বন্দরনগরীতে গণজাগরণ মঞ্চ আহূত আজ বুধবারের সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গোটা নগরীতে বুধবার ১৪৪ ধারা জারি করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। এর পরই গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে সমাবেশ স্থগিত করার ঘোষণা দেয়া হয়। ঢাকার শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও নগরীর প্রেসক্লাব চত্বরে ১৩ মার্চ সমাবেশ আহ্বান করা হলে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একই দিন চট্টগ্রামে হরতাল আহ্বান করে। এছাড়া প্রেসক্লাব চত্বরে পাল্টা সমাবেশের কর্মসূচিও ঘোষণা করে। এই পরিস্থিতিতে আজ সমগ্র নগরীতে ১৪৪ ধারা জারি করে কর্তৃপক্ষ। হেফাজতে ইসলাম তাদের কর্মসূচিও স্থগিত করে।
আজ সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ৫জন অথবা তারচেয়ে বেশি ব্যক্তির সমাবেশ, মিছিল, লাঠিসোটা ও আগ্নেয়াস্ত্র বহন করা নিষিদ্ধ করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশ ২৮, ২৯, ৩৩ ও ৩৪ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার রাতে এ নির্দেশ জারি করেন। এদিকে, গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে রাত সাড়ে ৮টায় সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগ মুহূর্তে জামালখান সড়কে দ্রুতগামী একটি গাড়ি থেকে গণজাগরণ মঞ্চ ও প্রেসক্লাব লক্ষ্য করে পরপর চারটি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বোমা বিস্ফোরণের পরই গাড়িটি দ্রুত চলে যায়। এরপর গণজাগরণ কর্মীরা এলাকায় মিছিল বের করেন। ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে মারধর করেছে গণজাগরণ কর্মীরা। এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে গণজাগরণ মঞ্চের নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে চট্টগ্রামে আজকের সমাবেশের কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন। গতকাল রাত ৯টায় সাংবাদিক সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ প্রশাসন কর্তৃক পুরো নগরীতে ১৪৪ ধারা জারি, হেফাজতে ইসলামের হরতাল এবং পাল্টা সমাবেশ আহবানের নিন্দা জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা কোন সহিংসতায় বিশ্বাসী নয়। তাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে গণজাগরণ মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সমাবেশের কর্মসূচি স্থগিত করা হলো। তারা বলেন, দেশের ওলামা মাশায়েখের সাথে গণজাগরণ মঞ্চের নেতৃবৃন্দের দূরত্ব সৃষ্টি এবং মুখোমুখি দাঁড় করানোর জন্য ফেসবুকে জামায়াত-শিবির বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছে। ধর্মীয় গোষ্ঠী কিংবা ওলামা-মাশায়েখের সাথে আমাদের কোন দ্বন্দ্ব নেই। আমাদের মূল দাবি হলো যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি এবং জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। নেতৃবৃন্দ বলেন, গণজাগরণ মঞ্চের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উস্কানি সৃষ্টির লক্ষ্যে সাংবাদিক সম্মেলন পূর্বে প্রেসক্লাব সম্মুখে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং এর সাথে জড়িত জামায়াত শিবিরের সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠক মফিজুর রহমান, সিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার, শরীফ চৌহান, ডা. চন্দন দাশ, নাজিমুদ্দীন শ্যামল, হাসান ফেরদৌস, শওকত বাঙালি প্রমুখ।
ঢাকার শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও নগরীর প্রেসক্লাব চত্বরে ১৩ মার্চ সমাবেশ আহবান করা হলে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ওইদিন চট্টগ্রামে হরতাল আহবান করে। এরই এক পর্যায়ে গত সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের নেতারা জানান, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে তারাও একই সময়ে সমাবেশ করবে। হেফাজতে ইসলাম গণজাগরণ মঞ্চের ডা. ইমরান এইচসহ অন্য সকল নেতাকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ চট্টগ্রামে প্রতিরোধ করারও ঘোষণা দেয়।
গণজাগরণ মঞ্চ ও হেফাজতে ইসলামের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ গত সোমবার সারাদিন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে বৈঠক করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হওয়ায় প্রশাসন তার সাথেও বৈঠক করেন। গত সোমবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও আওয়ামী লীগ উত্তর জেলা সাধারণ সম্পাদক এমএ সালাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সাথে মাদ্রাসায় সাক্ষাত্ করেন এবং হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন। কিন্তু আল্লামা শাহ আহমদ শফী সরাসরি তা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, ‘আল্লাহ রসুলের বিরুদ্ধে কটূক্তিকারি শাহবাগীরা চট্টগ্রামে আসলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’
