ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল নিয়ে দিনভর গুজব

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৩, ২২:২২
ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক বড়ি খেয়ে শিশুদের অসুস্থ হয়ে পড়ার গুজব ছিল গতকাল মঙ্গলবার দিনভর। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে ক্যাপসুল খেয়ে কোথাও কোথাও শিশু মারা গেছে। ছড়িয়ে পড়ে আতংক। নিকটস্থ হাসপাতালে শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের ভিড়। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিত্সকরা শিশুদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পান কৃমিনাশক বড়ি বা ভিটামিন ক্যাপসুল খেয়ে শিশুরা অসুস্থ হয়নি। নোয়া-খালী, চাঁদপুরসহ চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলা ও উপজেলায় অভিভাবকরা গুজবে আতংকিত হয়ে তাদের সন্তানদের নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান বলে খবর পাওয়া গেছে। পরে চিকিত্সকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শিশুদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়। কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার কোন কোন এলাকায় গুজব ছড়ায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ভারতের তৈরি। এ ক্যাপসুল মুসলমান খেলে আয়ু কমে যাবে আর হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা খেলে আয়ু বাড়বে। এ কারণে অনেক শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক বড়ি খাওয়া থেকে বিরত রাখে তাদের অভিভাবকরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ বলেন, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী এলাকা থেকে শিশুদের অসুস্থতার খবর পেয়ে বিশেষজ্ঞ দল তাত্ক্ষণিক ওই সব এলাকায় যান। শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তারা নিশ্চিত হন ক্যাপসুল খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়নি, বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন কার্যক্রম নস্যাত্ করার ষড়যন্ত্র এটি। ভিটামিন ‘এ’ কিংবা কৃমিনাশক বড়ি খেয়ে শিশু মৃত্যুর নজির নেই। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক দুই দফা পরীক্ষা করে এর চূড়ান্ত ফল আসার পর তা শিশুদের খাওয়ানো হয়। আর সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়ালি ড্রাগ উত্পাদিত কৃমিনাশক বড়ির গুণগতমান যাচাই করে শিশুদের খাওয়ানো হয়। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলে এমন কোন উপাদান নেই যা খেলে শিশুর ক্ষতি হতে পারে বলে জানান ডা. খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আবুল খায়ের চৌধুরী বলেন, ভিটামিন ‘এ’ কিংবা অন্য কোন ভিটামিন ট্যাবলেট শিশুর ক্ষতি হতে পারে এমন কোন উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়নি। শিশু মৃত্যুর খবর, শিশুদের আয়ু বৃদ্ধি কিংবা কমে যাওয়ার খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে তিনি জানান। গতকাল জাতীয় ভিটামিন “এ’ ক্যাম্পেইন দিবসে সারাদেশে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ২ কোটি ১০ লক্ষাধিক শিশুকে ভিটামিন “এ’ ক্যাপসুল ও ১ কোটি ৬৭ হাজারের অধিক শিশুকে কৃমিনাশক বড়ি খাওয়ানো হয় বলে জাতীয় পুষ্টি ইনস্টিটিউট থেকে জানানো হয়। এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, গতকাল সকালে প্রথমে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকায় ভিটামিন “এ” ক্যাপসুল খেলে মুসলমান শিশুদের আয়ু কমে যাবে বলে গুজব ছড়ানো হয়। এর পর নোয়াখালীর সেনবাগ, কোম্পানীগঞ্জ, বেগমগঞ্জ, কুমিল্লার লাকসাম, চৌদ্দগ্রাম, চাঁদপুরের কচুয়াসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় শিশু মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তাত্ক্ষণিক সিভিল সার্জন (চট্টগ্রাম) ডা. আবু তৈয়ব বিভিন্ন এলাকায় বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়ে যাচাই-বাচাই করে বিষয়টি গুজব ও ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেন। এ নিয়ে তিনি একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। পুষ্টি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. একলাসুর রহমান বলেন, গতকাল তার ইনস্টিটিউটের কেন্দে ৪৩০ জন শিশুকে ভিটামিন “এ” ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক বড়ি খাওয়ানো হয়েছে। কোন শিশু অসুস্থ হওয়ার খবর তিনি পাননি। শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেন, কৃমিনাশক ওষুধ গরমের সময় খেলে কিংবা অন্য কোন কারণে বমি হতে পারে। শিশু দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এতে