জয়ের সমান বড় এক ড্র!

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৩, ২১:৩১
ম্যাচের চতুর্থদিনেই গল টেস্টের ভাগ্য দেখা যাচ্ছিল। পঞ্চম দিনের শেষ সেশনে শ্রীলংকার অধিনায়ক এঞ্জেলা ম্যাথুস কিছুটা উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা করলেও ম্যাচের সে ভাগ্য বদলালো না; নিষ্প্রাণ ড্রতেই শেষ হল গল টেস্ট। কিন্তু এই তথাকথিত ‘নিষপ্রাণ’ ম্যাচের মধ্যে তৈরি হল গেল বাংলাদেশের অনেক ইতিহাস; এই ম্যাচ থেকেই ঢের ঢের আনন্দের উপলক্ষ নিয়ে এখন কলম্বো যাত্রা করতে পারবে বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার ম্যাচের পঞ্চম দিনে শ্রীলংকা চার উইকেটে ৩৩৫ রান তুলে বাংলাদেশের সামনে ছুঁড়ে দেয় ২৬৮ রানের টার্গেট। এই প্রায়-অসম্ভব লক্ষ্যের দিকে ছোটেনি বাংলাদেশ। স্বাভাবিক ব্যাটিং করেই দিনের শেষ সেশনে বাংলাদেশ ১ উইকেটে ৭০ রান তোলে। এরপরও ফলাফলের কোনো সম্ভাবনা না থাকায় এক ঘন্টা খেলা বাকি থাকতেই দুই দলের অধিনায়কের সম্মতির ভিত্তিতে ম্যাচটি ড্র ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। ফলে এই প্রথম শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারল বাংলাদেশ। একের পর এক ইনিংস পরাজয়ের অবমাননা কিছুটা হলেও যেন ঘোচাতে পারল বাংলাদেশ। এই ড্র করতে শেষ সেশনে আশরাফুল ও জহুরুলের দৃঢ়তাও প্রশংসা পেতে পারে। ম্যাথুসের তৈরি করা ফাঁদে না পড়ে মোহাম্মদ আশরাফুল ও জহুরুল ইসলামের দারুণ ব্যাটিং করে গেছেন। শামিন্দা এরাঙ্গার বলে এনামুল হক বিজয় যখন ম্যাচের দ্বিতীয়বারের মতো ভালো কিছু না করেই ফিরে আসেন; দলের রান তখন ২! সেখান থেকে ৮৭ মিনিট ব্যাট করে ৪১ রানে জহুরুল এবং ৮১ মিনিট ব্যাট করে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন আশরাফুল। কাল অবশ্য দিনের দুই সেশন ছিল কুমারা সাঙ্গাকারা ও তিলকরত্নে দিলশানের। ২০০৭ সালে বাংলাদেশের কলম্বো ও ক্যান্ডিতে দুটি টেস্টে পরপর দুটি ডাবল সেঞ্চুরির পর সাঙ্গাকারা গল টেস্টে পরপর দুই ইনিংসে করেছেন দুটি সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের বিপক্ষেই রয়েছে তার চারটি সেঞ্চুরি। ২১৬ মিনিট ব্যাট করে ১০৫ রান করা সাঙ্গাকারার গতকালের সেঞ্চুরিটি ছিল ৩২তম। তারই সতীর্থ মাহেলা জয়বর্ধনেকে পেছনে ফেলে শ্রীলংকান হিসেবে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিকও বনে যান তিনি। আঙ্গুলের ইনজুরি এবং বোর্ডের সঙ্গে গোলমালের জন্য গল টেস্টেই তার খেলার কথা ছিল না। অথচ এই টেস্টে শ্রীলংকানদের ব্যাটিং লাইনআপে তিনি সবচেয়ে উজ্জ্বল। আর ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে চট্টগ্রামে দুই ইনিংসে ১৬২ ও ১৪৩ রানের দুটি ইনিংসের পর কাল পেলেন আরো একটি সেঞ্চুরি দিলশান। এই দুইজনকে অবশ্য ফিরিয়েছেন সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকদের চার উইকেটের মধ্যে তারই তিনটি। প্রথম ইনিংসে ভালো বল করা সোহাগ গাজী কাল সকালের সেশনেই পায়ে টান লেগে মাঠ ছেড়েছেন। তবে এসব পরিসংখ্যান নয়; শেষ পর্যন্ত গল থেকে বাংলাদেশের সঙ্গী শুধু অনুপ্রেরণা আর ঐতিহাসিক সব রেকর্ড।