চার খেলোয়াড়ের বহিষ্কার

অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে গোলমেলে পরিস্থিতি

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৩, ২১:৩৩
দলীয় নির্দেশ অমান্যের কারণে চার ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) সিদ্ধান্তের পর এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যম এবং সাবেক খেলোয়াড়রা। তবে সিএ জানিয়েছে, কেবল একদিনের নয় বরং অনেক ঘটনার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে চলমান সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে শোচনীয় হারের পর দলের এবং ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য অজি কোচ মিকি আর্থার খেলোয়াড়দের কাছ থেকে মতামত জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উত্তর দেননি সহ-অধিনায়ক শেন ওয়াটসন, মিচেল জনসন, উসমান খাজা ও জেমস প্যাটিনসন। ওয়াটসন গতকাল মঙ্গলবারই ভারত থেকে দেশে ফিরে যান এবং অজি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে তিনি আর টেস্ট নাও খেলতে পারেন। এ ঘটনায় তাদেরকে নিষিদ্ধ করা হয় তৃতীয় টেস্টের জন্য। তবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে এমন কাজের জন্য এই শাস্তি মোটেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন দলের সাবেক বিশ্বকাপ জয়ী তারকা ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অস্ট্রেলীয় কোচ ড্যারেন লেহম্যান। তিনি টুইটারে বলেন,‘আমরা পূর্ণবয়স্ক, স্কুলের ছাত্র নয়।’ অপরদিকে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম এই দিনটিকে আখ্যায়িত করেছে ‘অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ঘটনাবহুল দিন হিসেবে।’ প্রায় একই ধরনের প্রতিক্রিয়া এসেছে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদপত্রগুলোর কাছ থেকেও। দলের অবস্থাকে ‘সমস্যাসংকুল’বলে আখ্যায়িত করেছে তারা। ক্রিকেট লেখক পিটার ল্যালর বলেছেন,‘অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের জন্য এটি ভীষণ বিপদের সময় এবং আমার মনে হয় এমন কিছু ব্যাপার আছে যা এখনো চোখের বাইরে রয়ে গেছে।’ ঘটনার পেছনে যে আরো কিছু আছে তা বোঝা যাচ্ছে সিএ সাধারণ সম্পাদক প্যাট হাওয়ার্ডের বক্তব্যেও। দলের কোচ এবং অধিনায়কের সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন আছে জানিয়ে হাওয়ার্ড এই ঘটনা সম্পর্কে বলেন,‘শুধুমাত্র একটি ঘটনাই পুরো ব্যাপারটাকে এত দূরে ঠেলে দিয়েছে ভাবলে ভুল হবে। অনেকদিনের ঘটনার ফলাফল হিসেবেই তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আপনি যদি এক নাম্বার হতে চান, তাহলে আপনাকে কঠিন লড়াই করতে হবে। আর তাদের (চার খেলোয়াড়) কাছ থেকে সেটাই চাওয়া হয়েছে।’ তার এই বক্তব্যের মাধ্যমেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে দলের ভিতরকার অন্তর্দ্বন্দ্ব। এদিকে এ বছরের জুলাইতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অ্যাশেজ লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ডের মাটিতে পাঁচটি টেস্ট খেলার মাধ্যমে ইতি ঘটবে লড়াইয়ের প্রথম পর্বের। আর নভেম্বর মাসে নিজেদের মাটিতে আবারো তারা মাঠে নামবে ইংলিশদের বিরুদ্ধে। ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই লড়াইয়ে নামার আগে দলের এমন অবস্থা অজিদের অ্যাশেজ প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটাবে বলে মনে করছে অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমগুলো।