উপস্থাপক যাই প্রশ্ন করছেন; তারা প্রথমে একটু হেসে নিচ্ছেন। প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একজন আরেকজনের দিকে চেয়ে দুষ্টুমির হাসি হাসছেন। যেন মনে হচ্ছে দুটি দুষ্টু ছেলেকে সামলাচ্ছেন টেলিভিশন উপস্থাপক। গতকাল বিকেলে পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক এই ‘দুই দুষ্ট বালক’কে সামলাতে গলদঘর্ম হলেন। তারও আগে এই দু জনকে সামলাতে গলদঘর্ম হয়েছে পুরো শ্রীলঙ্কা দল। ‘বালক’ দু জনের নাম—মোহাম্মদ আশরাফুল ও মুশফিকুর রহিম!
এই দু জনের নাম শুনলে আগামী কিছুদিন শ্রীলঙ্কান বোলারদের রাতের ঘুম বিঘ্নিত হয়ে যাওয়ার কথা। এই কথাটা উপস্থাপক বলতেই আরেকবার দু জন খুব হেসে নিলেন। তারপর মুশফিক দু জনের হয়েই কথা দিলেন, ‘আমরা আশা করি, পরের টেস্টে ঠিক এখান থেকেই ব্যাটিং শুরু করতে পারবো। আমাদের সর্বোচ্চ যা ক্ষমতা, তা দিয়েই কলম্বো টেস্টে খেলতে চাই।’
এ কথা শোনার পর শ্রীলঙ্কানরা আতঙ্কিত হবে, নাকি ক্ষুব্ধ হবে; সেটা তাদের ব্যাপার। তবে বাংলাদেশের আনন্দে আটখানা হওয়ার কথা। আগামী ১৬ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া কলম্বো টেস্টের জন্য গতকাল সন্ধায়ই শ্রীলঙ্কার রাজধানী শহরে পৌছে গেছে বাংলাদেশ দল। আর পৌছানোর আগে সংবাদ সম্মেলনে কঠোর প্রতীজ্ঞা শুনিয়ে গেছে, কলম্বো টেস্টে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার।
কলম্বো টেস্টের আলোচনা পরে। আপাতত এই টেস্ট নিয়ে ময়নাতদন্ত করতেই হচ্ছে। সে ময়না তদন্তে অন্তত তিন জন বাংলাদেশী খেলোয়াড়ের জীবনের সেরা অনুভূতিটা থাকার কথা। নাসির হোসেনের প্রথম সেঞ্চুরির আনন্দ, মুশফিকুরের দেশের ও নিজের প্রথম সেঞ্চুরির আনন্দ এবং সর্বোপরি আশরাফুলের ১৯০ রানের ইনিংসের আনন্দ।
অবশ্য আশরাফুলের এই আনন্দের চেয়ে ১০ রানের হতাশাটাও নিতান্ত কম নয়। পুরষ্কার বিতরনীতে সেই প্রসঙ্গও উঠে আসল। আশরাফুল আরেকবার খোলামেলা বলে দিলেন, খুব চাপে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি, ‘উইকেটে কিছু ছিল না। কিন্তু না কারণেই খুব চাপে পড়ে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, যতো দ্রুত সম্ভব এই ১১ রান করে ফেলা দরকার। সে জন্যই দিনের প্রথম বলেই প্যাডল সুইপ করতে গিয়েছিলাম।’ মুশফিক পাশ থেকে বললেন, ওই প্যাডল সুইপ দেখেই তার ‘হার্ট অ্যাটাক’ হওয়ার জোগাড় হয়েছিল।
আশরাফুলের এই না পাওয়া নিয়ে মুশফিকেরও কষ্ট কম নয়। তবে এই ম্যাচশেষে মুশফিক আর কোনো কষ্টের আলোচনা করতে রাজী নন। সংবাদ সম্মেলনে সোজা বললেন, এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম আনন্দের সময়। এখন এই আনন্দের সময়টা দীর্ঘায়িত করতে চান তারা। সে জন্য নিজের কষ্টকেও পাত্তা দিতে রাজী নন মুশফিক।
শারীরিকভাবে মুশফিক এই টেস্টে সবচেয়ে পরিশ্রম করা মানুষ। প্রায় চারদিন ধরে মাঠে থেকেছেন; ব্যাটসম্যান বা উইকেটরক্ষকের ভূমিকায়। কঠোর এই পরিশ্রম নিয়ে তার আনন্দ, ‘আগেও একবার ভারতের বিপক্ষে প্রায় চারদিন মাঠে ছিলাম। সেবার ম্যাচ হেরে গিয়েছিলাম। এবার ড্র হওয়াতে কষ্টটা আর টের পাচ্ছি না।’
এখন সব কষ্ট লাঘবের উপায়টাও বুঝে ফেলেছেন। সহজ উপায়, ‘দ্বিতীয় টেস্টেও যদি আমরা এভাবে খেলতে পারি, তা’হলে সিরিজ ড্র না করার কোনো কারণ নেই। সেটা করতে পারলেই আমরা আপাতত সফল।’
সেই সফলতা দেখতে চায় বাংলাদেশ।
