হরতালে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৩, ২২:২৩
বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সারাদেশে ঢিলেঢালা হরতাল পালিত হয়েছে। নয়াপল্টনে সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ ও অফিসে ঢুকে দলীয় নেতাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট এই হরতাল আহ্বান করে। হরতাল চলাকালে কয়েকটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে পিকেটারদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পাঁচ পুলিশসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হন। এছাড়া পুলিশ অভিযান চালিয়ে জোটের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। আটকদের মধ্যে ইসলামী ঐক্যজোট একাংশের সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদের নিজামী রয়েছেন। এদিকে হরতালের আগের রাতে সিলেটসহ কয়েকটি স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক যুবলীগ নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সিলেট অফিস জানায়, সকাল ৮টার দিকে পিকেটাররা জিন্দাবাজার ও নয়াসড়কে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। তবে পুলিশ ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলা ও মহানগর বিএনপির একটি মিছিল উপশহর থেকে কোর্ট পয়েন্টের দিকে আসতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে বন্দরবাজার হকার্স পয়েন্টে সমাবেশ করেন তারা। হরতালে সরকারি অফিস-আদালত খোলা থাকলেও লোকজনের উপস্থিতি ছিল কম। সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যথারীতি ট্রেন ছেড়ে গেলেও দূরপাল্ল¬ার কোন বাস চলেনি। হরতালে নগরবাসীর নিরাপত্তায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মাঠে ছিল। হরতালের আগে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার ওসমানীনগরে স্থানীয় যুবলীগ সহ-সভাপতি জাবেদ আম্বিয়াকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তাকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আম্বিয়া এ সময় ওসমানীনগর বাজার থেকে মটর সাইকেলে বাড়ি যাচ্ছিলেন। হঠাত্ করে একটি মাইক্রোবাসের ভিতর থেকে গুলি করা হয়। এ ঘটনায় জনতা ৪ জনকে আটক করেছে। জেলার পুলিশ সুপার শাখাওয়াত হোসেন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। এ ঘটনার জন্য যুবলীগ জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করেছে। তবে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, একটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৫০টি গাড়ি ভাঙচুর করে পিকেটাররা। এ সময় পুলিশের গুলি ও পিকেটারদের ইটপাটকেলের আঘাতে ৩ পুলিশসহ ৭ জন আহত হয়েছেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আটকাপড়া শতাধিক গাড়ি ইউএনওর নেতৃত্বে বিজিবির পাহারায় চট্টগ্রামে যাবার পথে পিকেটাররা অন্তত ৩৫টি গাড়ি ভাঙচুর করে। একই সময় ভাটিয়ারীর উত্তরবাজারে গাড়ি ভাঙচুর করার সময় পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে পিকেটাররা পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় সীতাকুণ্ড থানার এসআই সাইফুল্লাহ (৪০), দুই কনস্টেবল কালাম (৫০) ও শাহজাহান (২৫) ও উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সোলেমানসহ (৩৭) সাত জন আহত হন। পুলিশ পিকেটারদের ছত্রভঙ্গ করতে ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। ততক্ষণে পিকেটাররা ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করে। ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, হরতাল চলাকালে জেলায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সকালে পিকেটারের ইটের আঘাতে রঞ্জিত কুমার নামে এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছেন। তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া হরতালকারীরা পুরবী সিনেমা হলের সামনে একটি টেম্পুতে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় আরিফ, ইমরান, দীপক নামে ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। পিকেটার শহরের জিলাস্কুল এলাকায় ১টি অটোরিকশা ভাঙচুর ও ১টি অটোরিকশায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে অটোরিকশা চালক শাহজাহান (৩২) আহত হন। বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, জেলার কচুয়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের তিন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সকালে কচুয়া থানা পুলিশ উপজেলা সদর ও মঘিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। আটক শিবিরকর্মীরা হচ্ছে সোহেল রানা, এসএম আব্দুল্লাহ ও রাহাতুল ইসলাম। এদিকে গতকাল ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চিতলমারীর হিজলা ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বর মো. সেলিম উদ্দিনকে (৩৫) বোয়ালিয়া থেকে আটক করে। হরতালে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর আশংকায় তাকে আটক করা হয়। