স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে অর্থ ও প্রযুক্তি সহায়তা দিন

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৩, ২১:২০
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে অর্থ, জ্ঞান ও প্রযুক্তি সহায়তা দিতে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের প্রশ্নে যদি আমরা সত্যিকারভাবে আত্মনিয়োগ করি, তাহলে প্রত্যেক দেশকে তার আর্থিক জ্ঞান ভাণ্ডার, প্রযুক্তি এবং সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে রূপসী বাংলা হোটেলে পপুলেশন ডাইনামিকস বিষয়ক দু’দিনব্যাপী গোবাল লিডারশিপ মিটিং উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০১৫ সাল পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডা বিষয়ে বৈশ্বিক আলোচনায় বিবেচনার জন্য তিন দফা সুপারিশ তুলে ধরেন। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় বাংলাদেশ ও সুইস সরকার যৌথভাবে দু’দিনের এ বৈঠক আয়োজন করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের নির্বাহী পরিচালক ড. বাবাতুন্দে অসোতিমেহিন, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক উইলিয়াম লেসি সুইং, সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশনের ডাইরেক্টর জেনারেল মার্টিন দাহিনদেন, সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস, বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. কাজী খলীকুজ্জমান বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম সুপারিশে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে লাখ লাখ যুবক এবং প্রশিক্ষিত ব্যক্তিকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে ক্রমবর্ধমান যুব শ্রেণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, বিশ্বকে এসব যুব/যুব মহিলাদের বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সুতরাং শিক্ষার গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে বাজারের চাহিদা অনুসারে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। এসব যুব/যুব মহিলাদের এমন জ্ঞান ও দক্ষতা বিষয়ে পারদর্শী করতে হবে, যা ভৌগলিক সীমারেখার বেড়াজালে সীমাবদ্ধ না থাকে। দ্বিতীয় সুপারিশে প্রধানমন্ত্রী মানুষের বিচরণকে নিজস্ব আকাঙ্ক্ষা, অনিবার্য এবং পারস্পরিক কল্যাণকর হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, একে উত্পাদনশীল প্রচেষ্টা হিসেবে দেখতে হবে। তিনি বলেন, প্রাপ্ততথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মানুষের অধিকতর বিচরণ উত্স ও গন্তব্য উভয় দেশের জন্যই কল্যাণকর। বিশেষ করে অনেক উন্নত দেশের জনসংখ্যার গতিধারা পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এটা এখন বাস্তবতা। এ ধরনের বিচরণশীলতা টেকসই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটা নিশ্চিত করতে হলে একজন অভিবাসীকে উন্নয়ন এজেন্ট হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তার তৃতীয় সুপারিশে ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডায় অংশীদারিত্ব এবং সহযোগিতাকে মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নানা বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও বাংলাদেশ সবসময়ই উদ্ভাবনমূলক অংশীদারিত্ব বিষয়ে উদার নীতি গ্রহণ করে আসছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা আমাদের সম্পদের এবং সামর্থ্যের সবটুকু নিয়োজিত করেছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্বীকার করতে হবে টেকসই উন্নয়ন, নগরায়ন, জনসংখ্যার পরিবর্তনশীলতা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি পরিবর্তন এবং মৌলিক সেবার চাহিদা পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। একটাকে বাদ দিয়ে অন্যটার সমাধান সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মত স্বল্পোন্নত অর্থনীতির জন্য এগুলো অধিকতর প্রযোজ্য। তিনি ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রণয়নের সময় এসব বাস্তবতা, গতি প্রকৃতি এবং সম্ভাবনার দিকগুলোর প্রতি দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি লক্ষ্যমাত্রা নিজস্ব উদ্যোগ, সম্পদ ও সামর্থ্য দিয়ে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যখন পরবর্তী এজেন্ডায় প্রবেশ করতে যাচ্ছি, তখন গতানুগতিকতা থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের, বিশেষ করে বৈশ্বিক পর্যায়ে বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ ২০০০ সালে জাতিসংঘ সহস্রাব্দ সম্মেলনে যোগ দেয়ার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন আমিসহ উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেকেই বৈশ্বিক জনসংখ্যা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলাম। এ চ্যালেঞ্জ শুধু জনসংখ্যা হ্রাস নয়, জনসংখ্যার কল্যাণমূলক দিক এবং শ্রমশক্তির অবাধ বিচরণের বিষয়টিও প্রাধান্য পায়। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের উন্নয়ন অন্বেষায় পরিবেশের পরিবর্তন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সঙ্কট নাগরিক ও রাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। অনেক দীর্ঘমেয়াদী ধারণা ও উন্নয়ন কৌশলকে আজ সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, একইসঙ্গে বিশ্ব জনসংখ্যা যখন ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন বিভিন্ন সমাজ ও দেশ ভিন্নমাত্রার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ভৌগলিক সীমানার অভ্যন্তরে এবং বাইরে আমরা মানব ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব বিচরণশীলতা লক্ষ্য করছি। দু’দিনের এ বৈঠকে ৫১ টি দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিগণ অংশ নিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে বৈঠকটি জনসংখ্যার পরিবর্তনশীলতা, বিশেষ করে কিছু কিছু দেশের ফার্টিলিটি হ্রাসসহ উন্নত দেশের বয়স্ক জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে ভবিষ্যত কৌশল প্রণয়নে বিশ্ব উদ্যোগে ভূমিকা রাখবে।