অপরদিকে সিএমপির কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামও হেফাজতে ইসলামের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে সিএমপি কার্যালয়ে বৈঠক করেন এবং হরতাল প্রত্যাহারসহ প্রেসক্লাব চত্বরে তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন। কিন্তু হেফাজতে ইসলাম হরতাল প্রত্যাহার করা সম্ভব নয় জানিয়ে দেয়। একই সাথে পুলিশ কমিশনারকে প্রেসক্লাব চত্বরে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়ার জন্য পত্র দেয়।
এদিকে সিএমপির কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ গত সোমবার দুপুরে নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে তার চশমা হিলস্থ বাসভবনে বৈঠক করেন। পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রে বলা হয়, তারা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছে। সকল পক্ষের বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে রাতে আগামী ১৩ মার্চ নগরীতে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপারে তাদের পক্ষ থেকে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ধারণা দেয়া হয়। একইভাবে হেফাজতে ইসলামের অবস্থানও ব্যাখ্যা করা হয়। জানা যায়, পুলিশ হেফাজতে ইসলাম ও গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশংকার কথাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার প্রকৌশলী বনজ কুমার ইত্তেফাককে জানান, সকল পক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
জানা যায়, পুলিশের পক্ষ থেকে যেমন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা করা হচ্ছে। একইভাবে সরকারি দলসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশ করার ক্ষেত্রে তেমন সাড়া দেয়নি। অপর এক সূত্রে জানা যায়, হেফাজতে ইসলামীর হরতাল এবং একই স্থানে সমাবেশ আহবান করার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে জাগরণ মঞ্চের নেতৃবৃন্দ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম না যাওয়ার বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত হওয়ার পরই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী নগরীতে ১৪৪ ধারা জারি করার ব্যাপারে বলেন, সরকার যা ঠিক মনে করেছে তা করেছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন এবং প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশ করার ক্ষেত্রে তেমন একটা আগ্রহী নয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা করে তাদের পক্ষ থেকেও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানা যায়। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১৪৪ ধারা জারির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় গণজাগরণ মঞ্চের নেতৃবৃন্দ সারাদিন বৈঠক করেও কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নেতৃবৃন্দ গতকাল মঙ্গলবার প্রথমে বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন আহবান করে। কিন্তু এরপর জানানো হয় বেলা ৩টায় সাংবাদিক সম্মেলন হবে। কিন্তু তা পরিবর্তন করে বিকাল ৫টায় সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। বিকালে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করার জন্য। একই সাথে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে তাদের হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহবান জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, গণজাগরণ মঞ্চ থেকে কেউ ধর্মীয় ব্যাপারে কোন বক্তব্য প্রদান করেনি। বরং জামায়াত-শিবির ফেস বুকের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ওলামা মাশায়েখের মধ্যে ধর্মীয় বিষয়ে গণজাগরণ মঞ্চের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করাচ্ছে। নেতৃবৃন্দ হেফাজতে ইসলামের মধ্যে এ ধরনের জামায়াত-শিবির চক্র ঘাপটি মেরে রয়েছে কিনা তা খুঁজে দেখার আহবান জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টায় সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে গণজাগরণ মঞ্চ’র চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমন্বয়কারী শরীফ চৌহান। বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহাবুদ্দিন, সিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার, ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার হোসেন, মফিজুর রহমান, ডা. চন্দন দাশ, দেওয়ান মাকসুদ আহমদ, হাসান ফেরদৌস, সুনীল দে, মো.শাহজাহান, মিলি চৌধুরী প্রমুখ।
অপরদিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা মাঈনুদ্দিন রুহী ইত্তেফাককে জানান, যেখানে শাহবাগী নাস্তিক সেখানেই প্রতিরোধ। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিমান বন্দর থেকে রেল স্টেশন পর্যন্ত হেফাজতে কর্মীরা সজাগ থাকবে। কোন হোটেল মালিক প্রশ্রয় দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। খাদ্যসহ অন্যান্য সহযোগিতা করলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। বিকালে নগরীর আন্দরকিল্লা জামে মসজিদ থেকে হেফাজতে ইসলাম বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন তথা চট্টগ্রামের সমাবেশ প্রতিহত করতে বন্দর নগরীর প্রবেশদ্বার হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতা-কর্মীরা এখনও অনড়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ বুধবার চট্টগ্রামে ১৪৪ ধারা জারি করা হলেও তারা তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসাবে গতকাল মঙ্গলবার সকালে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। নাশকতার আশংকায় উপজেলা পরিষদ চত্ব্বরে অবস্থান নিয়েছে ২ প্লাটুন বিজিবি’র সদস্য। এছাড়া মাঠে রয়েছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। তবে আজকের হরতাল এবং গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন ও সমাবেশ নিয়ে উত্কণ্ঠায় রয়েছে এলাকার জনগণ। হাটহাজারীতে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
প্রেসক্লাবের নিরাপত্তা চেয়ে
স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে ফ্যাক্স
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা চেয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে আলাদাভাবে ফ্যাক্সবার্তা পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী পৃথকভাবে এ বার্তা পাঠান। আজ বুধবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে গণজাগরণ মঞ্চ ও হেফাজতে ইসলাম একই সময়ে সমাবেশ আহ্বান করায় এ বার্তা পাঠানো হয়েছে। ফ্যাক্সবার্তায় উল্লেখ করা হয়, নগরীর জামালখানে গণজাগরণের পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে হেফাজত ইসলাম নামে একটি সংগঠনের সমাবেশ করার হুমকি এবং ১৪৪ ধারা জারিসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি হেফাজত ইসলাম নামে ওই সংগঠনটি নগরীর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ থেকে মিছিল করে প্রেসক্লাবে গিয়ে হামলা চালায়।
গণজাগরণ মঞ্চের বিবৃতি
গণজাগরণ মঞ্চ চট্টগ্রামে সমাবেশ ঘোষণার প্রেক্ষিতে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি প্রত্যাহার করার জন্য হরতাল আহ্বান করেছে। তাদের এ অবস্থানের সুযোগে জামায়াত-শিবির চক্র সহিংসতা সৃষ্টি করে দেশব্যাপী ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। এ প্রেক্ষিতেই প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ কি প্রকারান্তরে যুদ্ধাপরাধীদের সহযোগিতাই করছে না? এমনকি দেশব্যাপী কোটি কোটি মানুষের অংশগ্রহণে গণজাগরণ মঞ্চ যে অহিংস আন্দোলন গড়ে তুলেছে সেই কোটি মানুষের আবেগকেও আক্রান্ত করছে এই নেতিবাচক অবস্থান। আমরা গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, আমরা ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সর্বস্তরের জনসাধারণের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই অহিংস গণ আন্দোলনের সাথে ধর্মীয় বিশ্বাসকে জড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। অথচ, গণজাগরণের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছে তারা আমাদেরকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়ার চক্রান্ত করছে। সারাদেশে গণজাগরণ মঞ্চে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বোমা হামলার ধারাবাহিকতায় ৮ মার্চ ঢাকায় নারী জাগরণ সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ করে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম গণজাগরণ মঞ্চের কর্মসূচিতে উপর্যুপরি বোমা হামলা করে যে সহিংসতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হচ্ছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। জামায়াত-শিবিরের হায়েনারা বার বার চেষ্টা করেও আমাদের অহিংস আন্দোলনকে নীতিচ্যুত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত সহিংসতা এড়াতে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম গণজাগরণ মঞ্চ পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত করেছে। এ প্রেক্ষিতে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে উল্লেখিত কর্মসূচি অনুষ্ঠিত না হলেও প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিনিধি দল আগামীকাল চট্টগ্রামে গিয়ে সর্বস্তরের জনসাধারণ, আলেম-ওলামা ও ইসলামী চিন্তাবিদগণের সঙ্গে আলোচনা করে গণজাগরণ মঞ্চ সম্বন্ধে জামায়াত-শিবির সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করবে। একই সঙ্গে তাদের হরতাল প্রত্যাহার করে গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের আহ্বান জানাচ্ছি।
