা দিয়ে হয়ে যায় বেপরোয়া। দলীয় লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি আর সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত হয়ে নিজের মূল্যবান জীবনকে নষ্ট করে দিচ্ছে অনেকেই। আবার ক্ষমতাসীন সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা কোনো অন্যায় ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা সরকারের ওপর মহলের নির্দেশে নেয়া হয় না কার্যকর কোনো পদক্ষেপ। মাঝেমধ্যে শুধু লোক দেখানো একটু পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়। কিন্তু এভাবে আর কতদিন ? অনেকেই বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলেই এসব সমস্যার সমাধান হবে। আবার কেউ বলেন, কোনো অন্যায় হলেই তার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। কিন্তু এসব কথা কে শোনে ! তাই উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা আর গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে আজ সময় এসেছে নষ্ট ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার। দলীয় অনির্বাচিত উপাচার্যের পরিবর্তে নির্বাচিত, সত্ ও দুর্নীতিমুক্ত উপাচার্য দিতে হবে এবং সেইসঙ্গে নিয়মিতভাবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