মৃত্যুর ঝুঁকি কিংবা কোন ধরনের জটিলতা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে তারা জানান। যে কারণে গুজব ছড়ানো স্বাস্থ্য অধিদফতর ও পুষ্টি ইনষ্টিটিউটের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, ভিটামিন “এ” ক্যাপসুল নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান আগে অভিযোগ করেছিল যে, এ ক্যাপসুল খেলে শিশুদের ক্ষতি হবে। ওই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ওষুধ সরবরাহের মানদন্ড পূরণে অযোগ্য বিবেচিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ করে ভারতে তৈরি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেলে শিশু অসুস্থ হয়ে পড়বে। পরে ক্যাপসুলটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মনোনীত আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরিতে দুই দফা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলে ক্ষতিকর কোন উপাদান নেই। ওষুধ সরবরাহে অযোগ্য এই প্রতিষ্ঠানটিই শিশু মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আমাদের চট্টগ্রাম অফিস থেকে মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জানান, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়ে মৃত্যুর গুজবে চট্টগ্রামের অন্ততঃ ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শিশু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো থেকে বাদ পড়েছে। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্য কর্মীদের মারধর করেছে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ার পর আতংকিত অভিভাবকরা শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে ভিড় জমায়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় ভিটামিন কর্মসূচি ব্যাহত করতে কোন মহল পরিকল্পিতভাবে এই গুজব ছড়িয়েছে। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। হঠাত্ মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর চট্টগ্রাম মহানগরীসহ জেলার প্রত্যেক উপজেলায় অভিভাবকদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। যারা শিশুদের ক্যাপসুল খাইয়েছেন তারা তাদের সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। দলে দলে ছুটতে থাকে আশপাশের ক্লিনিক ও হাসপাতালে। নগরীর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মা ও শিশু হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভিড় দেখা যায়। নোয়াখালী প্রতিনিধি আলমগীর ইউসুফ জানান, জেলার কয়েক শ’ শিশু অসুস্থ হয়ে নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েছে এবং ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এক শ্রেণির লোক গুজব ছড়িয়েছে ভিটামিন ‘এ’ ও কৃমিনাশক ওষুধ খেয়ে অনেক শিশু মারা গেছে। তবে এ গুজবের কোন সত্যতা পাওয়া যায় নি। জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবদুর রশিদ মোল্লা জানিয়েছেন এক শ্রেণীর লোক জাতীয় পর্যায়ের সরকারের এ ক্যাম্পেইনকে ব্যর্থ করতে গুজব ছড়াচ্ছেন। মৃত্যুর খবর মিথ্যা। যে সব শিশু অসুস্থ বোধ করছে তারা সুস্থ হয়ে উঠবে। এদের মৃত্যুর কোন ঝুঁকি নেই। অনেক সময় খালি পেটে ও অত্যাধিক গরমে কৃমির ওষুধ খেলে শিশুদের এ ধরণের অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ার পর শিশু মৃত্যুর গুজবে গতকাল তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে কক্সবাজারে। গুজবে গতকাল দুপুর থেকে শত শত নারী তার শিশু সন্তানটি নিয়ে হাসপাতালে যায়। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু বিষয়ক কনসালটেন্ট ও কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. অরূপ দত্ত বাপ্পী জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ৫ শতাধিক শিশুকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তবে কারো মধ্যে কোন সমস্যা দেখা যায়নি। সাতকানিয়া সংবাদদাতা জানান,সকাল ৮টায় ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার পর পরই বাতাসের গতিতে পুরো সাতকানিয়া উপজেলার আনাচে-কানাচে গুজব ছড়িয়ে পড়ে এই ক্যাপসুল খেয়ে বাচ্চা মারা যাচ্ছে। তবে কেউ নির্দিষ্ট করে কোথায় বাচ্চা মারা গেছে বলতে পারে না। সবাই মোবাইলে আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে শুনেছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, এসব গুজব। এসব গুজবে কান না দেয়ায় উত্তম। উখিয়া সংবাদদাতা জানান, উপজেলার সর্বত্র লোকজনের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পরে অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি নেমে আসে। পটিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, পটিয়ায়ও শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেয়ে শিশু মৃত্যু ও অসুস্থ হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশুদের মা-বাবারা শিশুদের নিয়ে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে ভিড় করে। চাঁদপুরের কচুয়া সংবাদদাতা আবুল হোসেন জানান, উপজেলায় ৯০ ভাগ শিশুকে কৃমির ট্যাবলেট ও ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে কৃমির ট্যাবলেট খাওয়া অন্তত ১০- ১২ জন শিশুকে ভর্তি করানো হয়। আলীকদম (বান্দরবান) সংবাদদাতা জানান, বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় গতকাল জাতীয় ভিটামিন ক্যাম্পেইনে কৃমি নাশক বড়ি খেয়ে শিশুর মৃত্যু গুজব ছড়িয়ে পড়লে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এ গুজবের আতঙ্কে গতকাল সন্ধ্যায় পিতা-মাতারা সন্তান নিয়ে আসলে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রচণ্ড ভিড় জমে উঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি চিকিত্সা ক্যাম্প বসানো হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, গতকাল দুপুর থেকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে গুজবটি আমাকে জানানো হয়েছে। পিতা-মাতাদের সাথে কথা বলে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি আমরা। মিরসরাই সংবাদদাতা জানান, ট্যাবলেট খেয়ে শিশু অসুস্থের গুজব ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। অভিভাবকরা শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানো থেকে বিরত রাখে। এ সুযোগে কিছু অসাধু ডাক্তার বিভিন্ন অজুহাতে রোগী হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন। চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, অনেক স্থানে শিশু মারা গেছে গুজব ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকদের মাঝে আতংক বিরাজ করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা উপজেলার জগন্নাথদীঘি এলাকায় স্বাস্থ্য সহকারী হাসান জামিল চৌধুরী, পৌরসভার ফালগুনকরায় নুরুন নবী ও আলকরায় পিংকু চন্দ সূত্রধরকে নাজেহাল করে। সেনবাগ সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ভিটামিন এ ক্যা্পসুল ও কৃমি নাশক ট্যাবলেট খেয়ে অসংখ্য শিশু অসুস্থ ও মৃত্যু হয়েছে এমন গুজব মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সেনবাগ সরকারি হাসপাতালসহ উপজেলার বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে মা ও তাদের বাচ্চাদের নিয়ে অসংখ্য মানুষ ভিড় করে। এনিয়ে সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চরম হিমশিম খেতে হয়েছে। চাটখিল ও সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন দিবসে গতকাল নোয়াখালী জেলার চাটখিলে কৃমিনাশক ও ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খেয়ে শতাধিক শিশু অসুস্থ হয়েছে। এদের মধ্যে অর্ধশত শিশুকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিত্সা সেবা দেয়া হয়। শিশুরা অসুস্থ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন টিকাদান কেন্দে কর্তব্যরত চিকিত্সক, চিকিত্সা সহকারী ও স্বাস্থ্য সহকারীদের অবরুদ্ধ করে স্থানীয় জনতা বিক্ষোভ করে। পরে সাংবাদিক ও পুলিশের সহযোগিতায় তারা রক্ষা পান। বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, বান্দরবানে ৪৫টি কেন্দে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো বন্ধ রাখা হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মংতেঝ সাংবাদিকদের জানান, পৌর কর্তৃপক্ষ কেন ক্যাপসুল খাওয়ানো বন্ধ করেছে তা জানা নেই। তবে বান্দরবানে কোনো শিশু অসুস্থ হয়নি। লাকসাম সংবাদদাতা জানান, লাকসামে ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক খেয়ে শত শত শিশু বমি ও পেটের পিড়ায় আক্রান্ত হয়েছে। বিকালে লাকসাম সদর হাসপতালের সামনে রোগীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। আতঙ্কিত অভিভাবকরা হাসপাতাল ছাড়াও শিশুদের নিয়ে অন্যান্য চিকিত্সকদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন। কোম্পানীগঞ্জ ( নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক বড়ি খেয়ে শত শত শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অসুস্থ শিশুদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। রাঙ্গুনিয়া সংবাদদাতা জানান, গুজবে উপজেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চৌমুহনী সংবাদদাতা জানান, উপজেলার অনেকে বলাবলি করতে থাকে এ ক্যাপসুল সরকার ভারত থেকে নষ্ট ওষুধ এনেছে। এই নিয়ে দিনভর মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করে।