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সকাল ৮টার দিকে শহরের নিউ ঢাকা রোডস্থ চামড়াপট্টি, রেলগেট ও বাজার স্টেশন এলাকায় পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অন্তত ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে এক পুলিশ কন্সটেবলসহ বিএনপির ১০ নেতাকর্মী আহত হন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম খান জানান, বিভিন্ন গলি থেকে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা বের হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ কন্সটেবল বেলাল হোসেন চোখে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় তাকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ চক্ষু হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিত্সার জন্য পুলিশের এ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, দৌলতপুর উপজেলা বিএনপি কার্যালয় ভাংচুর করেছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সকালে হরতালের সমর্থনে বিএনপি ও অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সড়কে পিকেটিং করে। এ সময় তারা কয়েকটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ভাংচুর করে। এরপর বেলা ১২টার দিকে হরতালবিরোধী মিছিল শেষে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ে ভাংচুর চালায়। এ সময় তারা কার্যালয়ের সাইবোর্ড, চেয়ার-টেবিল ও দরজা- জানালা ভাংচুর করে। এ ঘটনায় জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সকালে শহরের বাজার এলাকায় দুইটি সিএনজি স্কুটার ভাংচুর করা হলেও হরতালে শহরের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক ছিল। মাওয়ায় ফেরি পারাপার সচল ছিল। তবে ঢাকা-মাওয়ায় এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দূরপাল্লার যান চলাচল করেনি। রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, শহরের কলেজ রোডে পিকেটাররা দুইটি ট্রাক ভাংচুর করে। এ সময় পুলিশ তিন পিকেটারকে গ্রেফতার করে। ঝিনাইদহ সংবাদদাতা জানান, ভোরে শৈলকুপা উপজেলার শেখপাড়ায় একটি ট্রাক ভাংচুর ও গাড়াগঞ্জ বাজারে দুইটি ট্রাকে আগুন দেয় পিকেটাররা। রাস্তায় গাছ ফেলে ব্যারিকেড দিয়ে ওই ট্রাক দুইটি থামিয়ে তাতে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এদিকে হরতাল চলাকালে রাস্তায় ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেসহ কর্মী-সমর্থক নিয়ে খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে জামায়াত-শিবির। সকাল-সন্ধ্যা হরতালের সমর্থনে শহরে লাঠি মিছিল ও পিকেটিং করে শিবির। জামালপুর প্রতিনিধি জানান, সরিষাবাড়ি উপজেলার বগারপাড় মোড়ে বিক্ষুব্ধ হরতালকারীরা একটি চলন্ত ট্রাকে (টাঙ্গাইল মেট্রো-ট-০০৬৩) হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এ সময় ট্রাকচালক কাবেল উদ্দিন (২৮) মারাত্মকভাবে আহত হন। আহত ট্রাকচালককে প্রথমে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করার পর তার অবস্থার অবনতি হলে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। ভালুকা সংবাদদাতা জানান, হরতালের আগে রাতে ভালুকায় হরতাল সমর্থকরা উপজেলার সিডস্টোর বাজার এলাকায় ঢাকাগামী একটি মাছভর্তি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই রাতে ভালুকা কোর্টভবন এলাকায় বেশ ক’টি গাড়ি ভাংচুর করে। এ ঘটনায় পুলিশ ভালুকা পৌর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম হোসেন বাপ্পীসহ ৭ জনকে আটক করে। পাবনা প্রতিনিধি জানান, শহরে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সকাল সাড়ে দশটার দিকে কয়েকজন পিকেটার শহরের রবিউল মার্কেটের তিন নম্বর গেটে তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় আশপাশের লোকজন ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, ঈশ্বরদীতে ২৫টি যানবাহন ভাংচুর ও ৪টি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা। সোমবার রাত ১০টার দিকে ঈশ্বরদীর সাহাপুর গোলচত্বর মোড় ও ঈশ্বরদী-কুষ্টিয়া মহাসড়কে গাড়ি ভাংচুর ও ট্রাকে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। পাট বোঝাই একটি ট্রাকে হরতাল সমর্থকরা আগুন দিলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বগুড়া প্রতিনিধি জানান, জেলার গণজাগরণ মঞ্চে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলার অন্যতম আসামি মালতিনগর হাইস্কুল মসজিদের ইমাম ও ইসলামী ঐক্যজোট একাংশের সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদের নিজামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরেই তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, পুলিশ বিএনপির জালালপুর ইউনিয়নের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ভূঞা শ্যামল ও উপজেলা যুবদল সহ- সভাপতি শিহাবুল ইসলাম শিহাবকে গ্রেফতার করেছে। গতকালই তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়। ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, সকালে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে হরতালে নাশকতার আশঙ্কায় বিএনপির ৩ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে সকাল থেকেই পিকেটাররা লাঠিসোঁটা নিয়ে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। ফলে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ছিল। শ্রীপুুর (মাগুরা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও কাজলী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট আমিরুল ইসলামকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুর ১টার দিকে তাকে কাজলী গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গনি বিশ্বাসের পুত্র । রংপুর প্রতিনিধি জানান, নগরীর পার্কের মোড়, মেডিক্যাল মোড়, আর, কে রোডসহ বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ১৪/১৫টি মোটর সাইকেল, অটোবাইকসহ অন্যান্য যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। পিকেটিংকালে কারমাইকেল কলেজ ছাত্রদলের সদস্য ইয়াছিন আরাফাতসহ আমিনুল ইসলাম, সৈকত মৃধা, নোবেন ইসলাম, রাকিবুল ও তৌহিদুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, হরতাল চলাকালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আবদুর রব ফারুকী ও লাকসাম নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি আমিনুল এহসানসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পুলিশ ৬ জামায়াত-শিবির কর্মীকে আটক করেছে। সকালে কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়কের বিজড়া বাজার এলাকায় গাছ কেটে রাস্তায় অবরোধ সৃষ্টি করে পিকেটাররা। পরে পুলিশ গিয়ে রাস্তা থেকে এগুলো অপসারণ করে। মুরাদনগর উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ সড়কের পাঁচপুকুরিয়া এলাকায় একটি বেইলি ব্রিজের পাটাতন খুলে ফেলে হরতালকারীরা। এ সময় তারা কয়েকটি গাছ কেটে সড়ক অবরোধ করলে আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিপুলাসার এলাকায় সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়ক অবরোধ করে শিবির কর্মীরা। মেলান্দহ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, হরতাল চলাকালে জামালপুরের মেলান্দহে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মেলান্দহ-হাজরাবাড়ি রাস্তায় টায়ার জালিয়ে অবরোধ করে পিকেটাররা। এতে এই সড়কে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় পুলিশ ও হরতালকারীদের মাঝে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, হরতালে পিকেটিংয়ের সময় ছাত্রলীগের হামলায় ২ ছাত্রদল নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়। গতকাল দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পূর্ব পাইকপাড়া এলাকায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম বিল্ল¬াহর নেতৃত্বে ২০/২৫ জন পিকেটারদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় সদর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক এমদাদুল আহমেদ সুমন (২৬) ও ছাত্রদলকর্মী কাজল মিয়াকে (১৯) স্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি ঘটলে ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলা ছাত্রদল তাত্ক্ষণিকভাবে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের কালাইশ্রীপাড়ার কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। বেশ কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ২ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় শহর জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন পথচারী আহত হন। রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে ৫/৬টি হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান জানান, বিভিন্ন স্থান থেকে ৮ বিএনপি কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, শহরের বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় ভোরে হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া খেয়ে একটি ট্রাক পাশের পুকুরে পড়ে যায়। এছাড়া বাস টার্মিনাল, মিয়ার রাস্তার মাথায় হরতাল সমর্থকরা সড়কে টায়ারে অগ্নিসংযোগ, গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। টঙ্গী সংবাদদাতা জানান, টঙ্গীতে শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনা গেছে। টঙ্গী হয়ে দূরপাল্ল¬ার কোন বাস চলাচল করেনি। মাঝে মধ্যে দুএকটি বাস চলাচল করতে দেখা গেলেও এগুলো ছিল প্রায় যাত্রীশূন্য। রাঙ্গুনিয়া সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক অবরোধ এবং গাড়ি ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে বিএনপির ডাকা হরতাল পালিত হয়েছে। হরতালকারীদের হামলায় চালকসহ ৫ জন অটোরিক্সা যাত্রী আহত হয়েছেন। সকালে গাছ কেটে চন্দ্রঘোনা ছুফিপাড়ার নিকটে সড়ক অবরোধ করা হয়। পিকেটাররা এখানে ২টি সিএনজি অটোরিক্সা ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ এসে অবরোধ তুলে নেয়। এছাড়া ঘাটচেক এলাকায় সকাল প্রায় ৯টার দিকে হরতাল সমর্থকরা ৫টি অটোরিক্সা ভাঙচুর করে। আহত অটোরিক্সা চালক শক্তিপদ দাশকে (৪০) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। রোয়াজারহাট, সৈয়দবাড়ি হরিনগেট ও হাশেমখাল এলাকায়ও হরতাল সমর্থকরা অতর্কিত হামলা করে একটি ট্রাক ও ৫টি অটোরিক্সা ভাঙচুর করে। সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, ভোর ৬টার দিকে শহরের অদূরে ছয়ঘরিয়া নামক স্থানে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামী ‘সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস’ নামে একটি বাস ভাংচুর করে হরতাল সমর্থকরা। এদিকে, শহরের নিউমার্কেট থেকে হরতালের পক্ষে ছাত্রদল একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশের বাধায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তালতলা ও ছয়ঘরিয়া এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করে জামায়াত সমর্থকরা। ধুনট (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, হরতালের পক্ষে ও বিপক্ষে মিছিল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হরতাল সমর্থকরা হুকুমআলী বাসস্ট্যান্ড ও হাসপাতাল রোড এলাকায় ৮টি শ্যালো চালিত ভটভটি ভাংচুর করেছে। দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, হরতাল চলাকালে পিকেটাররা বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে কাঠের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ জামায়াত কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে জেলায় ১৮ দলের ৬ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে বিএনপির ৪ জন ও শিবিরের ২ জন। গ্রেফতারকৃতরা হল- জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোশাররফ হোসেন বাবু, বিএনপি নেতা আনিছুর রহমান নাদিম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক খন্দকার জাহেদুন্নবী তিমু, ছাত্রদল কর্মী মাইদুল ইসলাম, শিবির কর্মী মামুনুর রশিদ সরকার ও মমিনুল ইসলাম। মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, জেলা সদরে যানবাহন ভাংচুরের ঘটনায় পুলিশ ৪ যুবককে গ্রেফতার করেছে। গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মাদারীপুর থানায় মামলা হয়েছে।